প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগে বদলে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস

0

 প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগে বদলে যাচ্ছে ফায়ার সার্ভিস


ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ফায়ার ফাইটার নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম-তদবিরের পুরনো ধারা এখন ভাঙতে শুরু করেছে। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ভিডিও রেকর্ডিং, একাধিক মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধির উপস্থিতি এবং প্রতিদিনের ফল প্রকাশের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তা সরকারি চাকরির নিয়োগ ব্যবস্থায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে।


নারায়ণগঞ্জের পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে গত ১১ জুন থেকে শুরু হওয়া শারীরিক যোগ্যতা যাচাই পরীক্ষায় প্রযুক্তির ব্যবহার এখন কেন্দ্রীয় ভূমিকায়। প্রবেশপত্র যাচাই থেকে শুরু করে ৪০০ মিটার দৌড়, পুশ-আপ, মেডিক্যাল পরীক্ষা—প্রতিটি ধাপ সিসি ক্যামেরা, ড্রোন ও ভিডিওতে ধারণ করা হচ্ছে। দৌড়ের পুরো সময় রেকর্ড করা হয়, যাতে কোনো প্রার্থী নির্ধারিত ১ মিনিট ১০ সেকেন্ডের মধ্যে দৌড় শেষ করতে না পারলে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার সুযোগ না থাকে। অযোগ্য প্রার্থীদের আঙুলে অমোচনীয় কালি দিয়ে চিহ্নিত করে নির্দিষ্ট পথে মাঠের বাইরে পাঠানো হয়, যাতে পুনরায় অংশগ্রহণের কোনো সুযোগ না থাকে।


শুধু প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারিই নয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও সরকারি কর্ম কমিশনের প্রতিনিধিরা মাঠে উপস্থিত থাকছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের পর্যবেক্ষণ কমিটি প্রতিদিন পুরো কার্যক্রম তদারকি করছে। নিয়োগ কমিটির সভাপতি মো. শহীদ আতাহার হোসেন সার্বক্ষণিক মাঠে অবস্থান করছেন, আর মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামাল নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকে সিসিটিভির মাধ্যমে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন। কাগুজে তদারকির বদলে বাস্তব উপস্থিতি ও তাৎক্ষণিক নজরদারিকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


প্রতিদিনের শারীরিক পরীক্ষা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই লিখিত পরীক্ষার জন্য নির্বাচিতদের তালিকা ফায়ার সার্ভিসের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও ফেসবুক পেজে প্রকাশ করা হচ্ছে। এতে অযোগ্য প্রার্থীদের তদবিরের সুযোগ বন্ধ হচ্ছে এবং প্রক্রিয়ার প্রতি চাকরিপ্রার্থীদের আস্থা বাড়ছে। পাশাপাশি, উত্তীর্ণ প্রার্থীদের উদ্দেশে দালাল ও প্রতারকদের প্রলোভন এড়াতে সতর্কতামূলক ব্রিফিং দেওয়া হচ্ছে। মাঠের ভেতর-বাইরে দালালবিরোধী ব্যানার টাঙানো হয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার রাখা হয়েছে।


বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি চাকরিতে নিয়োগ যত বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও স্বচ্ছ হবে, ততই অনিয়ম, তদবির ও দালালচক্রের প্রভাব কমবে। সিসি ক্যামেরা, ড্রোন, ভিডিও সংরক্ষণ এবং একাধিক মন্ত্রণালয়ের উপস্থিতি শুধু বর্তমান প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখছে না, ভবিষ্যতে কোনো অভিযোগ উঠলে তা যাচাইয়েরও সুযোগ তৈরি করছে। এ ধরনের ব্যবস্থা জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখে।


লিখিত পরীক্ষা জুলাইয়ে এবং পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া আগস্টে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের এই প্রযুক্তিনির্ভর নিয়োগ মডেল যদি সফল হয়, তবে অন্যান্য সরকারি প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের স্বচ্ছতা আনতে উৎসাহিত হতে পারে। অনিয়মের পথ বন্ধ করে মেধা ও যোগ্যতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এই উদ্যোগ সরকারি চাকরির ভাবমূর্তি পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo