মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের চীন সফর — বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কূটনীতিতে নতুন মাইলফলক 🇧🇩🇨🇳

 মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের চীন সফর — বাংলাদেশের উন্নয়ন ও কূটনীতিতে নতুন মাইলফলক 🇧🇩🇨🇳


২৬ জুন ২০২৬, বাংলাদেশের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব *তারেক রহমান* চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে সরকারি সফরে চীনা প্রেসিডেন্ট *শি জিনপিং*-এর সাথে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন। এই সফর বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি দেশের অবকাঠামো, অর্থনীতি ও জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের অগ্রগতি ঘটাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


সফরের গুরুত্বপূর্ণ অর্জনসমূহ:


তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প: উত্তরবঙ্গের কৃষি ও জনজীবনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তিস্তা নদীর পানি ব্যবস্থাপনায় চীনের সাথে সহযোগিতা জোরদার করার বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। এটি দীর্ঘদিনের একটি জটিল সমস্যার সমাধানের পথ খুলে দিতে পারে।


অবকাঠামো ও বাণিজ্য সম্প্রসারণ: বাংলাদেশ চীনকে তার অবকাঠামো উন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধির প্রধান অংশীদার হিসেবে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণ করে বাংলাদেশে “গ্রেট এশিয়ান ইকোনমিক মিরাকল” ঘটানোর আহ্বান জানিয়েছেন।


মিডিয়া সহযোগিতা: দু’দেশের মধ্যে মিডিয়া খাতে চারটি সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তথ্য ও সাংস্কৃতিক বিনিময়কে আরও সহজ করবে।


আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট: চীন একই সাথে ক্যাম্বোডিয়ার সিনেট প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের সাথে আঞ্চলিক সহযোগিতার বার্তা দিয়েছে।


এই সফর শুধু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নয়, বরং বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জলসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে দেশ এখন উন্নয়নের নতুন ধারায় এগিয়ে চলছে। জনগণের কল্যাণ, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এ ধরনের কূটনৈতিক উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়।


বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সাথে হাত মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। আসুন আমরা সবাই এই ইতিবাচক যাত্রায় প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকি।


বাংলাদেশ চিরজয়ী হোক!

ইনশাআল্লাহ আমরা আরও এগিয়ে যাবো।


#তারেকরহমান #চীনসফর #তিস্তাপ্রকল্প #বাংলাদেশচীনসম্পর্ক #উন্নয়নেরনতুনযুগ #গ্রেটএশিয়ানইকোনমিকমিরাকল #নতুনবাংলাদেশ

কালেমার পতাকা: শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, জাতীয় সংহতির প্রশ্নও ভাবুন

 কালেমার পতাকা: শুধু ধর্মীয় আবেগ নয়, জাতীয় সংহতির প্রশ্নও ভাবুন

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় — মহাসড়ক, ফ্লাইওভার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পাবলিক স্থানে — সাদা-কালো পতাকায় কালেমা তাইয়্যিবা দেখা যাচ্ছে। এই দৃশ্য অনেক মুসলিমের কাছে ঈমানের সুন্দর প্রকাশ। কিন্তু একই সঙ্গে এটি দেশের সামাজিক সংহতি, আইনশৃঙ্খলা ও জাতীয় ঐক্য নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। আসুন, কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে যুক্তি, বাস্তবতা ও দেশের স্বার্থের আলোকে বিষয়টি বিবেচনা করি-

কালেমার ধর্মীয় মর্যাদা ও ঐতিহ্য

কালেমা তাইয়্যিবা (“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”) ইসলামের প্রথম ও সর্বশ্রেষ্ঠ স্তম্ভ। নবীজি (সা.)-এর যুগ থেকে কালো ও সাদা পতাকা ইসলামী ইতিহাসে ব্যবহৃত হয়েছে — কালো “রায়া” যুদ্ধের সময় এবং সাদা “লিওয়া” অন্যান্য কাজে। এটি মুসলিম উম্মাহর সার্বজনীন প্রতীক, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দেশের নয়।

খুবই গুরুত্বপূর্ণ কথা: কালেমা লেখা পতাকা দেখলেই তাকে আইএসআইএস, আল-কায়েদা, হামাস বা অন্য কোনো জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত করা সম্পূর্ণ অন্যায় ও অযৌক্তিক। এই পতাকার শিকড় উগ্রবাদের অনেক আগের। অনেক সাধারণ মুসলিম পরিবার, মসজিদ ও ব্যক্তি এটিকে শুধুমাত্র আল্লাহর প্রতি ভালোবাসা ও ঈমানের প্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করেন। এমন সরলীকরণ ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে এবং সাধারণ মুসলিমদেরও ক্ষতি করে।

বাস্তবতা: আবেগের পাশাপাশি দায়িত্বশীলতা

বাংলাদেশ বর্তমানে নানামুখী চ্যালেঞ্জ ও চক্রান্তের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। দেশের অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত শত্রুরা সক্রিয় রয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন। এমন সংবেদনশীল সময়ে যেকোনো কর্মকাণ্ডের ফলাফল শুধু ব্যক্তিগত আবেগ দিয়ে বিচার করলে চলবে না। জাতীয় স্বার্থ, স্থিতিশীলতা ও সকল নাগরিকের অনুভূতিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

১. সামাজিক বিভেদ ও অস্বস্তি: পাবলিক স্থানে ব্যাপকভাবে একই ধরনের পতাকা উড়লে অনেকে (বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও সেক্যুলার নাগরিক) এটিকে রাজনৈতিক বার্তা বা একচ্ছত্রতার প্রকাশ হিসেবে দেখেন। ফলে দেশজুড়ে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা, সন্দেহ ও বিভেদ তৈরি হয়, যা জাতীয় ঐক্যকে দুর্বল করে।

২. জাতীয় পতাকা ও সার্বভৌমত্ব: আমাদের লাল-সবুজ পতাকা হাজার বছরের সংগ্রাম, স্বাধীনতা ও সকলের ঐক্যের প্রতীক। জাতীয় পতাকার পাশাপাশি অন্য পতাকার ব্যাপক প্রদর্শন জাতীয় পরিচয়কে ছাপিয়ে যেতে পারে। আইন অনুসারে জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট মর্যাদা ও নিয়ম রয়েছে, যা সবার জন্য সম্মানের বিষয়।

৩. চক্রান্তের সুযোগ: যারা দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করে, তারা এ ধরনের আবেগীয় ঘটনাকে ব্যবহার করে সমাজে বিভেদ ছড়াতে পারে। একটি সাধারণ ধর্মীয় প্রকাশকে উস্কানি বা অস্থিরতার কারণ হিসেবে চিত্রিত করে দেশকে অস্থিতিশীল করার সুযোগ তৈরি হয়। তাই আবেগের আগে দেশের স্থিতিশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।

৪. ধর্মের সৌন্দর্য অন্যত্র: ইসলাম শান্তি, সহনশীলতা, ন্যায়বিচার ও সমাজকল্যাণ শেখায়। পতাকা লাগানোর চেয়ে কালেমার শিক্ষা বাস্তব জীবনে অনুসরণ করা — নামাজ কায়েম, সৎকর্ম, দুর্নীতি পরিহার, মানুষের সেবা ও দাওয়াত — অনেক বেশি ফলপ্রসূ। ধর্মকে ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত ইবাদতের মাধ্যমে আরও গভীরভাবে লালন করলে সমাজে তার প্রভাব অনেক বেশি পড়বে।

আবেগ ও দায়িত্বের ভারসাম্য-

কালেমার প্রতি ভালোবাসা প্রত্যেক মুসলিমের ঈমানের অংশ। কিন্তু এই ভালোবাসাকে এমনভাবে প্রকাশ করতে হবে যাতে দেশের স্থিতিশীলতা, সকল নাগরিকের নিরাপত্তা ও জাতীয় ঐক্য ক্ষুণ্ন না হয়।

আসুন, আমরা ধর্মীয় আবেগকে ঘরে, মসজিদে ও ব্যক্তিগত জীবনে আরও শক্তিশালী করি। পাবলিক স্থানে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা ছড়াই। বাংলাদেশ শুধু একটি ধর্মের নয়, সকল ধর্ম ও সম্প্রদায়ের দেশ। এই ভারসাম্য রক্ষা করেই আমরা একটি শক্তিশালী, সমৃদ্ধ ও স্থিতিশীল বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

আবেগ আছে, কিন্তু দায়িত্ব আরও বেশি আছে। দেশকে সবার আগে ভাবুন।

(এই লেখাটি কোনো রাজনৈতিক দল, গোষ্ঠী বা ধর্মীয় সংগঠনের বিরুদ্ধে নয়। শুধু জাতীয় সচেতনতা ও সামাজিক সংহতির উদ্দেশ্যে লেখা।)

কালেমার পতাকা: শুধু ধর্মীয় আবেগ নয় জাতীয় সংহতির প্রশ্নও ভাবুন-

 কালেমার পতাকা: শুধু ধর্মীয় আবেগ নয় জাতীয় সংহতির প্রশ্নও ভাবুন-

সম্প্রতি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে সাদা-কালো পতাকায় কালেমা তাইয়্যিবা লেখা দেখা যাচ্ছে। এটি অনেক মুসলিমের কাছে ঈমানের প্রকাশ হিসেবে গভীর আবেগের বিষয়। একই সঙ্গে এ নিয়ে সমাজে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। এই আলোচনায় আমরা কোনো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না করে, যুক্তি ও বাস্তবতার আলোকে বিষয়টি দেখার চেষ্টা করব।

কালেমার ধর্মীয় গুরুত্ব

কালেমা তাইয়্যিবা (“লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ”) ইসলামের মূল স্তম্ভ। ইসলামী ইতিহাসে নবীজি (সা.)-এর যুগে কালো ও সাদা পতাকা ব্যবহৃত হয়েছে — কালো “রায়া” ও সাদা “লিওয়া”। এটি মুসলিম উম্মাহর সার্বজনীন প্রতীক, কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী বা দেশের নয়। অনেক মুসলিম দেশ ও সেনাবাহিনীতেও কালেমা সম্বলিত প্রতীক দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ কথা: কালেমা লেখা পতাকা দেখলেই তা আইএসআইএস, হামাস বা আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত করা ঠিক নয়। এই পতাকার ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় শিকড় অনেক পুরনো, যা উগ্রবাদের আগে থেকেই বিদ্যমান। অনেক সাধারণ মুসলিম এটিকে শুধু ঈমানের প্রকাশ হিসেবে ব্যবহার করেন। এই ধরনের সরলীকরণ ধর্মীয় অনুভূতিকে আঘাত করে এবং অযথা বিভেদ সৃষ্টি করে।

কেন সতর্কতা প্রয়োজন?

তবে যুক্তির দিক থেকে কয়েকটি বিষয় বিবেচনা করা দরকার:

১. সমাজে বিভেদ ও ভুল বোঝাবুঝি: বাংলাদেশ একটি বৈচিত্র্যময় দেশ। এখানে বিভিন্ন ধর্ম ও মতের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে বাস করেন। পাবলিক স্থানে (মহাসড়ক, ফ্লাইওভার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইত্যাদি) ব্যাপকভাবে এক ধরনের পতাকা উড়লে অনেকে এটিকে রাজনৈতিক বার্তা বা একচ্ছত্রতার প্রকাশ হিসেবে দেখতে পারেন। ফলে অপ্রয়োজনীয় উত্তেজনা তৈরি হয়, যা সামাজিক সংহতির জন্য ক্ষতিকর।

২. ঐতিহাসিক ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: কালো-সাদা ডিজাইনটি কিছু উগ্রবাদী গোষ্ঠীও ব্যবহার করেছে বলে অনেকের মনে ভয় ও সন্দেহ জাগে। এটি সাধারণ মুসলিমদের জন্যও সমস্যা তৈরি করে, কারণ তাদের সাধারণ ধর্মীয় প্রকাশকে ভুলভাবে জঙ্গিবাদের সঙ্গে যুক্ত করা হয়।

৩. জাতীয় পতাকার মর্যাদা: বাংলাদেশের লাল-সবুজ পতাকা আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও ঐক্যের প্রতীক। পাবলিক স্থানে অন্য পতাকার ব্যাপক প্রদর্শন জাতীয় ঐক্যের বার্তাকে ছাপিয়ে যেতে পারে। আইন অনুসারে জাতীয় পতাকার নির্দিষ্ট নিয়মাবলী রয়েছে, যা সবার জন্য সম্মানের বিষয়।

৪. ধর্মের সৌন্দর্য ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত অনুশীলনে: ইসলামে ঈমানের প্রকাশ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আচরণ, নামাজ, সৎকর্ম ও দাওয়াতের মাধ্যমে। পতাকা লাগানোর চেয়ে মসজিদে, ঘরে, ব্যক্তিগত জীবনে কালেমার শিক্ষা অনুসরণ করা অনেক বেশি ফলপ্রসূ। ব্যাপক প্রদর্শনের পরিবর্তে গভীর অনুশীলনই ধর্মকে শক্তিশালী করে।

উপসংহার: সম্মান ও সংহতির পথ

কালেমা আমাদের সকলের পবিত্র বিশ্বাস। এর মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক মুসলিমের দায়িত্ব। একই সঙ্গে আমাদের দেশের বাস্তবতা, আইনশৃঙ্খলা ও সকল নাগরিকের অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রাখাও জরুরি।

আসুন, আমরা ধর্মীয় আবেগকে ব্যক্তিগত ও সম্মিলিত ইবাদতের মাধ্যমে প্রকাশ করি, যাতে কোনো বিভেদ না হয়। পাবলিক স্থানে জাতীয় পতাকার পাশাপাশি শান্তি ও ঐক্যের বার্তা প্রচার করি। বাংলাদেশ একটি মুসলিম-প্রধান দেশ, আবার সকলের দেশও। এই ভারসাম্য রক্ষা করেই আমরা এগোতে পারি।

ধর্ম আমাদের শান্তি শেখায়। যুক্তি আমাদের একসঙ্গে বাঁচতে শেখায়। চলুন, দুটোকেই সম্মান করি।

চীনের পথে বাংলাদেশ: কূটনীতি, বিনিয়োগ ও নতুন দিগন্ত ২০২৬

চীনের পথে বাংলাদেশ: কূটনীতি, বিনিয়োগ ও নতুন দিগন্ত

২০২৬ সালের জুন।
চীনের রাজধানী বেইজিং।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে শুরু হলো এক নতুন অধ্যায়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর ছিল শুধু একটি রাষ্ট্রীয় সফর নয়; এটি ছিল অর্থনীতি, কূটনীতি এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রচেষ্টা।

সফরের অন্যতম আকর্ষণ ছিল "ইনভেস্ট বাংলাদেশ" ফোরাম।

চীনের প্রায় ৮০টি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের সামনে বাংলাদেশকে তুলে ধরা হয় দক্ষিণ এশিয়ার সম্ভাবনাময় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে। সরকার ঘোষণা করে ১৮০ দিনের বিশেষ অর্থনৈতিক সংস্কার পরিকল্পনা, মাত্র ১৫ দিনের মধ্যে বিনিয়োগ লাইসেন্স প্রদান, আনোয়ারা ও মোংলায় অর্থনৈতিক অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং চীনে বাংলাদেশের প্রথম ইনভেস্টমেন্ট অফিস স্থাপনের উদ্যোগ।

বাংলাদেশের লক্ষ্য স্পষ্ট—বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ, শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি।

তবে এই সফরের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল তিস্তা মহাপরিকল্পনা।

চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা, নদী খনন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, সেচ, নৌপথ উন্নয়ন এবং গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ। বহুদিনের আলোচিত তিস্তা ইস্যু আবারও আন্তর্জাতিক গুরুত্ব পায়।

রাজনৈতিক দিক থেকেও সফরটি ছিল তাৎপর্যপূর্ণ।

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল—বিএনপি এবং চীনের কমিউনিস্ট পার্টির মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। দুই পক্ষই ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর অঙ্গীকার করে।

এরপর অনুষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ও চীনের প্রধানমন্ত্রীদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক।

সেখানে মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কারিগরি শিক্ষা, ভূতাত্ত্বিক জরিপ এবং যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে স্বাক্ষরিত হয় ২টি চুক্তি এবং ১৩টি সমঝোতা স্মারক। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং গণমাধ্যম সহযোগিতাও এই সমঝোতার অংশ ছিল।

এই সফর আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ককে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন মাইলফলক হিসেবে তুলে ধরে। অন্যদিকে দেশীয় গণমাধ্যম গুরুত্ব দেয় বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক সংস্কার এবং তিস্তা সহযোগিতাকে। আর ভারতীয় গণমাধ্যম বিশেষভাবে নজর দেয় তিস্তা প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা এবং এর সম্ভাব্য ভূরাজনৈতিক প্রভাবের দিকে।

বাংলাদেশ এমন এক সময় এই কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল, যখন বৈশ্বিক রাজনীতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।

অর্থনীতি, অবকাঠামো, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার নতুন সমীকরণে নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এগোচ্ছে ঢাকা।

এই সফর ভবিষ্যতে কতটা বাস্তব সাফল্য বয়ে আনবে, তা নির্ভর করবে স্বাক্ষরিত চুক্তিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর।

তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—

বেইজিং সফর শুধু কয়েকটি চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক কূটনীতি, বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতির নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ৬ মাসে ৭ শতাধিক বেসামরিক নাগরিক হত্যা করেছে

 মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ৬ মাসে ৭ শতাধিক বেসামরিক নাগরিক হত্যা করেছে

মিয়ানমারে গত বছর নির্বাচনকালে ছয় মাসে সাত শতাধিক বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনার দায় দেশটির সামরিক বাহিনীর বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গতকাল সোমবার সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত বছরের আগস্টে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেওয়ার পর থেকে চলতি বছরের জানুয়ারির শেষ দিকে ভোট গ্রহণ পর্ব শেষ হওয়া পর্যন্ত অন্তত ৭০২ বেসামরিক নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে। এসব ঘটনা নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে জাতিসংঘ যাচাই করে দেখেছে।

নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ২২৪ জন নারী ও ১৫৩টি শিশু। প্রতিবেদনে বিমান হামলাকে ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক দুর্ভোগের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ‘যুদ্ধবিমান, ড্রোন, প্যারামোটর ও জাইরোকপ্টার ব্যবহার করে চালানো হামলায় অন্তত ৫০৫ বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহত সংখ্যার ৫৭ শতাংশ। নিহত এসব ব্যক্তির মধ্যে ১৭৫ জন নারী ও ১১২টি শিশু।’

বেসামরিক এই মানুষদের মৃত্যুর জন্য কে দায়ী—এমন প্রশ্নের জবাবে জাতিসংঘ মানবাধিকার দপ্তরের মুখপাত্র রাভিনা শামদাসানি এএফপিকে বলেন, ‘এ ৭০২ জন নিহত হওয়ার ঘটনার দায় মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর।’

তবে মুখপাত্র জোর দিয়ে বলেন, এর অর্থ এই নয় যে অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর হামলায় কোনো বেসামরিক মানুষ হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এ প্রতিবেদন শুধু জাতিসংঘের হাতে থাকা নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে। এটা মোট হতাহতের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়।

২০২১ সালে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চি সরকারকে হটিয়ে মিয়ানমারের ক্ষমতা দখল করে দেশটির সামরিক বাহিনী। তার পর থেকে সেখানে গৃহযুদ্ধ চলছে।

অভ্যুত্থানের পর টানা পাঁচ বছর মিয়ানমার সরাসরি সামরিক শাসনের অধীনে ছিল। এরপর জান্তা সরকার কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে এ বছর নির্বাচন আয়োজন করে। জানুয়ারির ওই নির্বাচনে জান্তা বাহিনীর মিত্ররা কার্যত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ী হয়।



© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team