বান্দরবানের রেতলাং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলমান

 বান্দরবানের রেতলাং এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযান চলমান

বান্দরবান রিজিয়নের আওতাধীন দুর্গম রেতলাং এলাকায় গত ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে নিরাপত্তা বাহিনীর একটি আভিযানিক দল কুকি-চিন ন্যাশনাল আর্মি (কেএনএ) ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-মূল) এর একটি যৌথ গোপন আস্তানায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা আস্তানা থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। বর্তমানে আশপাশের এলাকায় অভিযান চলমান রয়েছে।
আভিযানিক নিরাপত্তার স্বার্থে এ মুহূর্তে অধিকতর তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না। অভিযান সমাপ্তি সাপেক্ষে যথাসময়ে বিস্তারিত জানানো হবে।
সকলকে এ বিষয়ে বিভ্রান্তিকর ও অপপ্রচারমূলক তথ্য পরিহারের অনুরোধ জানানো যাচ্ছে।

প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শামসুল ইসলামের পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা: আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি

 প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা শামসুল ইসলামের পরিবারের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা: আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি


প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম তাঁর এবং পরিবারের বিরুদ্ধে চলমান মিথ্যা প্রচারণা, অশ্লীল ডিপফেক ছবি ও মানহানিকর অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।


একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে উপদেষ্টা লিখেন, “আমার দৃষ্টিতে এসেছে যে, কিছু স্বার্থান্বেষী ও দেশবিরোধী গোষ্ঠী আমার এবং আমার পরিবারের বিরুদ্ধে একটি ইচ্ছাকৃত, সমন্বিত ও নোংরা অপপ্রচার অভিযান চালাচ্ছে। মিথ্যা তথ্য, অশ্লীল ডিপফেক ছবি, মানহানিকর গুজব ও অপপ্রচারের মাধ্যমে তারা আমাদের চরিত্র হননের চেষ্টা করছে।”


তিনি আরও বলেন, “এসব দুরভিসন্ধিমূলক প্রচেষ্টা আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও ডকুমেন্ট করছি। যারা এই মিথ্যা ও মানহানিকর কনটেন্ট তৈরি, প্রচার বা প্রমোট করছে — প্রত্যেক ব্যক্তি ও গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। সাইবার ক্রাইম আইন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও মানহানির আওতায় দায়ীদের পূর্ণ জবাবদিহি করা হবে। কেউই আইনের উর্ধ্বে নয়।”


উপদেষ্টা বলেন, এই অপপ্রচার মূলত তাঁর সামরিক বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্বচ্ছতা ও বঞ্চিত সদস্যদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার কাজের বিরুদ্ধে। যারা এসব ইতিবাচক উদ্যোগ সহ্য করতে পারছে না, তারাই এই নোংরা পথ বেছে নিয়েছে।


উপদেষ্টার এই দৃঢ় অবস্থানকে স্বাগত জানিয়ে দেশপ্রেমিক মহল অপপ্রচারের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অনেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই অশ্লীল কনটেন্ট রিপোর্ট করার আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন।


প্রসঙ্গত, সম্প্রতি উপদেষ্টার পরিবারের বিরুদ্ধে অশ্লীল ও মরফড ছবি ছড়িয়ে একটি গোষ্ঠী অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। উপদেষ্টা স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, এসব অপতৎপরতা কোনোভাবেই তাঁর দায়িত্ব পালনে বাধা সৃষ্টি করতে পারবে না।


জনগণের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, এ ধরনের মিথ্যা ও অশ্লীল কনটেন্ট দেখলে অবিলম্বে রিপোর্ট করতে এবং অপপ্রচারে অংশ না নিতে।


**#প্রতিরক্ষা_উপদেষ্টা #অপপ্রচার_প্রতিরোধ #আইনি_ব্যবস্থা


পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের প্রতিকার দিল সরকার

 পূর্ববর্তী সরকারের আমলে বঞ্চিত সশস্ত্র বাহিনীর অফিসারদের প্রতিকার দিল সরকার

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ শাসনামলে সশস্ত্র বাহিনীর অনেক অফিসার বিভিন্নভাবে বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছিলেন। এর মধ্যে ২০০৯ সালের পিলখানা (বিডিআর) বিদ্রোহ-পরবর্তী তদন্ত ও অন্যান্য মামলায় অনেককে বাধ্যতামূলক অবসর, বরখাস্ত বা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ের পর এখন অন্তর্বর্তী সরকার তাঁদের কিছু অফিসারকে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দিয়ে প্রতিকারের উদ্যোগ নিয়েছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন ও বিমান বাহিনীর ১৪ জন—মোট ১৫০ জন অফিসারকে এই সুবিধা দেওয়া হয়েছে। সরকার ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন গঠিত কমিটি আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

উদাহরণ হিসেবে, বিএ-১৩০৮ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আনিসুল করিম ২০০৯ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিলেন। নতুন প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদের বেতন-ভাতা ও সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিএ-১৫৫৫ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইবনে জামালী ২০১০ সালে অকালীন অবসর নেন। এখন তাঁকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদের পূর্ণ বকেয়া সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।

আরও উল্লেখযোগ্য বিএ-২১৭১ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। তাঁকে মেজর জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়ার পাশাপাশি বিশেষ আর্থিক সুবিধা হিসেবে ১ কোটি টাকা এবং অন্য প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগ দেওয়া হয়েছে।

এই প্রজ্ঞাপনকে ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকার ইতিমধ্যে জানিয়েছে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে যাঁরা বঞ্চিত হয়েছেন, তাঁদের আবেদন পর্যালোচনা করে যথাযথ প্রতিকার দেওয়া হবে। প্রজ্ঞাপনে প্রত্যেক অফিসারের পূর্বের অবসরের ধরন, নতুন অবসরের তারিখ এবং প্রাপ্য সুবিধার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।

এই পদক্ষেপ সামরিক বাহিনীর ভেতরে দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কিছুটা হলেও দূর করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

বঞ্চিত সামরিক অফিসারদের ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে দিতে প্রথম থেকেই বদ্ধপরিকর সরকার

বঞ্চিত সামরিক অফিসারদের ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে দিতে প্রথম থেকেই বদ্ধপরিকর সরকার

২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর যেসব অফিসার বঞ্চনা, অবিচার ও প্রতিক্রিয়ার শিকার হয়েছিলেন, তাঁদের ন্যায়বিচার ও ন্যায্যতা ফিরিয়ে দিতে বর্তমান সরকার প্রথম থেকেই বদ্ধপরিকর। তারই বাস্তবায়ন হিসেবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন ও বিমান বাহিনীর ১৪ জন—মোট ১৫০ জন অফিসারকে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বিধি মোতাবেক বকেয়া বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি নির্দেশনা ও আন্তরিকতা এবং প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলামের সক্রিয় সহযোগিতায় গঠিত কমিটি আবেদন পর্যালোচনা করে সুপারিশ করার পর এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কমিটির সুপারিশ অনুসারে অনেক অফিসারের ক্ষেত্রে পূর্বের বাধ্যতামূলক বা অকালীন অবসর পরিবর্তন করে বয়সসীমা অনুযায়ী স্বাভাবিক অবসর দেওয়া হয়েছে। কয়েকজনকে উচ্চ পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতিও দেওয়া হয়েছে।

উদাহরণস্বরূপ, লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আনিসুল করিম ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইবনে জামালীসহ বেশ কয়েকজন সিনিয়র অফিসার তাঁদের প্রাপ্য পদ ও সুবিধা ফিরে পাচ্ছেন। কিছু ক্ষেত্রে বিশেষ আর্থিক সুবিধাও দেওয়া হয়েছে।

এই প্রজ্ঞাপনকে সরকারের ঘোষিত অঙ্গীকারের একটি বাস্তব পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলামের আন্তরিক উদ্যোগের ফলে বঞ্চিত অফিসাররা তাঁদের প্রাপ্য ন্যায়বিচার ও মর্যাদা ফিরে পাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট BG-148 থেকে ১৮.৭২০ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানে বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইট BG-148 থেকে ১৮.৭২০ কেজি স্বর্ণের বার উদ্ধার

প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট BG-148-এর কার্গো কম্পার্টমেন্ট থেকে ১৮.৭২০ কেজি ওজনের ১৬০টি স্বর্ণের বার উদ্ধার করা হয়েছে। ফ্লাইটটি দুবাই-চট্টগ্রাম-ঢাকা রুটে চলাচল করছিল।

ঘটনার বিবরণ:

  • ২ জুলাই সকাল আনুমানিক ৯:২০ মিনিটে ডিজিএফআইয়ের কাছে স্বর্ণ চোরাচালানের তথ্য আসে।
  • বিমানটি অবতরণের পরপরই এভিয়েশন সিকিউরিটি (এভসেক), কাস্টমস, বিমানের সিকিউরিটি বিভাগ এবং ডিজিএফআইয়ের যৌথ অভিযান চালানো হয়।
  • প্রাথমিক তল্লাশিতে প্রায় ১৫ কেজি স্বর্ণ পাওয়া যায়। পরবর্তী বিস্তারিত অনুসন্ধানে কার্গো কম্পার্টমেন্টের অভ্যন্তরীণ প্যানেলের ভিতর থেকে কালো টেপে মোড়ানো অবস্থায় বাকি স্বর্ণের বারগুলো উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত স্বর্ণ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ চলছে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চোরাচালান প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত রাখা হবে।

এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে। এটি বিমানবন্দরে স্বর্ণ চোরাচালানের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক যৌথ অভিযানের একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।


© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team