তারেক রহমানের চীন সফর: ভারতীয় মিডিয়ার ‘দাদাগিরি’ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা

0

তারেক রহমানের চীন সফর: ভারতীয় মিডিয়ার ‘দাদাগিরি’ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বড় বিদেশ সফর মালয়েশিয়ার পর চীনে সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতীয় মিডিয়ায় যে নেতিবাচক ও উদ্বেগজনক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে, তা স্পষ্টভাবে প্রতিবেশী দেশের ‘বড় ভাই সুলভ’ মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। “বাইপাসিং ইন্ডিয়া”, “সিলিগুড়ি করিডরে ঝুঁকি”, “জে-১০সিই জেট ডিল” ইত্যাদি শিরোনামে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো (হিন্দুস্তান টাইমস, টাইমস অব ইন্ডিয়া, দ্য প্রিন্ট, এনডিটিভি ইত্যাদি) যেভাবে এই সফরকে উপস্থাপন করেছে, তা বাংলাদেশের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি ও ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ অবস্থানকে মেনে নিতে না পারারই প্রমাণ।

ভারতীয় মিডিয়ার দাবি অনুসারে, নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর ভারতে না হয়ে মালয়েশিয়া ও চীনে হওয়ায় নাকি ঐতিহ্য ভঙ্গ হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এই ‘ঐতিহ্য’ আসলে কার জন্য? বাংলাদেশ কি কোনো দেশের ‘প্রভাব বলয়ে’ আবদ্ধ? স্বাধীনভাবে নিজের অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন স্বার্থ অনুসারে সফরের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার বাংলাদেশের নেই বলে ভারতীয় মিডিয়া মনে করে কেন? চীনের গ্লোবাল টাইমস সঠিকভাবেই এই মানসিকতাকে ‘বড় ভাই সুলভ’ (big brother mentality) বলে আখ্যায়িত করেছে।

তিস্তা প্রকল্প নিয়ে অযথা উদ্বেগ: ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্পে চীনের সম্ভাব্য সহায়তাকে “ভারতের নিরাপত্তার জন্য হুমকি” হিসেবে চিত্রিত করেছে। অথচ দীর্ঘদিন ধরে তিস্তার পানি বণ্টন ইস্যুতে ভারতের কাছ থেকে কোনো স্থায়ী সমাধান পায়নি বাংলাদেশ। চীনের সহায়তায় এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের কৃষি, পরিবেশ ও জনজীবন উপকৃত হবে— এটি কোনো তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং বাংলাদেশের নিজস্ব উন্নয়নের প্রয়োজন। ভারতের এই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি আসলে বাংলাদেশের স্বার্থকে অগ্রাহ্য করারই প্রতিফলন।

প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা: জে-১০সিই জঙ্গি বিমান ক্রয় বা চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর নিয়ে ভারতীয় মিডিয়ার ‘উদ্বেগ’ও অযৌক্তিক। বাংলাদেশ তার প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে যেকোনো দেশ থেকে সরঞ্জাম কিনতে পারে— এটি কোনো দেশের একচেটিয়া অধিকার নয়। চীন বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। এই সফরে ১৫টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা বাংলাদেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভারতীয় মিডিয়ার এই প্রচারণা আসলে বাংলাদেশের স্বাধীন কূটনৈতিক সিদ্ধান্তকে মেনে নিতে না পারার হতাশা। তারেক রহমানের সরকার স্পষ্ট করেছে— বাংলাদেশ কোনো দেশের বিরুদ্ধে নয়, বরং সবার সঙ্গে সমান সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়। ‘বড় ভাই সুলভ’ আচরণের জবাব হয়তো বাংলাদেশ এভাবেই দিয়েছে।

বাংলাদেশ তার স্বার্থ অনুসারে এগোবে। ভারতের উচিত হবে এই বাস্তবতা মেনে নিয়ে সম্মানজনক ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া, না হয় উদ্বেগ প্রকাশ করে নিজেদের অস্বস্তিই প্রকাশ করতে থাকা।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo