তারেক রহমানের চীন সফর: ভারতের জন্য কৌশলগত সতর্কবার্তা

0

 তারেক রহমানের চীন সফর: ভারতের জন্য কৌশলগত সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বড় বিদেশ সফর চীনে সম্পন্ন হওয়ার পর ভারতীয় কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মালয়েশিয়ার পর সরাসরি বেইজিংয়ে গিয়ে তিনি চীনের সঙ্গে ১৩টির বেশি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছেন, যার মধ্যে তিস্তা নদী ব্যবস্থাপনা প্রকল্প, বন্দর উন্নয়ন (মোংলা ও চট্টগ্রাম), অর্থনৈতিক করিডর এবং সম্ভাব্য জঙ্গি জেট ক্রয় অন্যতম।

ভারতীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সফরকে “বাইপাসিং ইন্ডিয়া” হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঐতিহ্য অনুসারে নতুন বাংলাদেশি প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফর সাধারণত নয়াদিল্লিতে হয়ে থাকে। কিন্তু তারেক রহমান মালয়েশিয়া ও চীনকে প্রাধান্য দিয়ে সেই প্রথা ভঙ্গ করেছেন। এটিকে ঢাকার “বাংলাদেশ ফার্স্ট” নীতির প্রকাশ বলে ব্যাখ্যা করা হলেও, নয়াদিল্লিতে এটাকে চীনের প্রভাব বৃদ্ধি ও ভারতের আঞ্চলিক অবস্থান দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

তিস্তা ইস্যুতে উদ্বেগ: সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় তিস্তা নদী প্রকল্প। চীন এতে প্রযুক্তিগত ও আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। তিস্তা ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের জলবণ্টন বিরোধের কেন্দ্রবিন্দু। চীনের সম্পৃক্ততা সিলিগুড়ি করিডর (চিকেন্স নেক)-এর কাছাকাছি এলাকায় বহিরাগত শক্তির উপস্থিতি বাড়াবে, যা ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক মাত্রা: ভারতীয় গণমাধ্যমে খবর এসেছে যে, বাংলাদেশ চীন থেকে ২৪টি জে-১০সিই মাল্টিরোল ফাইটার জেট কিনতে পারে। এছাড়া চীন-মিয়ানমার-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক করিডর প্রস্তাব এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) অধীনে আরও সহযোগিতা ভারতের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ।

ভারতীয় প্রতিক্রিয়া: ফার্স্টপোস্ট, টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস এবং এনডিটিভির মতো মাধ্যমে এই সফরকে “ভারতের উদ্বেগের বিষয়” হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, এটি দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ক্রমবর্ধমান ফুটপ্রিন্টের অংশ এবং বাংলাদেশকে ভারতের প্রভাব বলয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা।

তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, সম্পর্ক শূন্য-সমষ্টির খেলা নয়। ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক এখনও উন্নতির পথে রয়েছে, কিন্তু তিস্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং অভিবাসন ইস্যুতে সমাধান না হলে চীনের মতো তৃতীয় শক্তির সুযোগ বাড়বে।

তারেক রহমানের চীন সফর শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, বাংলাদেশের বহুমুখী কূটনীতির স্পষ্ট বার্তা। ভারতের জন্য এটি সময়মতো সতর্কতা — প্রতিবেশীদের সঙ্গে আস্থা ও স্বার্থের ভারসাম্য রক্ষা করে কৌশলগত প্রতিক্রিয়া জানানোর প্রয়োজনীয়তা। অন্যথায় দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo