পররাষ্ট্রনীতিতে ‘কৌশলগত স্বাধীনতা’র বার্তা: তারেক রহমানের চীন সফরের তাৎপর্য।

0

 পররাষ্ট্রনীতিতে ‘কৌশলগত স্বাধীনতা’র বার্তা: তারেক রহমানের চীন সফরের তাৎপর্য।  

ক্ষমতা গ্রহণের প্রায় চার মাসের মাথায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মালয়েশিয়া হয়ে চীন সফর বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এটি তাঁর প্রথম রাষ্ট্রীয় সফর হলেও, বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকই ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। বিশেষ করে ভারত এ সফরের দিকে গভীর নজর রেখেছিল।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, এ সফর বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের ‘অসামঞ্জস্যপূর্ণ’ পররাষ্ট্রনীতির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক মূলত বাণিজ্যিক ও উন্নয়নমূলক ছিল, যদিও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে তা শীতল ছিল। ২০১৬ সালে বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভে যোগ দিয়ে প্রায় ৪০ বিলিয়ন ডলারের প্রকল্পের প্রতিশ্রুতি পেলেও বাস্তবায়িত হয়েছে মাত্র ৪.৫ বিলিয়ন ডলারের মতো।

তারেক রহমানের সফরকে অনেকে তাঁর পিতা জিয়াউর রহমান ও মাতা খালেদা জিয়ার পদাঙ্ক অনুসরণ হিসেবে দেখছেন। ১৯৭৭ ও ১৯৮০ সালে জিয়াউর রহমানের চীন সফরের মাধ্যমে দুই দেশের সামরিক-কৌশলগত সম্পর্কের ভিত্তি স্থাপিত হয়। বর্তমান সফরে ১৩টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার মধ্যে মোংলা সমুদ্রবন্দরের সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর অন্যতম।

এছাড়াও মোংলা বন্দরকে কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের উপযোগী করতে চীনের সহায়তায় প্রায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকার প্রকল্প পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ব্যয় কমিয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন করলেও চীনা অর্থছাড়ে বিলম্ব হয়। সফরে এতে অগ্রগতি হয়েছে বলে জানা গেছে। বাস্তবায়িত হলে বন্দরটি বার্ষিক ৪ লাখ টিইইউ কনটেইনার হ্যান্ডলিং করতে সক্ষম হবে। বর্তমানে শুধু বাল্ক কার্গোর ওপর নির্ভরশীল মোংলা ইতোমধ্যে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উদ্বৃত্ত অর্জন করেছে। চীনা ইপিজেডের সঙ্গে যুক্ত হলে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ-মিয়ানমার-চীন অর্থনৈতিক করিডর চট্টগ্রাম, মাতারবাড়ীসহ বন্দরগুলোকে আঞ্চলিক হাবে রূপান্তর করবে এবং আসিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াবে। চীন এতে ভারতকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ সফর বাংলাদেশের কৌশলগত স্বাধীনতার বার্তা দিয়েছে। আফগান যুদ্ধ, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত ও চীনের উত্থানের মধ্যে ছোট দেশগুলোর জন্য সুষম পররাষ্ট্রনীতি অপরিহার্য। সরকারের লক্ষ্য কোনো দেশের বিরোধিতা নয়, বরং জাতীয় স্বার্থে সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।

তারেক রহমানের চীন সফর শুধু অর্থনৈতিক সহযোগিতা নয়, বাংলাদেশের স্বাধীন-সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতির পুনর্নির্মাণের প্রতিশ্রুতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo