বাংলাদেশ বিমসটেক চেয়ারম্যানশিপে নিরাপত্তা সহযোগিতায় নতুন দিগন্ত উন্মোচনের সুযোগ পেল
ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোবালের সভাপতিত্বে গতকাল ১৬ জুলাই নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিমসটেক জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের ৫ম সভায় বাংলাদেশ তার চেয়ারম্যানশিপের সুবিধা কাজে লাগিয়ে আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতায় শক্তিশালী অবস্থান গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করেছে।
সভায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. এ কে এম শামসুল ইসলাম। সঙ্গে ছিলেন হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ। সাত সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। মিয়ানমারের মন্ত্রী টিন অং সান, ভুটানের হোম সেক্রেটারি সোনাম ওয়াংয়েল, নেপালের হোম সেক্রেটারি রাজ কুমার শ্রেষ্ঠা, শ্রীলঙ্কার এয়ার ভাইস মার্শাল সম্পথ থুয়াকোন্তা এবং থাইল্যান্ডের ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল চ্যাচাই বাংচুয়াদ উপস্থিত ছিলেন। বিমসটেক মহাসচিব ইন্দ্র মণি পান্ডে সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে নিরাপত্তা খাতে অগ্রগতির বিষয়ে অবহিত করেন।
সভায় দুটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। প্রথমত, মানবিক সহায়তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (HADR)-এর সামুদ্রিক অংশের জন্য নির্দেশিকা। দ্বিতীয়ত, সমুদ্রে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে মিথস্ক্রিয়ার জন্য নির্দেশক নীতিমালা। অজিত দোবাল সভায় সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এবং প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতির কারণে উদ্ভূত বহুমাত্রিক হুমকির কথা উল্লেখ করে ২০২৭ সালে বিমসটেকের ৩০তম বার্ষিকীতে সুনির্দিষ্ট ফলাফল দেখানোর আহ্বান জানান। সভার আগে তিনি বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও মিয়ানমারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেন এবং গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও আইন প্রয়োগ সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
বাংলাদেশের জন্য এ সভা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ এজেন্ডা নির্ধারণ, ঐকমত্য তৈরি এবং কর্মপরিকল্পনা প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। দেশের ভৌগোলিক অবস্থান, দুর্যোগপ্রবণতা এবং সীমান্ত সংবেদনশীলতা বিবেচনায় নিরাপত্তা খাতে এই মঞ্চ ব্যবহার করে বাংলাদেশ বাস্তব সুবিধা আদায় করতে পারবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশ এখন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চলের সমস্যা, মিয়ানমার থেকে আসা স্পিলওভার এবং সাইবার নিরাপত্তায় মাল্টিল্যাটারাল সহযোগিতা জোরদার করতে পারে। HADR নির্দেশিকা ও মেরিটাইম নীতিমালাকে কাজে লাগিয়ে হোয়াইট-শিপিং তথ্য বিনিময় এবং আঞ্চলিক মেরিটাইম ফিউশন সেন্টার গঠনে উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে। পার্বত্য অঞ্চলের মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান মোকাবিলায় ত্রি-সীমান্ত সহযোগিতা এবং রোহিঙ্গা ইস্যুতে মানবিক চ্যানেল খোলা রাখাও সম্ভব।
তবে সফলতার জন্য প্রয়োজন প্রযুক্তি হস্তান্তরে দ্বিমুখী প্রতিশ্রুতি, সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং অন্যান্য সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। ঘোষণার পরিবর্তে বাস্তব কর্মপরিকল্পনা ও যৌথ অনুশীলনের দিকে জোর দিতে হবে।
চেয়ারম্যানশিপের এই সময়ে বাংলাদেশ যদি এসব ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখে, তাহলে নয়াদিল্লির একদিনের সভা দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত লাভে পরিণত হবে। ২০২৭ সালের পরও এই সহযোগিতার সুবিধা বাংলাদেশ টেনে নিতে পারবে। এটি বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা উভয়কেই শক্তিশালী করবে।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment