বঞ্চনার দীর্ঘ অধ্যায় শেষে ফিরে পেলেন মর্যাদা ও অধিকার

0

 বঞ্চনার দীর্ঘ অধ্যায় শেষে ফিরে পেলেন মর্যাদা ও অধিকার

বছরের পর বছর অপেক্ষা ও বঞ্চনার পর অবশেষে স্বীকৃতি পেলেন সশস্ত্র বাহিনীর বেশ কয়েকজন সিনিয়র অফিসার। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ প্রজ্ঞাপনে ১৫০ জন অফিসারকে স্বাভাবিক অবসর, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি এবং বকেয়া আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেন লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদমর্যাদার দুই অফিসারসহ অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা।

প্রজ্ঞাপন অনুসারে, ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত সময়ে বিভিন্ন কারণে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া বা বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো অফিসারদের মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১১৫ জন, নৌবাহিনীর ২১ জন ও বিমান বাহিনীর ১৪ জন এই সুবিধা পাবেন।

উদাহরণস্বরূপ, বিএ-১৩০৮ লেফটেন্যান্ট জেনারেল মোহাম্মদ আনিসুল করিম ২০০৯ সালে বাধ্যতামূলক অবসরে যান। নতুন প্রজ্ঞাপনে তাঁকে ২০১২ সাল পর্যন্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদেই বকেয়া বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একইভাবে বিএ-১৫৫৫ লেফটেন্যান্ট জেনারেল ইবনে জামালী ২০১০ সালে অকালীন অবসর নেন। এখন তাঁকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদের পূর্ণ সুবিধা দেওয়া হয়েছে।

আরও উল্লেখযোগ্য একটি ঘটনা হলো বিএ-২১৭১ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আব্দুল্লাহিল আমান আযমী। তাঁকে শুধু মেজর জেনারেল ও লেফটেন্যান্ট জেনারেল পদে ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি দেওয়া হয়নি, বরং বিশেষ আর্থিক সুবিধা হিসেবে ১ কোটি টাকা এবং বয়স ও যোগ্যতা অনুসারে অন্য সরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে পদায়নের সুযোগও দেওয়া হয়েছে।

এ ধরনের সিদ্ধান্তের ফলে অনেক অফিসার তাঁদের প্রাপ্য মর্যাদা ও আর্থিক নিরাপত্তা ফিরে পাচ্ছেন। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটি ও বাহিনী সদর দপ্তরের সুপারিশের ভিত্তিতে এই প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রত্যেক অফিসারের ক্ষেত্রে আলাদাভাবে পূর্বের অবসরের ধরন, নতুন অবসরের তারিখ এবং প্রাপ্য সুবিধা উল্লেখ করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপ সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিশ্চয়তা ও বঞ্চনার অবসান ঘটাতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo