শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চাওয়া আন্দোলনের ‘ছাত্র নামধারী’ এরা কারা?
১৪ জুলাই ২০২৬। এইচএসসি পরীক্ষার স্থগিতাদেশসহ বিভিন্ন দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলন প্রথম দর্শনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ক্ষোভের প্রকাশ বলে মনে হলেও, পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহে স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে এটি ছিল একটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ম্যানুফ্যাকচার্ড আন্দোলন। সরকার জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত চট্টগ্রাম বোর্ডের শিক্ষার্থীদের জন্য পুনরায় পরীক্ষার সুযোগ, প্রশ্নপত্রের ভুলের জন্য নম্বর সমন্বয় এবং শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশসহ সমস্যাগুলোর সমাধান করে দিলেও আন্দোলন থামেনি। বরং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি তুলে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা চলতে থাকে।
প্রশ্ন উঠেছে: সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার পরও কেন আন্দোলন চলছিল? আর এখান থেকেই বেরিয়ে আসে আসল চিত্র — ছাত্র নামধারী রাজনৈতিক কর্মীরা।
আন্দোলনের নেপথ্যে ‘ছাত্র নামধারী’ ব্যক্তিরা-
# আরিফুর রহমান ফয়সাল: নোয়াখালী জেলার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি উপস্থিত ছিলেন। তার উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক প্রশ্নের জন্ম দেয়।
# মোহনা আরিশা: নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেত্রী। রাস্তায় নেমে আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।
# রুবাইয়া মেহজাবিন সুহী: মাইলস্টোন কলেজের শিক্ষার্থী পরিচয় দিয়ে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন এবং বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেন। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানায়, শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তিনি অনেক আগেই বহিষ্কৃত হয়েছিলেন। স্কুল দুর্নাম এড়াতে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়।
#রেদোয়ান মাহিন: জামালপুরের এনসিপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রশক্তির সংগঠক। নিজে পরীক্ষার্থী না হয়েও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন, এইচএসসি পরীক্ষা বয়কটের ডাক দেন এবং মিডিয়ায় বক্তব্য দেন। পরে ভুল স্বীকার করে ফেসবুকে ক্ষমা চান।
#কোভিদ হোসেন: ছাত্রশিবিরের নেতা। তার উপস্থিতি আন্দোলনকে স্পষ্ট রাজনৈতিক রূপ দেয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সাধারণ শিক্ষার্থীদের দাবিকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছেন।
#তাহমিদ রহমান ও সিফাত হোসেন: সাবেক পলিটেকনিক শিক্ষার্থী, বর্তমানে ছাত্রশক্তি ও ছাত্রশিবিরের নেতা। পরীক্ষার্থীদের উসকে দিয়ে আন্দোলনকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করেন।
প্রকৃত এইচএসসি ২৬-এর পরীক্ষার্থীরা অনেকেই আন্দোলনে ছিলেন না। অভিভাবকরা জানিয়েছেন, তাদের সন্তানরা পরীক্ষা সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছেন এবং সরকারের নেওয়া সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট। যারা পদত্যাগ ও সরকারবিরোধী স্লোগান দিচ্ছিলেন, তাদের অধিকাংশই বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মী — যারা ছাত্র পরিচয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে কাজে লাগিয়ে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা চালিয়েছিলেন।
সরকারের ধৈর্যশীল অবস্থান এবং অধিকাংশ সচেতন শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের বিচক্ষণতায় এই অপচেষ্টা সফল হয়নি। শিক্ষার্থীরা বুঝতে পেরেছেন যে, তাদের ন্যায্য দাবিকে কেউ রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চেয়েছিল।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে যে, শিক্ষা ব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের ইস্যুকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। সতর্কতা এবং সচেতনতাই এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র। সরকারের সময়োচিত সিদ্ধান্তের কারণে একটি বড় ধরনের অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment