সাজেকে গর্ভবতী শিক্ষিকার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু: ধর্মীয় রীতি অনুসরণে দাহক্রিয়া নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর অপপ্রচারের চেষ্টা

0

সাজেকে গর্ভবতী শিক্ষিকার সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যু: ধর্মীয় রীতি অনুসরণে দাহক্রিয়া নিয়ে ইউপিডিএফ (প্রসীত)-এর অপপ্রচারের চেষ্টা

১৮ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত সাজেকের দাব আদম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গর্ভবতী শিক্ষিকা সুমতি চাকমার দাহক্রিয়া ১৯ জুলাই বেলা ১টা ৪৫ মিনিটে সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় রীতি অনুসারে গর্ভবতী নারীর ক্ষেত্রে পেট কেটে ভ্রূণ আলাদা করে দাহক্রিয়া করার প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়। স্থানীয় লোকজনের তোলা ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ইউপিডিএফ (প্রসীত) ও তার সমর্থকরা এটিকে বিকৃত করে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

সুমতি চাকমা ১৮ জুলাই সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন। ১৯ জুলাই তার দাহক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বৌদ্ধ ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী গর্ভবতী নারীর দাহক্রিয়ার আগে ভ্রূণকে আলাদা করা হয় এবং পৃথকভাবে দাহ করা হয়। এই প্রক্রিয়া চলাকালীন স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট করেন, যা দ্রুত ভাইরাল হয়ে যায়। ইউপিডিএফ (প্রসীত) গোষ্ঠী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা এই ছবিগুলো তাদের অ্যাকাউন্ট থেকে শেয়ার করে মিথ্যা ও বিকৃত ব্যাখ্যা দিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টির চেষ্টা করা হচ্ছে।

খাগড়াছড়ির সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ধর্মীয় রীতি অনুসরণে সম্পন্ন হয়েছে এবং এটিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামে ইউপিডিএফ (প্রসীত) দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র তৎপরতা চালিয়ে আসছে। এ ধরনের সেনসিটিভ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো তাদের পরিচিত কৌশল। বিশ্লেষকরা মনে করেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় জনগণের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি, নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিরূপ ধারণা তৈরি এবং অঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির অপচেষ্টা চলছে। এমতাবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী পরিস্থিতি সতর্কতার সাথে পর্যবেক্ষণ করছে।

সাজেক অঞ্চল পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকা হিসেবে পরিচিত, যেখানে শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা চ্যালেঞ্জিং। একজন গর্ভবতী শিক্ষিকার এমন মর্মান্তিক মৃত্যু পুরো এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে। ধর্মীয় রীতি পালনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে প্রচারণা চালানো শুধু অমানবিকই নয়, আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতার জন্যও হুমকি। এ ধরনের অপপ্রচার রোধে সকলের সতর্কতা ও তথ্য যাচাই করে শেয়ার করার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল। স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সত্য তথ্যের ভিত্তিতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা হবে।


No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo