উখিয়ায় চাকমা পরিবারের বাড়ি ও বৌদ্ধ বিহারে হামলার ভুয়া অভিযোগ: কোনো সত্যতা মেলেনি

0



উখিয়ায় চাকমা পরিবারের বাড়ি ও বৌদ্ধ বিহারে হামলার ভুয়া অভিযোগ: কোনো সত্যতা মেলেনি

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলায় চাকমা সম্প্রদায়ের বৌদ্ধ বিহার ও বাড়িঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ তুলে গ্লোবাল আরাকান নেটওয়ার্ক (GAN) সম্প্রতি প্রচারণা চালিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট ছবি বিশ্লেষণে সেই দাবির পক্ষে দৃশ্যমান প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে পর্যবেক্ষণ উঠে এসেছে।

গত-এর ৩ আগস্ট ২০২৬-এর এক প্রচারণায় দাবি করা হয়, গত ৩১ জুলাই ২০২৬ তারিখে উখিয়ার জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেঞ্চারী (বা ছেনছড়ি) গ্রামে প্রায় ২০০ জনের একটি দল স্থানীয় চাকমা পরিবারের চারটি বসতবাড়ি ও একটি বৌদ্ধ বিহারে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। প্রচারণায় হামলার পেছনে ভূমি-সংক্রান্ত বিরোধকে দায়ী করা হয় এবং স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের কর্মকর্তাদের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ আনা হয়। আরও বলা হয়, হামলাকারীরা চাকমা সম্প্রদায়ের পূর্বপুরুষের জমি দখলের চেষ্টা করছে এবং বিহারের বুদ্ধমূর্তি ভাঙচুর করা হয়েছে।

তবে ঘটনা-সম্পর্কিত প্রচারিত ছবিগুলো বিশ্লেষণে দেখা যায়, বৌদ্ধ বিহারের বুদ্ধমূর্তিসহ অন্যান্য মূর্তিগুলো সম্পূর্ণ অক্ষত রয়েছে। কোথাও ভাঙচুর, আঘাত বা ক্ষতিসাধনের কোনো দৃশ্যমান আলামত পরিলক্ষিত হয়নি। ফলে বিহারে ভাঙচুর সংঘটিত হয়েছে—এমন দাবির পক্ষে সত্যতা পাওয়া যায়নি।

একই সঙ্গে প্রচারিত ছবিগুলোর মধ্যে একই ছবিকে সম্পাদনা করে দুটি পৃথক ছবি হিসেবে ব্যবহার করার নমুনাও পাওয়া গেছে। এতে প্রতীয়মান হয় যে, ঘটনাকে হামলা হিসেবে উপস্থাপনের উদ্দেশ্যে ছবিগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ব্যবহার করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তুলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা ও সংখ্যালঘু সুরক্ষাব্যবস্থাকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিষয়টিকে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতার ইস্যুর সঙ্গে যুক্ত করে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টাও লক্ষ্যণীয়।

উল্লেখ্য, স্থানীয় কিছু প্রতিবেদনেও অনুরূপ অভিযোগ উঠেছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাঙা মূর্তির ছবি প্রচারিত হয়েছে। তবে সেগুলোর ফ্যাক্ট চেক করে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার প্রকৃত তথ্য যাচাইয়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত জরুরি।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo