0

যে কোনো হত্যাকাণ্ড ঘটলেই শুরু হয় সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার; নেপথ্যে আওয়ামী লীগ ও ভারতীয় মিডিয়া 

রংপুর জিলা স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে প্রার্থী ও ছোট ছেলে প্রিয়ম—এক পরিবারের চারজনকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। তালাবদ্ধ বাড়ির ছাদে শিক্ষকের, সিঁড়িতে স্ত্রী ও মেয়ের এবং ছোট ছেলের লাশ বেডের নিচে পাওয়া যায়। ঘটনাটি নিঃসন্দেহে জঘন্য ও বেদনাদায়ক।

কিন্তু ঘটনার পরপরই যেভাবে সাম্প্রদায়িক অপপ্রচার শুরু হয়েছে, তা আরও বিপজ্জনক। কোনো তদন্ত শুরু হওয়ার আগেই, অভিযুক্তদের পরিচয় জানার আগেই আওয়ামী লীগ, ভারত ও বাংলাদেশের কিছু মহল এটিকে ‘সংখ্যালঘু হিন্দু গণহত্যা’ হিসেবে প্রচার করতে শুরু করে। মুসলিমদের অভিযুক্ত করা হয়। কোনো প্রমাণ ছাড়াই ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে রাজনীতি শুরু হয়।

কিন্তু বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। পুলিশ যে দুজনকে আটক করেছে—মাছুয়াপাড়ার কানু দাসের ছেলে মুগ্ধ দাস এবং বিনয়চন্দ্র দাসের ছেলে সিদ্ধার্থ দাস, তারা উভয়েই হিন্দু। তারা কাজিন এবং ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিবেশী। শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীকে তারা ‘স্যার’ বলে ডাকত। একজন মাছের দোকানে, অন্যজন স্বর্ণের দোকানে কাজ করত।

পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দিবাগত শেষ রাতে দুজন ছাদে বসে ইয়াবা সেবন করছিল। শব্দ পেয়ে শিক্ষক ছাদে উঠে তাদের জিজ্ঞাসা করেন। পরিচয় ফাঁস হওয়ার ভয়ে তারা শিক্ষকের গলায় থাকা গামছা দিয়ে তাঁকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। চিৎকার শুনে সিঁড়ি দিয়ে উঠে আসা স্ত্রী প্রীতিলতাকেও একইভাবে হত্যা করা হয়। এরপর মেয়ে প্রার্থীকে গামছা ও রশি দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করা হয়। খুনিরা নিজেরাই বলেছে, প্রার্থী মারা যাচ্ছিল না—প্রায় চার-পাঁচ মিনিট সময় লেগেছে। সর্বশেষে ছোট ছেলে প্রিয়মকে কাপড় পেঁচিয়ে ও বালিশচাপা দিয়ে তার ঘরেই হত্যা করা হয়।

রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার ও ডিবির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার স্পষ্ট করেছেন যে, আটক দুই যুবক হত্যার দায় স্বীকার করেছে। মোটিভ ছিল মাদক সেবন ধরা পড়ার ভয়—সাম্প্রদায়িক কোনো উদ্দেশ্য নয়।

হত্যারহস্য উন্মোচনের আগেই অপপ্রচারের মুখোশ উন্মোচিত হয়। যখন অভিযুক্তরা নিজেরাই হিন্দু, ভুক্তভোগীরাও হিন্দু, এবং ঘটনা মাদক ও ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব থেকে উদ্ভূত, তখন এটিকে হিন্দু গণহত্যা বলে চিত্রিত করা সম্পূর্ণ মিথ্যাচার। তথ্য বেরোনোর আগেই ধর্মীয় পরিচয় দিয়ে বিভেদ তৈরির চেষ্টা সমাজকে আরও বিপজ্জনক করে তোলার চেষ্টা করছে আওয়ামী লীগ এবং ভারতের কিছু মিডিয়া।

এ ধরনের নৃশংস অপরাধের বিচার হতেই হবে। কিন্তু বিচারের আগে অপপ্রচার চালিয়ে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা সৃষ্টি করা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তথ্য যাচাই করে সত্য তুলে ধরাই দায়িত্বশীল আচরণ। রংপুরের এই ঘটনা মাদকের ভয়াবহতা এবং নির্মমতার উদাহরণ—সাম্প্রদায়িক সংঘাতের নয়।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team