জুলাইয়ের আবেগকে ধ্বংস করল কারা?

0


জুলাইয়ের আবেগকে ধ্বংস করল কারা?

জুলাই অভ্যুত্থানের দুই বছর পেরিয়ে গেল। যে আন্দোলনে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন, সেই আবেগকে আমাদের স্মৃতি, হৃদয়ে, কর্মকাণ্ডে ধরে রাখার কথা ছিল। নিহতদের স্মরণে সভা-সমাবেশ, আহতদের পাশে দাঁড়ানো, শহীদ পরিবারের পাশে থাকা—এসবই হওয়ার কথা ছিল জুলাই জুড়ে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল উল্টো চিত্র।

মাসব্যাপী কোনো উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি চোখে পড়ল না। জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের স্মরণে কোনো বড় সমাবেশ, কোনো স্মৃতিসভা—কিছুই হয়নি। উল্টো এনসিপির পদযাত্রার নামে অনুষ্ঠানে বিএনপিকে গালিগালাজ, প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি—এসবই চোখে পড়ল। কোন্দল বাধানো, দোষারোপ করা, নিজেদেরকে একমাত্র মালিক সাজানো—এই কর্মকাণ্ডই বেশি হয়েছে।

এখন প্রশ্ন উঠছে- যারা জুলাইয়ের নাম ভাঙিয়ে আজ রাজনীতি করছেন, তারাই কি এই আবেগকে ধ্বংস করছেন? 

অভ্যুত্থানের সময় যে ঐক্য গড়ে উঠেছিল, যে আবেগ দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল, সেটাকে এখন দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে। শহীদদের রক্তের বিনিময়ে ক্ষমতার হিসাব-নিকাশ চলছে। যারা আহত হয়ে পঙ্গু হয়েছেন, তাদের কথা কেউ মনে রাখছে না। যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের স্মৃতিও যেন ফিকে হয়ে যাচ্ছে।

জুলাইয়ের আবেগ ছিল ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে গণঅভ্যুত্থানের আবেগ। আর এর প্রেক্ষাপট তৈরি হয়েছিল ২০০৯ থেকে ২০২৪। যার বড় অবদান বিএনপির। কিন্তু সেই অবদানকে অস্বীকার করে এনসিপি এটিকে একটি ক্ষুদ্র রাজনৈতিক কোন্দলে নামিয়ে এনেছে। পদযাত্রার মঞ্চ থেকে বিএনপিকে আক্রমণ করা, প্রধানমন্ত্রীকে হুমকি দেওয়া—এসব কি জুলাইয়ের চেতনা? নাকি জুলাইকে ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ গড়ার চেষ্টা?

যারা জুলাইয়ের নামে কথা বলেন, তাদেরই জবাবদিহি করতে হবে—আবেগকে ধ্বংস করল কারা? শহীদদের স্মৃতি কি শুধু স্লোগানে সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি সত্যিই সম্মান জানানো হবে? প্রশ্নটা আজকের বাস্তবতায় খুবই জরুরি।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo