স্কুলের বেঞ্চে বসা ছেলেরা আজ বাপের বয়সীকে ‘তুই’ বলে ডাকে

0

স্কুলের বেঞ্চে বসা ছেলেরা আজ বাপের বয়সীকে ‘তুই’ বলে ডাকে

আজকের নাহিদ ইসলাম, সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ আর নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী—এই চারজন এখন রাজনীতির ময়দানে এমনভাবে কথা বলেন, যেন তারাই দেশের একমাত্র সংগ্রামী শক্তি। বিএনপির নেতাদের উদ্দেশে ‘তুই’, ‘তোর’ করে কথা বলা, হুমকি দেওয়া, এমনকি প্রধানমন্ত্রীকেও গালিগালাজ করা—এসব এখন তাদের নিত্যদিনের অভ্যাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। অথচ এই চারজনের জন্মই হয়েছে ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৮ সালের মধ্যে।

বিএনপির জন্ম ১৯৭৮ সালে। জিয়াউর রহমান যখন দল গঠন করেন, তখন এই চারজনের বাবা-মায়েরও হয়তো বিয়ে হয়নি। এরশাদের স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি যে নয় বছরের রক্তক্ষয়ী আন্দোলন করেছে, সেই সময় তারা মায়ের পেটেও ছিলেন না। ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানে বিএনপির নেতৃত্বে যে স্বৈরাচারের পতন হয়, তখনও তাদের অস্তিত্ব ছিল না। সেই আন্দোলনে যারা রাজপথে নেমেছিলেন, আজকের এই চার নেতার বাবা-মায়ের বয়সী মানুষ।

পরে ১৯৯৬ থেকে ২০০১, আবার ২০০৯ থেকে ২০২৪—বিএনপি টানা দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে লড়েছে। গুম, খুন, মামলা, নির্যাতন—সব সহ্য করে। ২০১০ সালে খালেদা জিয়ার সামরিক বাড়ি উচ্ছেদের প্রতিবাদে হরতাল ডাকা হয়। তখন নাহিদ, সারজিস ও হাসনাতের বয়স মাত্র ১২। ২০১৩-১৪ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকার পুনর্বহালের দাবিতে টানা হরতাল-অবরোধ চলে, নির্বাচন বয়কট হয়। তখনও তারা স্কুল-কলেজের ছাত্র। ২০১৫ সালে সরকার পতনের এক দফা দাবিতে যে টানা অবরোধ চলে, যেখানে পেট্রোল বোমা আর সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ মারা যায়—তখনও তারা কলেজপড়ুয়া কিশোর। ২০১৮ সালে খালেদা জিয়াকে জেলে পাঠানোর পর বিএনপির কর্মীরা রাজপথে রক্ত ঝরাচ্ছিল, তখন তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে ঘুরত।

আজ সেই একই বিএনপির নেতাদের ‘তুই’ বলে ডাকছে। বাপের বয়সী মানুষকে অপমান করে নিজেদেরকে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়া ‘জুলাইর মুখ’ সাজাচ্ছে। অথচ জুলাই অভ্যুত্থানের আগে দেশের রাজনৈতিক লড়াইয়ের ইতিহাসে তাদের কোনো উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল না। তারা যেন হঠাৎ করেই ইতিহাসের মালিক হয়ে গেছেন। যারা ১৫-২০ বছর ধরে রাজপথে লড়েছেন, তাদেরকেই এখন ‘পুরনো রাজনীতির প্রতিনিধি’ বলে অবজ্ঞা করা হচ্ছে।

ইতিহাস মুছে ফেলে নিজেদেরকে বীর বানানোর এই প্রচেষ্টা কি স্যাটায়ার নয়? নাকি এটাই আজকের রাজনীতির নতুন ধরন—যারা লড়াই করেছে, তাদেরকেই অপমান করা, আর যারা লড়াইয়ের সময় স্কুলে ছিল, তারাই এখন নেতৃত্ব দাবি করে বসছে? প্রশ্নটা আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় খুবই জরুরি হয়ে উঠেছে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo