সরকারের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির মতোই এগোচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী

0

 সরকারের উন্নয়ন প্রতিশ্রুতির মতোই এগোচ্ছে সশস্ত্র বাহিনী

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অগ্রগতি দেখা গেল ছয় মাসেই। সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর কেনাকাটা, আধুনিকায়ন, অবকাঠামো ও কল্যাণমূলক সিদ্ধান্ত সরকারের প্রতিশ্রতি মতোই এগোচ্ছে। এছাড়াও কিছু ক্ষেত্রে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছে যেমন —রক্ষণাবেক্ষণ চালু রাখা, ধাপে ধাপে সক্ষমতা বাড়ানো এবং সদস্যদের সুবিধা সংস্কার।

সেনাবাহিনীতে অনুমোদিত তালিকায় রয়েছে প্রযুক্তি হস্তান্তরসহ যোগাযোগ সরঞ্জাম সংযোজন, বিস্ফোরক ফিলিং প্লান্ট, রাডার নিয়ন্ত্রিত বিমানবিধ্বংসী গান, এফএম-৯০ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, আর্টিলারি গোলাবারুদ, নোরা স্বয়ংক্রিয় হাউইটজারের আপগ্রেড এবং অ্যান্টি-ট্যাংক মাইন। চলমান কাজে পুনর্নির্মিত মেডিকেল হেলিকপ্টার ও পুরনো ট্যাংকের বিনিময়-ক্রয় আছে। পাশাপাশি মিলিটারি একাডেমিতে নতুন ব্যাটালিয়ন, আলীকদমে পাহাড়-জঙ্গল যুদ্ধ স্কুল, ঈশ্বরদীতে এভিয়েশন ফরওয়ার্ড বেস, এয়ার ডিফেন্স স্কুল, চট্টগ্রামে জমি অধিগ্রহণ এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের সীমান্ত সড়কের দ্বিতীয় পর্ব অনুমোদিত। পাঁচ বছর মেয়াদি আধুনিকায়ন খসড়াও তৈরি হচ্ছে।

নৌবাহিনীতে সাঁজোয়া নৌকা, স্বল্প পাল্লার বিমানবিধ্বংসী ব্যবস্থা ও ড্রেজার অনুমোদিত। খুলনা শিপইয়ার্ডে চারটি লার্জ প্যাট্রোল ক্রাফট দেশে তৈরির কাজ চলছে। বিএনএস খালিদ বিন ওয়ালিদের আধুনিকায়ন এবং টাইপ ০৫২ডি ডেস্ট্রয়ার ক্রয়ে এলওআই পাঠানোর কথা আছে। এছাড়াও হাইতি মিশনের জন্য সাঁজোয়া নৌকা ও যানের নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বিমান বাহিনীতে এখনকার জোর ওভারহলে। এমআই হেলিকপ্টার, ইয়াক-১৩০ ও এফ-৭ বিমান এবং প্রশিক্ষণ বিমানের ইঞ্জিন ক্রয়-মেরামত অনুমোদিত। বড় কেনাকাটা এখনও চলমান পর্যায়ে। চীন থেকে জে-১০সিই যুদ্ধবিমানে নীতিগত অনুমোদন সংশোধন হয়েছে। তুরস্কের টি-১২৯ অ্যাটাক হেলিকপ্টারে সংশোধন চলছে। ইতালি থেকে ইউরোফাইটার টাইফুনে স্টেটমেন্ট অব ইন্টেন্ট পাঠানো হয়েছে। বগুড়ায় মেইন অপারেটিং বেস অনুমোদিত।

নভেম্বর থেকে হাইতিতে গ্যাং সাপ্রেশন ফোর্সের অংশ হিসেবে বাংলাদেশি কন্টিনজেন্ট মোতায়েনের প্রস্তুতি চলছে। দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্পের রূপরেখা, পিপলস ওয়ারফেয়ার মতবাদের খসড়া এবং বহুজাতিক সামুদ্রিক জোটে অংশগ্রহণও তালিকায় আছে। রাসায়নিক নিরাপত্তা আইন ও নীতিমালা, চট্টগ্রাম বন্দরের পুরনো বিপজ্জনক মালামাল নিষ্পত্তি, যৌথ মহড়া এবং সিআইএসএম গলফ চ্যাম্পিয়নশিপের পরিকল্পনা সম্পন্ন হয়েছে।

কল্যাণ খাতে বেতন কমিটি, ব্রিগেডিয়ার ও কর্নেল পদকে জাতীয় গ্রেডের সঙ্গে সমতাকরণ, জেসিওদের ভার্টিক্যাল স্কেল, ২০৩০-এর মধ্যে ওয়ান র‍্যাংক ওয়ান পেনশন, পাইলটদের বেতন বৃদ্ধি এবং প্রধানমন্ত্রীর বৃত্তি তহবিল সম্প্রসারণ হয়েছে। ছয় মাসে সাতটি অবকাঠামো ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প সমাপ্তির তালিকাও দিয়েছে।

অনেক প্রকল্প অনুমোদন বা আলোচনা পর্যায়ে থাকলেও বাহিনীকে চালু রাখা, ধাপে ধাপে আধুনিকায়ন এবং সদস্যদের সুবিধা বাড়ানো হয়েছে। সরকারের প্রতিশ্রতি মতোই বাস্তব অগ্রগতি নির্ভর করবে পরবর্তী চুক্তি, বাজেট ও সরবরাহের ওপর।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team