পার্বত্য চুক্তি বাতিল ও সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপনের দাবি নিয়ে পিসিএনপির সংবাদ সম্মেলন
পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও নিরাপত্তা রক্ষায় সরকার কর্তৃক গঠিত জাতীয় কমিটি, নির্বাহী কমিটি ও পরামর্শক কমিটিকে স্বাগত জানিয়ে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভা ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) ও মাতৃভূমি সুরক্ষা আন্দোলনের যৌথ আয়োজনে জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে এ অনুষ্ঠান হয়। এতে পিসিএনপির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, পিসিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ আহমেদ রাজুসহ সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার প্রায় ৭০-৮০ জন সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
আয়োজকরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তিনটি কমিটি গঠনের জন্য ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানান। একই সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আটটি দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলো হলো:
১. পার্বত্য চট্টগ্রামে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনবিধি-১৯০০ বাতিল করে পার্বত্যাঞ্চলে স্বাধীন সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠা।
২. সমতলের ন্যায় সংবিধানের আলোকে ভূমি ব্যবস্থাপনা চালু, বন্ধ থাকা ভূমি বন্দোবস্ত পুনরায় চালু করে ভূমিহীন বাঙালি ও উপজাতিদের মাঝে জমি বন্দোবস্ত প্রদান এবং বাজারফান্ড এলাকায় পূর্বের ন্যায় ব্যাংক ঋণ চালু। ভূমি কমিশনে বাঙালি সদস্য নিয়োগ ও উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রাখা।
৩. ‘পার্বত্য চুক্তি’ বাতিল করে সংখ্যানুপাতিক ভিত্তিতে সকল জাতিসত্তার সমান অধিকার সংবিধান অনুযায়ী নিশ্চিত করা।
৪. বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলায় জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে ১ হাজার ৩৬ কিলোমিটার সীমান্ত সড়ক নির্মাণ এবং প্রতি কিলোমিটার পর পর বিজিবির বিওপি স্থাপন।
৫. প্রত্যাহারকৃত একটি ব্রিগেড ও ২৪৬টি সেনাক্যাম্প পুনঃস্থাপন করে পার্বত্য চট্টগ্রামে একটি ডিভিশন স্থাপন।
৬. পার্বত্য অঞ্চলকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা এবং নতুন শিল্পকারখানা স্থাপন করে উপজাতি ও বাঙালিদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
৭. শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসায় বৈষম্য দূর করে সমভিত্তিতে অধিকার নিশ্চিত করা এবং আয়কর মওকুফের ক্ষেত্রে পার্বত্যবাসী সকলের সমান অধিকার নিশ্চিত করা।
৮. তিন পার্বত্য জেলায় বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন এবং প্রতিটি উপজেলায় ১০০ শয্যা ও জেলা পর্যায়ে ২৫০ শয্যা হাসপাতাল নির্মাণ।
অনুষ্ঠানে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের সমস্যা একটি জাতীয় সমস্যা। এটি রাজনৈতিক সমস্যা হলেও সমাধান সামরিক। তিনি সেনাবাহিনীর মানবিক ও দেশরক্ষা কার্যক্রমের প্রশংসা করে পাহাড়ে সেনাক্যাম্প বৃদ্ধি এবং সন্ত্রাস দমনে সেনাবাহিনীকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, যেভাবেই হোক পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের নির্মূল করতে হবে।
পিসিএনপির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান কাজী মো. মজিবর রহমান বলেন, স্বাধীনতার পর এই প্রথম পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সরকার এমন তিনটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করেছে। তিনি বামপন্থী সুশীল সমাজের একটি অংশের বিবৃতির সমালোচনা করে বলেন, সেনাবাহিনীর মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত আছে। তিনি ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তিতে সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত না করার কথা উল্লেখ করেন এবং তিনটি কমিটিকে সহযোগিতা করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
আয়োজকরা তিনটি কমিটিকে কার্যকরভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে সভা শেষ করেন।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment