জনগণের সংকট কি রাজপথের লং মার্চে, তাহলে ৩৪ এমপি বিদেশ ভ্রমণে কেন?
দেশে গ্যাস-বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আইনশৃঙ্খলা এবং দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে ১১–দলীয় ঐক্য যখন রাজপথে লংমার্চ করছে, ঠিক সেই সময় জামায়াতে ইসলামীর ৩৪ জন সংসদ সদস্যের ১৭ দিনের বিদেশ সফর নিঃসন্দেহে রাজনৈতিক প্রশ্ন তৈরি করে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সফরকারী দলের মোট সদস্য ৭১ জন এবং ৩৪ এমপির মধ্যে ২৫–২৬ জন পরিবারের সদস্যদেরও সঙ্গে নিয়েছেন। জামায়াতের ব্যাখ্যা—এটি আগে থেকে পরিকল্পিত ‘প্রশিক্ষণমূলক’ সফর, রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়।
কিন্তু এখানেই মূল প্রশ্ন: রাজনীতিতে সময়ও কি কোনো বার্তা বহন করে না? জনগণকে যদি বলা হয় পরিস্থিতি এতটাই সংকটপূর্ণ যে গ্যাস-বিদ্যুৎ, তেল-সার, দ্রব্যমূল্য, আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতির দাবিতে রাস্তায় নামতে হবে, তাহলে সেই সংকটের সময়ে দলের ৩৪ জন এমপির প্রায় একসঙ্গে বিদেশে অবস্থান করা সাধারণ মানুষের কাছে কী বার্তা দেয়? বিশেষ করে যখন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব একই সময়ে বলছে, জনগণের অধিকার আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
জামায়াত এনসিপির নেতারা যখন রাস্তায় বলছে গ্যাস দে বিদ্যুৎ দে নইলে গদি ছেড়ে দে, অপর আরেকটি পক্ষ সেসময় দেশের টাকায় বউ বাচ্চাসহ বিদেশ ভ্রমনে ব্যস্ত। ফূর্তিতে ছবিও শেয়ার করছে ফেসবুকে! কী আজব ব্যাপার? এমন সংকটের সময় সরকারি টাকায় বিদেশ ভ্রমণ করে অন্যদিকে রাস্তায় জনগণকে বোকা বানানোর জন্য লং মার্চ করে। এটা কেবল জামায়াতের পক্ষেই সম্ভব।
একবার চিন্তা করে দেখুন- আগে বেগম জিয়া যখন লং মার্চ করেছিলেন তখন কী অবস্থা ছিল দেশের?
বেগম খালেদা জিয়া যে লং মার্চের জন্য সবচেয়ে বেশি পরিচিত, সেটি হলো ১৯৯৮ সালের ৯ জুন অনুষ্ঠিত পার্বত্য লংমার্চ। পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তির বিরোধিতা করে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে ৭ দলীয় জোট এই লং মার্চ করে। সকাল ৮টায় ঢাকার পল্টন ময়দান থেকে হাজার হাজার যানবাহন নিয়ে যাত্রা শুরু হয় এবং পরে তিন ভাগে ভাগ হয়ে খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানের দিকে যায়। অনেকে এটিকে বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্যতম বড় লং মার্চ বলে উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি আরও কয়েকটি মার্চ/রোড মার্চের ডাক দিয়েছিলেন, যেমন: ১৯৯৯ সালের মে মাসে ঢাকা থেকে দিনাজপুর অভিমুখে মার্চ, অন্যটি ২০১৩ সালের ২৯ ডিসেম্বর “মার্চ ফর ডেমোক্রেসি”। সেই ঐতিহাসিক লং মার্চ এর পরিস্থিতি আর আজকের পরিস্থিতি এক নয়। তবুও জামায়াত প্রহসনের লং মার্চ ডেকেছে।
লংমার্চে ১৯ সেপ্টেম্বরের রংপুরমুখী কর্মসূচিতে প্রায় ৪৩০–৪৫০টি গাড়ি যমুনা সেতু পার হওয়ার তথ্যও এসেছে। এত বিরাট সংখ্যক গাড়ির তেল খরচ, লোকজনের খাবার খরচ, জনসভার খরচে প্রায় কয়েক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। একদিকে নেতাদের বিদেশ ভ্রমণ অন্যদিকে লং মার্চের নামে খরচ করে জামায়াত কি বার্তা দিতে চায়?
সংসদে কথা বলার সুযোগ আছে। সেখানে সরকারের কাছে দাবি জানাক। রাস্তায় আন্দোলন করে এক দফার ঘোষণার হুমকি এগুলো নিছকই অপরিপক্কতার রাজনীতি। জামায়াতকে দ্রুতই এটা থেকে বের হয়ে এসে মানুষের জন্য রাজনীতি করতে হবে।
দেশের সংকট যদি সত্যিই এত গভীর হয়, তাহলে সেই সংকটের সময়ে ৩৪ জন এমপির মধ্যে এতজন কেন বিদেশে? আর যদি সংকট মোকাবিলায় তাঁদের উপস্থিতি অপরিহার্য না হয়, তাহলে সেই সংকটকে সামনে রেখে লংমার্চের রাজনৈতিক জরুরিতার ব্যাখ্যাই বা কী?
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment