রাজনীতিবিদদের প্রতারণা; দ্বিতীয় স্ত্রী হওয়ার আগে ও পরের পরিণতি: গাজী নজরুল ও মামুনুল হক কেস
ন্যাম ভবনের ফ্ল্যাটে ঝুলন্ত দেহ। বয়স ১৯। মরিয়ম খাতুন।
সাতক্ষীরা-৪ আসনের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম দুই মাস আগে বলেছিলেন—“এ আমার দ্বিতীয় স্ত্রী।” আজ সেই স্ত্রী মর্গে। এমপি ও প্রথম স্ত্রী পুলিশ হেফাজতে।
এখন প্রশ্ন আসে, এখানে কি প্রতারণার শিকার হলেন মরিয়ম? সম্পর্ক গোপন রাখা হয়েছিল কি? ধরা পড়লে স্ত্রীর তকমা লাগানো মরিয়ম কি তবে সংকটে পরেই নিহত হলেন? বা তাকে মেরে ফেলা হল?
জুলাইয়ে মগবাজারের হোটেলে ধরা খাওয়ার পর ভাইরাল হন গাজী নজরুল। বয়সের ব্যবধান অনেক ছিল। অনেকটাই নাবালিকা মরিয়ম অন্যদিকে পঁচাত্তরের কাছাকাছি গাজী নজরুল এমপি, জামায়াত এই এমপিকে বাঁচানোর জন্য মিথ্যার আশ্রয় নিল, বলল এআই। পরে এমপি বলেন, ১৭ জুন প্রথম স্ত্রীর সম্মতিতে বিয়ে করেন। অথচ পাঁচ দিন পরেও তারই স্বাক্ষরিত বায়োডাটায় মরিয়ম অবিবাহিত। কাবিনের খোঁজ মেলে না। তবু মেয়েকে সামনে দাঁড় করানো হয় পুরুষকে বাঁচাতে।
২০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা। সংসদ সদস্যদের আবাসিক ফ্ল্যাট এ ২০৩ নম্বর বাসার ফ্যানে ঝুলন্ত মরিয়মের দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পুলিশ বলে, এমপি ফ্ল্যাটে ছিলেন। দুপুরে দুই স্ত্রী নিয়ে খেয়েছেন বলেও খবর আসে। তদন্ত চলছে—আত্মহত্যা না হত্যা। প্রশ্ন থেমে নেই: দুই মাসের মধ্যে “স্ত্রী” থেকে লাশ হওয়ার দায় কার?
একই ছক পাঁচ বছর আগে মামুনুল হকের কেসে। ২০২১ সালে সোনারগাঁ রয়্যাল রিসোর্টে একটি মেয়ের সাথে ধরা পড়েন হেফাজত নেতা। সঙ্গের নারীকে বলেন দ্বিতীয় স্ত্রী, মামুনুল হক মিথ্যা নাম বলেন আমিনা তৈয়বা—যা তার প্রথম স্ত্রীর নাম। আসল নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা। মামুনুল হক এর ফাঁস হওয়া অডিওতে তিনি প্রথম স্ত্রীকে বলেন, পরিস্থিতির জন্য স্ত্রী বলতে বাধ্য। পরে “মানবিক বিয়ে”র গল্প। পুলিশ জানায়, দ্বিতীয়-তৃতীয় বিয়েতে কাবিন-দেনমোহর নেই। এর কিছুদিন পর ঝর্ণা নিখোঁজ হন, ঝর্নার ছেলে থানায় জিডি করেন, পরে তিনিই মামলা করেন। মামুনুল হক জেলে যান, পরে ছাড়া পেয়ে আবার রাজনৈতিক মঞ্চে ফেরেন। ঝর্ণা খবরের বাইরে মুছে যান। ঝর্ণা কি বেঁচে আছে না মারা গেছে?
মরিয়ম মরেছেন। ঝর্ণাকে নীরব করা হয়েছে। দুই ধর্মীয় দলের পরিচয়ে রাজনীতিবিদ এর দ্বিতীয় স্ত্রীদের পরিণতি আলাদা, কাজ এক—নারীর দেহ ও নাম খরচ করে ক্ষমতা বাঁচানো।
নিশ্চয় এই দুই নারীকে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার আগে অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল এই দুই রাজনীতিবিদ। কিন্তু ধরা পড়ায় তারা এও বলেছিল- এ আমার স্ত্রী।
কিন্তু শেষপর্যন্ত তারা কি স্ত্রীর মর্যাদা পেয়েছিল? নাকি করুণ পরিণতি মৃত্যুই তাদের পাওয়া।
পুরুষ তো ঘুরে দাঁড়ায়, যেমন দাঁড়িয়েছে মামুনুল হক। গাজী নজরুলও প্রায় ঘুরে দাঁড়িয়েছিল কিন্তু নারীর যে ক্ষতি হল, যে পরিণতি হল তার দায় কে নেবে?
মরিয়ম কি মরিয়া প্রমাণ করিল দ্বিতীয় স্ত্রী কেবল প্রতারণাই ছিল, নাকি ভোগের?
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment