সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী কার ন্যারেটিভ তৈরি করছেন? র ও মোসাদের?
সালাহ উদ্দিন শোয়েব চৌধুরীকে বাংলাদেশে বছরের পর বছর “মোসাদ এজেন্ট” বলা হয়। তকমাটা নতুন নয়, ২০০৩ সালের বিমানবন্দর মামলা থেকে এসেছে। কিন্তু প্রশ্নটা এখন আর শুধু পুরোনো মামলার নয়। প্রশ্নটা এই—ইদানীং তিনি কোন পক্ষের গল্প দাঁড় করাচ্ছেন, এবং সেই গল্প কার কাজে লাগছে।
তিনি সাপ্তাহিক ব্লিটজের সম্পাদক। ১৯৬৫ সালে সিলেটে জন্ম। ২০০৩ সালে ইংরেজি ট্যাবলয়েড বের করেন। শুরু থেকেই তিনি বাংলাদেশে ইসলামি জঙ্গিবাদ আছে এমন ভুয়া তথ্য দিচ্ছেন ও মাদরাসা নেটওয়ার্কের সমালোচনা এবং ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্কের পক্ষে সোচ্চার আছেন। বাংলাদেশি পাসপোর্টে ইসরায়েল নিষিদ্ধ ছিল। সেই নিষেধাজ্ঞা ভেঙে তেল আবিব যাওয়ার চেষ্টা করতে গিয়ে ২৯ নভেম্বর ২০০৩ শাহজালাল বিমানবন্দরে আটক হন। পুলিশ সিডি ও প্রজেক্ট প্রোফাইল জব্দ করে। অভিযোগপত্রেই লেখা হয়—জব্দ নথির ভিত্তিতে তিনি মোসাদ এজেন্ট। রাষ্ট্রদ্রোহ, দেশদ্রোহ ও গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ আসে। ১৭ মাস কারাবাস ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালে ঢাকার আদালত তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়। দণ্ড দেয় ৫০৫(ক) ধারায়—বিভ্রান্তিকর লেখার জন্য।
অনেকেই তাকে র বা ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার বেতনভুক এজেন্ট—দাবি করে। কেননা তার কর্মকাণ্ডে রয়েছে দীর্ঘদিনের ইসরায়েল ও ভারতপন্থী লেখা। ২০২৪-এর পর এই দুই দেশের পক্ষে বয়ান আরও জোড়ালো দেখা যাচ্ছে।
৫ আগস্টের পর তিনি বারবার একই বাক্য ব্যবহার করেন—“জিহাদিস্ট ক্যু”। দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের ডিপ স্টেট ও পাকিস্তানি আইএসআই মিলে হাসিনা সরকার ফেলেছে। ইউনূস প্রশাসনকে তিনি ইসলামিষ্ট-জিহাদি সহযোগী হিসেবে তকমা দিচ্ছেন। আল-কায়েদা, আইএস, হামাস বাংলাদেশে “কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে বারবার প্রশ্ন তুলছেন। ভারতীয় চ্যানেলে বারবার বলেন, বাংলাদেশ জঙ্গি হাব হয়ে উঠছে, ভারতের নিরাপত্তা হুমকির মুখে। হাসিনাকে “জিহাদিদের হাতে তুলে দেওয়া যাবে না”—এই লাইনও তাঁর মুখে শোনা গেছে।
এই ন্যারেটিভে দুই পক্ষ লাভবান হচ্ছে-
এক, পলাতক শেখ হাসিনা। তাঁর শাসনকে জঙ্গিবাদ দমনের শেষ ব্যারিকেড হিসেবে দাঁড় করান এই সালাউদ্দিন। অভ্যুত্থানকে জনরোষ না বলে বিদেশি-জিহাদি ষড়যন্ত্র বলছেন তিনি।
দুই, ভারতের নিরাপত্তা আলোচনা। বাংলাদেশকে সন্ত্রাসী রাষ্ট্রের ছাঁচে ফেললে হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া, সীমান্ত নীতি ও আঞ্চলিক চাপ—সবকিছুর যৌক্তিকতা তৈরি হয়। তিনি নিয়মিত ভারতীয় মিডিয়ায় সেই যোগান দেন।
২০২৫ সালের জুনে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং নাম ধরে বলে, তিনি বাংলাদেশ ও অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়াচ্ছেন। ফ্যাক্ট-চেকাররা আগেও তাঁর একাধিক পোস্ট ভুল বলে চিহ্নিত করেছে। অর্থাৎ বিতর্ক শুধু রাজনৈতিক তকমায় সীমাবদ্ধ নয়।
অনেকে বলেন ব্লিটজ তার কোনো ইনকাম সোর্স নয়। এটি নামমাত্র পত্রিকা। মূল আয় তার গোয়েন্দা সংস্থার বেতন। এই বেতন হয় তার ন্যারেটিভের মাধ্যমে। প্রতিদিন তিনি যে পরিমাণ অনলাইন টকশো ও বক্তব্য প্রদান করে বিভ্রান্তি ছড়ান তা মোসাদ ও ভারতের র করে থাকে। অনলাইন একটিভিস্ট হিসেবে তাদের ন্যারেটিভ উৎপাদনকারী তিনি।
এই সালাউদ্দিন শোয়েব চৌধুরী এখন পলাতক হাসিনা ও ভারতীয় কৌশলগত আখ্যানের জন্য বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে উপস্থাপন করছেন। গুপ্তচরবৃত্তি মানে শুধু গোপন নথি পাচার নয়। জনমত ও আন্তর্জাতিক ধারণা তৈরিও এক ধরনের কাজ। সেই কাজে তিনি কার পক্ষে দাঁড়িয়েছেন—সেটা তাঁর সাম্প্রতিক লেখা ও টেলিভিশন উপস্থিতিই বলে দেয়।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment