দেশদ্রোহী আওয়ামী এজেন্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কে কতটুকু চেনেন?

0

 দেশদ্রোহী আওয়ামী এজেন্ট চিন্ময় কৃষ্ণ দাস কে কতটুকু চেনেন? 

সাবেক ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ২০২৩ সালে একটা ইসকন মন্দিরে দায়িত্ব পালন করা অবস্থায় একাধিক অনাথ শিশুকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে। পরে বিষয়টা জানাজানি হয়ে গেলে মন্দির কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে এর সত্যতা পায় এবং তাকে মন্দিরের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। একই বছর, ২০২৩ সালের ৬ অক্টোবর, শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে ইসকন যুক্তরাজ্যের আন্তর্জাতিক শিশু সুরক্ষা কার্যালয় (সিপিটি) চিন্ময়ের উপর ৫টি নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল- ১৮ বছরের নিচে কারও সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন না, নারী ও শিশুদের থেকে দূরত্বে থাকতে হবে, এবং ইসকন সংশ্লিষ্ট কোনো মন্দিরে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না, এবনফ কোনো পদপদবীও গ্রহণ করতে পারবে না। ইসকন কর্তৃক তার উপর এই নিষেধাজ্ঞা এখনো জারি আছে। এমনকি গ্রেফতার হওয়ার মাত্র ৩ দিন পর, ২৮ নভেম্বর, ইসকন সংবাদ সম্মেলন করে জানায় যে শিশু যৌন নিপীড়নের অভিযোগে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। অতএব তার কোনো অপরাধের দায় তারা নেবে না।

এবার আসা যাক আওয়ামী লীগের পতন ও চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নতুন করে উত্থানের বিষয়ে। ঘটনা নতুন করে মোড় নেয় ২০২৪ সালে আওয়ামী লীগের পতনের পর। চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের নেতৃত্বে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যরা ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে আট দফা দাবিতে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দানে একটি সমাবেশ করে। সেখানে তারা বিভিন্ন দাবিদাওয়া পেশ করে। লালদীঘি ময়দানের সমাবেশের পর দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এক অনুষ্ঠানে ইসকনকে নিয়ে বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি বলেছিলেন: "ইসকনের মতো একটা সাম্প্রদায়িক ও 'র'-এর একটি সংগঠন চট্টগ্রামে এত বড় সভা করে। ইসকনের মধ্যে দেখবেন ছাত্রলীগ-যুবলীগের গুণ্ডারা বসে আছে।"

এদিকে মাহমুদুর রহমানের বক্তব্য চট্টগ্রামের হিন্দু-অধ্যুষিত হাজারী গলির এক মুসলিম ব্যবসায়ী ফেসবুকে শেয়ার করলে, উক্ত পোস্টকে কেন্দ্র করে একদল ইসকন সমর্থক তাঁর দোকানে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। এর পরের দিন ওসমান আলী নামে এক মুসলিম ব্যবসায়ী ইসকনকে "সন্ত্রাসী সংগঠন" উল্লেখ করে ফেসবুকে একটি পোস্ট শেয়ার করেন। এতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ইসকন সমর্থকেরা ওই ব্যবসায়ীর দোকানে গিয়ে তাকে মারধর করে, দোকানে হামলা ও ভাঙচুর করে। ফেসবুকে পোস্ট করা ব্যক্তিকে উদ্ধার করে থানায় পৌঁছে দিতে পুলিশ ও সেনা সদস্যদের একটি যৌথ দল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। এসময় ইসকন সমর্থকেরা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। যৌথ বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদের ভাষ্যমতে, ইসকন সমর্থক আন্দোলনকারীরা অভিযানের সময় সেনা সদস্যদের উপর ইট এবং গয়নার কাজে ব্যবহৃত অ্যাসিড নিক্ষেপ করলে ঘটনাস্থলে পাঁচজন সেনা কর্মকর্তাসহ সাতজন পুলিশ সদস্য আহত হন। মনে করা হয়, এসবের পেছনে কলকাঠি নাড়াচ্ছিল চিন্ময় কৃষ্ণ দাস।

হাসিনার ভারতে পলায়নের পর চিন্ময় দাস বিভিন্ন সভা-সমাবেশের পাশাপাশি ঘনঘন ভারতে সফর করা শুরু করেন। ২০২৪ সালের ২৫শে নভেম্বর চিন্ময়কে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ ঢাকা বিমানবন্দর থেকে ভারতে পলায়নের পথে গ্রেপ্তার করে। তার পাসপোর্টের তথ্য থেকে জানা যায়, আওয়ামী লীগের পতনের পর থেকে গ্রেফতার হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রায় চার মাসে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ভারতে ১০ বারেরও বেশি সফর করেন। এনএসআইয়ের হাতে থাকা তথ্যমতে, চিন্ময় দাস বিজেপির উস্কানি ও 'র'-এর ষড়যন্ত্রে "হিন্দু নির্যাতন বন্ধের প্রতিবাদ" ব্যানারে চট্টগ্রাম থেকে কয়েক লক্ষ সনাতনী হিন্দু ও হিন্দু বেশধারী আওয়ামী লীগ কর্মীকে সাথে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে লংমার্চের পাঁয়তারা করছিলেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল লংমার্চ করে দেশে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে অন্তর্বর্তী সরকারের পতন ঘটিয়ে আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনা। ভাগ্য ভালো, লংমার্চের আগেই পুলিশ তাকে ভারতে পলায়নকালে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।

গ্রেফতারের পর দেশে ঘটে আরেক ন্যাক্কারজনক ঘটনা। গ্রেফতারের পরদিন চিন্ময়কে চট্টগ্রাম আদালতে তোলা হয় এবং আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এ খবর পেয়ে তার অনুসারীরা মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং তাকে কারাগারে নিয়ে যেতে বাধা দেয়। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পুলিশ লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস, সাউন্ড গ্রেনেড ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পরে আদালত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় এক আইনজীবীর চেম্বার ভাঙচুর করে। এছাড়া বিক্ষোভকারীরা আদালত মসজিদ কমপ্লেক্সের উদ্দেশ্যে অনবরত ঢিল ছুড়তে থাকলে মসজিদের কাঁচ ভেঙে যায়।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আদালতের বিপরীতে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ও ইসকনের সমর্থকরা আইনজীবী আলিফকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। ইসকন সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় এবং একইসাথে ফেসবুকে গুজব সার্কুলেট করতে থাকে। তাদের সাথে ভারতীয় গণমাধ্যম গুজব ছড়াতে থাকে যে চিন্ময় দাসের নিজের আইনজীবীকে হত্যা করা হয়েছে। ইন্ডিয়ান গণমাধ্যমের বরাতে রয়টার্সও এই গুজবকে নিউজ করে ফেলে। তবে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি আর ঢেকে রাখা যায়নি। ইতিমধ্যে আইনজীবী আলিফকে হত্যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। উক্ত ভিডিও ফুটেজ দেখে আলিফ হত্যায় জড়িত মোট ৭ জনকে পরবর্তীতে গ্রেফতার করা হয়। তারা হলেন রুমিত দাশ, সুমিত দাশ, গগন দাশ, নয়ন দাশ, বিশাল দাশ, আমান দাশ ও মনু মেথর।

চিন্ময় কৃষ্ণ দাস হয়তো শিগগিরই মুক্তি পাবেন। তার মায়ের মৃত্যু তার জামিনকে আরেকটু ত্বরান্বিত করেছে। আমরা হয়তো শহীদ আলিফ হত্যার সঠিক বিচারটা পাবো না। তবে চোখের সামনে একটা বলাৎকারবাজ, দেশদ্রোহী, সাম্প্রদায়িক খুনিকে ভিকটিম হয়ে ওঠার ট্রান্সফরমেশন দেখাটা আমাদের জন্য বিব্রতকর। আরও বিব্রতকর, দেশের হিন্দু সম্প্রদায় চিন্ময় দাসকে সাম্প্রদায়িকতা আর হিন্দু বিদ্বেষের মলাটে মুড়ে সেলিব্রেট করছে সেটা দেখা।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team