🚨 বিতর্কিত সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর মিথ্যাচার ও বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র প্রমাণের অপচেষ্টা উন্মোচিত!

 🚨 বিতর্কিত সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর মিথ্যাচার ও বাংলাদেশকে জঙ্গি রাষ্ট্র প্রমাণের অপচেষ্টা উন্মোচিত!

নবনীতা চৌধুরীর চ্যানেলে সাম্প্রতিক ভিডিওতে (“বাংলাদেশে সরকার বদলের অজুহাত খুঁজছে আমেরিকা?”) শোয়েব চৌধুরী আবারও একই পুরনো গান গেয়েছেন:

“বাংলাদেশে হামাসের অ্যাকটিভিটি চলছে, আইএসের পতাকা উড়ছে, সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা সামলাতে পারছে না!”

একজন ব্যক্তি যিনি নিজেকে “জঙ্গিবাদ বিরোধী গবেষক” বলে দাবি করেন, তিনি আসলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করে যাচ্ছেন। এটা কোনো নতুন ঘটনা নয়। এটি তাঁর দীর্ঘদিনের অভ্যাস।

শোয়েব চৌধুরীর মিথ্যাচার ও বিতর্কিত অতীতের প্রমাণসমূহ:

🔴 অর্থ আত্মসাতের দণ্ড (২০১৫): ঢাকার আদালত তাঁকে ৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয় প্রায় ৬৯ লাখ টাকা আত্মসাতের মামলায়। তাঁর ব্যবসায়িক পার্টনারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। তাঁর স্ত্রীও জড়িত ছিলেন কিন্তু খালাস পান।

🔴 রাষ্ট্রদ্রোহ ও সেডিশন মামলা (২০১৪): ৭ বছরের কারাদণ্ড হয়। ২০০৩ সালে ইসরায়েল যাওয়ার চেষ্টায় ঢাকা বিমানবন্দরে গ্রেপ্তার। পুলিশ তাঁর কাছে ইসরায়েলি সংস্থার সাথে সম্পর্কিত ডকুমেন্ট পায় এবং মোসাদ এজেন্ট অভিযোগ ওঠে। তিনি ইসরায়েলে মিডিয়া প্রকল্পের জন্য কোটি কোটি টাকা চেয়েছিলেন বলে অভিযোগ।

🔴 ইহুদি সমর্থকদের সাথে প্রতারণা: অনেক প্রো-ইসরায়েল গ্রুপ (যেমন Root and Branch Association) তাঁকে বহিষ্কার করে। অভিযোগ — তিনি আবেগপ্রবণ একাকী ইহুদি নারীদের কাছ থেকে হাজার হাজার ডলার আত্মসাৎ করেছেন। অনেকে তাঁকে “total fraud” বলে অভিহিত করেছেন।

🔴 ডিসইনফরমেশন ও অপতথ্য: উইকিপিডিয়া ও আন্তর্জাতিক ফ্যাক্ট-চেকাররা তাঁকে বারবার মিথ্যা তথ্য ছড়ানোর জন্য অভিযুক্ত করেছে। সাম্প্রতিককালেও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং তাঁর বিরুদ্ধে অপতথ্য ছড়ানোর অভিযোগ তুলেছিল।

তিনি Weekly Blitz-এর মাধ্যমে নিয়মিত অতিরঞ্জিত, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত খবর প্রকাশ করেন। আওয়ামী লীগ আমলে সরকারি ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিতেন, এখন বিএনপি সরকারের ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একই কায়দায় আক্রমণ করছেন।

নবনীতা চৌধুরীর ভূমিকা:

একজন দণ্ডিত, বিতর্কিত ব্যক্তিকে প্ল্যাটফর্ম দিয়ে একতরফা ন্যারেটিভ ছড়ানো হচ্ছে। উদ্দেশ্য স্পষ্ট — বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা, সেনাবাহিনী ও দেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং আন্তর্জাতিকভাবে বাংলাদেশকে কোণঠাসা করা।

বাস্তবতা কী? বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ, এদেশের একটা বড় অংশ মাদ্রাসায় পড়াশোনা করে। সেখানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতা ও কালচারাল একটিভিটিজ হয়। কালিমালেখা ব্যানার বা আরবী লেখা সমৃদ্ধ ব্যানার কোনো উগ্রবাদী আচরণ নয়। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমস্যা ঐতিহাসিকভাবে আছে, কিন্তু পুরো দেশকে “আফগানিস্তানের দিকে যাচ্ছে” বলে চিত্রিত করা রাজনৈতিক অপপ্রচার। এতে দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগ ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

আমাদের করণীয়: মিথ্যা ন্যারেটিভ প্রত্যাখ্যান করুন। সত্য তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে কথা বলুন। দেশের স্বার্থ রক্ষায় সচেতন হোন। 🇧🇩

#সালাহউদ্দিন_শোয়েব_চৌধুরী #নবনীতা_চৌধুরী #মিথ্যাচার_উন্মোচন #বাংলাদেশ_জঙ্গি_নয় #অপতথ্য #সত্য_প্রকাশ #Disinformation

🚨 বিতর্কিত সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর মিথ্যাচার আবারও ধরা পড়ল!

 🚨 বিতর্কিত সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর মিথ্যাচার আবারও ধরা পড়ল!

নবনীতা চৌধুরীর চ্যানেলে ভিডিওতে তিনি বলছেন — বাংলাদেশে হামাসের অ্যাকটিভিটি, আইএসের পতাকা উড়ছে, সেনাবাহিনী আইনশৃঙ্খলা সামলাতে পারছে না!

একজন ব্যক্তি যিনি নিজেকে “জঙ্গিবাদ বিরোধী” বলে দাবি করেন, তিনি আসলে বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক মহলে জঙ্গি রাষ্ট্র হিসেবে প্রমাণ করার চেষ্টা করছেন।

তাঁর বিতর্কিত অতীত:

  • প্রতারণা (fraud) ও অর্থ আত্মসাতের মামলায় দণ্ডিত
  • ইসরায়েলে যাওয়ার চেষ্টায় মসাদ এজেন্ট অভিযোগে গ্রেপ্তার ও সেডিশন মামলা
  • ইহুদি সমর্থকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে প্রতারণার অভিযোগ
  • Weekly Blitz-এর মাধ্যমে অতিরঞ্জিত ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নিউজ প্রকাশ

নবনীতা চৌধুরী এই ধরনের বিতর্কিত ব্যক্তিকে তার অনলাইন প্ল্যাটফর্ম দিয়ে একতরফা ন্যারেটিভ ছড়াচ্ছেন। উদ্দেশ্য স্পষ্ট — বর্তমান সরকার ব্যবস্থা ও সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করা এবং দেশকে আন্তর্জাতিকভাবে কোণঠাসা করা।

বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন সমস্যা ও সংকট থাকতে পারে, কিন্তু তা নিয়ে রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্য পুরো দেশকে জঙ্গি আখ্যা দেওয়া মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়!

সচেতন হোন। মিথ্যা ন্যারেটিভ প্রত্যাখ্যান করুন।

দেশের ভাবমূর্তি রক্ষায় সত্য তথ্য ছড়িয়ে দিন। 🇧🇩

#সালাহউদ্দিন_শোয়েব_চৌধুরী #নবনীতা_চৌধুরী #মিথ্যাচার #বাংলাদেশ_জঙ্গি_নয় #সত্য_প্রকাশ

রামগড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের গোলাগুলি, একজন নিহত, একজন আহত

রামগড়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে ইউপিডিএফ (প্রসিত) গ্রুপের গোলাগুলি, একজন নিহত, একজন আহত

খাগড়াছড়ির রামগড় উপজেলার তৈকাথান এলাকায় আজ (২৪ জুন) সকালে সেনাবাহিনী ও আঞ্চলিক সশস্ত্র সংগঠন ইউপিডিএফ (প্রসিত) এর সশস্ত্র গ্রুপের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এতে ইউপিডিএফের একজন সদস্য নিহত এবং অপর একজন আহত হয়েছেন। আহত ব্যক্তিকে সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, আজ বুধবার সকাল আনুমানিক সাড়ে ১০টার দিকে তৈকাথান এলাকায় এ গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থল থেকে সেনাবাহিনী একটি একে-৪৭ রাইফেল উদ্ধার করেছে।

নিহত ব্যক্তির নাম ববিন ত্রিপুরা। তিনি রামগড় উপজেলার মাজারা টিলা গ্রামের বাসিন্দা। আহত সুনিল ত্রিপুরা রামগড় উপজেলার দাতারাম পাড়া গ্রামের বাসিন্দা। তার বাবার নাম কমল বিকাশ ত্রিপুরা এবং মায়ের নাম তিরবালা ত্রিপুরা। আহত সুনিল বর্তমানে সেনা হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করছে।

বাংলাদেশে সরকার বদলের অজুহাত খুঁজছে আমেরিকা? — সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর ন্যারেটিভের একটি বিশ্লেষণাত্মক কাউন্টার-ন্যারেটিভ।

নবনীতা চৌধুরীর চ্যানেলে সালাহউদ্দিন শোয়েব চৌধুরীর সাম্প্রতিক আলোচনায় (ভিডিও শিরোনাম: “বাংলাদেশে সরকার বদলের অজুহাত খুঁজছে আমেরিকা?”) তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে সন্দেহের চোখে দেখিয়েছেন এবং বাংলাদেশে হামাসের অ্যাকটিভিটি, আইএসের পতাকা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির জন্য সেনাবাহিনী/সেনাপ্রধানকে দায়ী করেছেন। এটি তাঁর দীর্ঘদিনের পরিচিত অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ — তিনি জঙ্গিবাদ-বিরোধী গবেষক হিসেবে নিজেকে উপস্থাপন করেন এবং আন্তর্জাতিক চাপকে প্রায়শই “রেজিম চেঞ্জ”-এর ষড়যন্ত্র হিসেবে চিহ্নিত করেন।

কাউন্টার-ন্যারেটিভ: বাস্তবতা বনাম অজুহাত

১. হামাস ও আইএসের অ্যাকটিভিটি নিয়ে দাবি শোয়েব চৌধুরী বাংলাদেশে হামাসের উপস্থিতি এবং আইএস পতাকা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁর দীর্ঘদিনের লেখালেখিতে (Weekly Blitz-এ) তিনি ইসলামি মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তবে এই ধরনের দাবি প্রায়ই প্রমাণ-ভিত্তিক যাচাইয়ের অভাবে সমালোচিত হয়। বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা ঐতিহাসিকভাবে উপস্থিত (যেমন ২০১৬ হোলি আর্টিসান হামলা), কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন পরিস্থিতিতে এগুলোকে অতিরঞ্জিত করে উপস্থাপন করা হলে তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হয়। স্বাধীন সূত্রে (যেমন SATP বা আন্তর্জাতিক প্রতিবেদন) ব্যাপক হামাস নেটওয়ার্কের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সীমিত; এগুলো প্রায়ই স্থানীয় রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মৌলবাদী গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত।

২. সেনাবাহিনীকে দায়ী করা আইনশৃঙ্খলা সামলাতে না পারার অভিযোগ সেনাপ্রধানের বিরুদ্ধে তোলা একটি গুরুতর দাবি। বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক শূন্যতায় সেনাবাহিনীর ভূমিকা স্পর্শকাতর। শোয়েব চৌধুরীর এই সমালোচনা তাঁর “জঙ্গিবাদ বিরোধী” ইমেজকে জোরদার করতে সাহায্য করে, কিন্তু এটি একই সাথে বর্তমান অন্তর্বর্তী ব্যবস্থার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে। যদি সত্যিই নিরাপত্তার অভাব থাকে, তাহলে এটি অভ্যন্তরীণ সংকটের লক্ষণ — বিদেশি ষড়যন্ত্রের চেয়ে বেশি অভ্যন্তরীণ জবাবদিহিতার অভাবের ফল।

৩. শোয়েব চৌধুরীর নিজস্ব পটভূমি ও অভিযোগ তিনি নিজেকে জঙ্গিবাদ-বিরোধী ও ইসরায়েলপন্থী হিসেবে উপস্থাপন করেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এটি ব্যতিক্রমী, যার কারণে তিনি অতীতে কারাবরণ করেছেন (২০০৩ সালে ইসরায়েল যাওয়ার চেষ্টায় গ্রেপ্তার, মসাদ এজেন্ট অভিযোগ ইত্যাদি)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি ইসরায়েলের হয়ে কাজ করেন বা অর্থনৈতিকভাবে বিতর্কিত (ফ্রড, প্লেজিয়ারিজম ইত্যাদি অভিযোগ, যা তিনি অস্বীকার করেন)। এই অভিযোগগুলো তাঁর ন্যারেটিভের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তিনি আওয়ামী লীগ আমলে সরকারি ভাষ্যের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থান নিয়েছেন এবং এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনায় সরব।

৪. মার্কিন “অজুহাত” ন্যারেটিভের সমস্যা ভিডিওতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সরকার বদলের চেষ্টাকারী হিসেবে দেখানো হয়। কিন্তু বাস্তবে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ (ভিসা নীতি, মানবাধিকার, নির্বাচনী স্বচ্ছতা) প্রায়ই অভ্যন্তরীণ সংকটের প্রতিফলন — যেমন সুশাসনের অভাব, বিরোধী দমন, বা জঙ্গি উত্থান। একে শুধু “ষড়যন্ত্র” বলে উড়িয়ে দেওয়া সার্বভৌমত্ব রক্ষার চেয়ে বরং অভ্যন্তরীণ সমস্যা থেকে দৃষ্টি সরানোর কৌশল হতে পারে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তায় মার্কিন-সম্পর্ক গুরুত্বপূর্ণ; এটিকে শত্রুতা হিসেবে না দেখে সংস্কারের সুযোগ হিসেবে দেখা উচিত।

উপসংহার

শোয়েব চৌধুরীর আলোচনা জঙ্গিবাদের উদ্বেগকে তুলে ধরে, যা অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু এটি প্রায়ই একতরফা, রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক এবং ব্যক্তিগত/আন্তর্জাতিক অ্যাজেন্ডার সাথে যুক্ত বলে মনে হয়। বাংলাদেশের সত্যিকারের চ্যালেঞ্জ হলো অভ্যন্তরীণ গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতা, মানবাধিকার ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করা — বিদেশি ষড়যন্ত্রের অজুহাতে নয়।

এই ন্যারেটিভটি ভিডিওর দাবির বিপরীতে ভারসাম্যপূর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি দেওয়ার চেষ্টা। বিস্তারিত তথ্যের জন্য স্বাধীন সূত্র যাচাই করুন, কারণ এ ধরনের টকশো প্রায়ই মেরুকরণমূলক। আপনি যদি ভিডিওর ট্রান্সক্রিপ্ট, আরও বিশ্লেষণ বা অন্য কোনো অ্যাঙ্গেল চান, জানান।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: আস্থার সংকট কেন?

 "বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক: আস্থার সংকট কেন?"

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক শুধু দুটি রাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্ক নয়। এটি ইতিহাস, ভূগোল, মুক্তিযুদ্ধ, সংস্কৃতি এবং কোটি মানুষের ভাগাভাগি বাস্তবতার গল্প।

কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সেই সম্পর্ক এমন এক মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে, যেখানে আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ থাকলেও পারস্পরিক আস্থার ভিত্তি স্পষ্টভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।

প্রশ্ন হলো, এই আস্থার সংকট তৈরি হলো কেন?

গত দেড় দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক ছিল ইতিহাসের অন্যতম ঘনিষ্ঠ পর্যায়ে। সীমান্ত নিরাপত্তা, বিদ্যুৎ, বাণিজ্য, ট্রানজিট এবং আঞ্চলিক যোগাযোগে দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ভারত এই সম্পর্ক থেকে গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত সুবিধাও অর্জন করে।

কিন্তু একই সময়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি নিয়ে বিতর্কও বাড়তে থাকে। নির্বাচন, মানবাধিকার এবং রাজনৈতিক দমন-পীড়ন নিয়ে নানা অভিযোগের মধ্যেও ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের অনেক মানুষের কাছে একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক শক্তির প্রতি সমর্থন হিসেবেই প্রতীয়মান হয়।

এর ফলেই জন্ম নেয় এক গভীর জনধারণা। আর কূটনীতিতে অনেক সময় বাস্তবতার চেয়েও শক্তিশালী হয়ে ওঠে এই জনধারণাই।

বর্তমান সংকটের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান। একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আশ্রয় দেওয়া আন্তর্জাতিক সম্পর্কের স্বাভাবিক বিষয় হতে পারে। কিন্তু যদি সেই আশ্রয় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়, তাহলে প্রতিবেশী দেশের মানুষের মনে স্বাভাবিকভাবেই নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

একই সময়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ভারতের কিছু গণমাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু রাজনৈতিক মহল থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা বিতর্কিত ও অতিরঞ্জিত প্রচারণা ছড়িয়ে পড়ে। এসব ঘটনা বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে অবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়।

সীমান্তেও দেখা যায় নতুন উত্তেজনা। কথিত পুশ-ইন, সীমান্তে চাপ সৃষ্টি এবং নিরাপত্তাকেন্দ্রিক নানা পদক্ষেপ বাংলাদেশের জনগণের একাংশের কাছে বন্ধুত্বের চেয়ে চাপের বার্তা হিসেবেই প্রতিফলিত হয়েছে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ আজ বহুমাত্রিক পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করতে চায়। চীন, জাপান, মালয়েশিয়া, তুরস্ক কিংবা ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বাভাবিক অধিকার। এটিকে ভারতবিরোধী অবস্থান হিসেবে দেখার সুযোগ খুবই সীমিত।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি হয়তো এখানেই।

ভারত কি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ রাষ্ট্র এবং একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলকে একই দৃষ্টিতে দেখতে অভ্যস্ত হয়ে পড়েছিল?

কারণ রাষ্ট্র থাকে, সরকার বদলায়। কিন্তু জনগণের সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে।

তবে এই সংকটের দায় একতরফা নয়। বাংলাদেশকেও আইনের শাসন, সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং দায়িত্বশীল কূটনীতি নিশ্চিত করতে হবে।

তবুও বাস্তবতা হলো, দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম শক্তি হিসেবে ভারতের ওপর প্রত্যাশাও তুলনামূলকভাবে বেশি।

সম্পর্ক পুনর্গঠন করতে হলে ভারতকে দেখাতে হবে, তাদের বন্ধুত্ব কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়, বাংলাদেশের জনগণ এবং রাষ্ট্রের সঙ্গে।

কারণ ভূগোল বদলানো যায় না। বাংলাদেশ ও ভারত চিরকাল প্রতিবেশীই থাকবে।

তাই ভবিষ্যতের প্রশ্ন একটাই।

এই সম্পর্ক কি অবিশ্বাস, সন্দেহ এবং আধিপত্যের ভিত্তিতে এগোবে?

নাকি পারস্পরিক সম্মান, সমতা এবং আস্থার ওপর দাঁড়িয়ে দুই দেশ নতুন এক অধ্যায় শুরু করবে?

সেই উত্তরই নির্ধারণ করবে দক্ষিণ এশিয়ার আগামী দিনের কূটনৈতিক বাস্তবতা।

কেএনএফ পরিচালিত মিডিয়া পেইজে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

 


কেএনএফ পরিচালিত মিডিয়া পেইজে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচার

কেএনএফ সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী পরিচালিত ‘KTC Today Media’ নামক ফেসবুক পেইজে গতকাল (২৩ জুন ২০২৬) রুমা উপজেলার ৩ নং রেমাক্রি প্রাংশা ইউনিয়নের সুসং পাড়া এলাকা থেকে দুইজন নিরীহ গ্রামবাসীকে সেনাবাহিনী কর্তৃক গ্রেফতারের বানোয়াট ও ভিত্তিহীন খবর প্রচার করেছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যাচার বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন ও সেনাবাহিনী সূত্র।

রুমা জোন ও আলীকদম জোনের আওতাধীন সংশ্লিষ্ট সেনা ক্যাম্পসমূহ (সুসংপাড়া সেনা ক্যাম্পসহ) এবং পাড়া এলাকায় বিশ্বস্ত স্থানীয় সূত্রে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত করা গেছে যে, ২৩ জুন তারিখে সুসং পাড়া বা আশপাশের এলাকায় সেনাবাহিনী কর্তৃক কোনো ব্যক্তিকে আটক করা হয়নি। এ ধরনের কোনো ঘটনাই ঘটেনি।

কেএনএফের ধারাবাহিক মিথ্যাচারের ধরন-

সম্প্রতি কেএনএফ তাদের বিভিন্ন মিডিয়া পেইজের মাধ্যমে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একের পর এক ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য:

  • ৯ জুন রুমা জোনের উপ-অধিনায়কের নামে মিথ্যা খবর।
  • ১১ জুন রুমা জোন কমান্ডারের নামে মিথ্যাচার।
  • ২২ জুন রুমা পাইন্দু ইউপির মূননুয়াম পাড়াসহ আশপাশের এলাকায় চলাচলের নিষেধাজ্ঞার ভুয়া খবর।

পলাতক বম পরিবার ফেরত আসার আশঙ্কায় ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টা

সূত্রমতে, বিগত দিনে সেনা অভিযানের ভয়ে রুমা উপজেলার অনেক বম পরিবার মিজোরামে পালিয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে সরকার ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আহ্বানে অনেক পরিবার ইতিমধ্যে দেশে ফিরে এসেছে এবং আরও অনেকে ফিরে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে কেএনএফ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী সাধারণ বম জনগোষ্ঠীর মনে সেনাবাহিনী সম্পর্কে ভয়-ভীতি ও আতঙ্ক সৃষ্টি করে মিজোরাম থেকে আর কাউকে দেশে ফিরতে না দেয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সুসং পাড়ার ঘটনা এই একই ধারাবাহিক অপপ্রচারের অংশ।

স্থানীয় জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনী রুমা উপজেলাসহ পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। জনগণকে এ ধরনের গুজব ও মিথ্যা তথ্য থেকে সতর্ক থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যেকোনো সত্য তথ্য জানতে আগ্রহী ব্যক্তি বা গ্রামবাসী সরাসরি নিকটস্থ সেনা ক্যাম্প বা প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করতে পারবেন।

এটাই কার্যক্রম নিষিদ্ধ ওয়ামী লীগের চরম বৈশিষ্ট্য — মিথ্যা, গুজব আর পুরোনো ভিডিওর ভরসায় টিকে থাকা

২৩ জুন ছিল আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। কিন্তু এই দিনে তাদের কর্মীরা খোলাখুলি কোনো বড় সমাবেশ বা মিছিল করার সাহস পায়নি। কারণ জনগণের সামনে মুখ দেখানোর যোগ্যতা তাদের আর অবশিষ্ট নেই। তাই নিঝুম মজুমদারসহ আরও অনেকে পুরোনো ভিডিও ও ছবি ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে দিচ্ছে। যেন এই পুরোনো ফুটেজ দেখিয়ে জনগণকে বোঝানো যাবে যে, তাদের এখনও শক্তি আছে।


বাস্তবতা কিন্তু একেবারে ভিন্ন।
২০২৪ এর বছরের জুলাই-আগস্টে এই আওয়ামী লীগ সরকার ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের সামনে নির্মমভাবে গুলি চালিয়েছে। প্রায় ১৪০০ নিরীহ ছাত্র ও সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে। রক্তাক্ত রাস্তায় লাশ পড়ে থাকতে দেখেও তাদের দম্ভ কমেনি। কিন্তু ৫ আগস্ট সেই দম্ভের চূড়ান্ত পতন ঘটেছে। শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। তাঁর সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতা-কর্মীরাও আজ পলাতক, গ্রেপ্তার এড়িয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। যে দল একসময় ক্ষমতার দম্ভে দেশ শাসন করত, আজ তারা চোরাগোপ্তা মিছিল আর অনলাইন গুজব ছাড়া আর কিছুই করতে পারছে না।
এখন তাদের একমাত্র ভরসা অনলাইনে গুজব ছড়ানো। পুরোনো ভিডিওতে নতুন তারিখের ক্যাপশন লাগিয়ে, এডিট করে, বা সম্পূর্ণ মিথ্যা কনটেক্সট দিয়ে পোস্ট করা — এটাই তাদের নতুন রণকৌশল। কিন্তু জনগণ আর এসব মিথ্যায় ভুলছে না। সবাই দেখছে — যে দল জনগণের রক্তে হাত রাঙিয়েছে, আজ সেই দলই লুকিয়ে-ছাপিয়ে ছোট ছোট ঝটিকা মিছিল করে আর পুরোনো ফুটেজ ছড়িয়ে নিজেদের অস্তিত্ব জাহির করার চেষ্টা করছে।
এই পলাতক দলের আর কোনো ভিত্তি নেই। জনগণের ঐক্যবদ্ধ শক্তির কাছে তাদের সব দম্ভ ভেঙে পড়েছে। ৫ আগস্টের পর থেকে তারা আর জনসমর্থনের মুখোমুখি হতে পারছে না। তাই অনলাইনেই তাদের যুদ্ধ — গুজবের যুদ্ধ। কিন্তু এই যুদ্ধও তাদের বাঁচাতে পারবে না।জনগণ সজাগ। জনগণ সতর্ক।
আওয়ামী লীগের এই মিথ্যা প্রচার আর চলবে না।

© all rights reserved
made with by templateszoo