দ্বিতীয় বিপ্লবের স্বপ্ন: কালেমা পতাকা ও পলাশবাড়ীর রাম মন্দির — একই সূত্রে গাঁথা ষড়যন্ত্র?

0

 দ্বিতীয় বিপ্লবের স্বপ্ন: কালেমা পতাকা ও পলাশবাড়ীর রাম মন্দির — একই সূত্রে গাঁথা ষড়যন্ত্র?

সম্প্রতি বাংলাদেশের রাজনৈতিক-সামাজিক আকাশে দুটি ঘটনা একসাথে উড়ছে — একদিকে কালেমা খচিত কালো-সাদা পতাকার মিছিল, অন্যদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট রাম মূর্তি নির্মাণের বিতর্ক। আপাতদৃষ্টিতে এগুলো বিপরীত মেরুর, কিন্তু গভীরে তলিয়ে দেখলে মনে হয় এরা একই সুতোয় গাঁথা। কেউ কি এই অস্থিরতার মাধ্যমে দ্বিতীয় বিপ্লব বা ইসলামী রিভল্যুশনারি সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছে? নাকি এটা পুরনো শক্তির প্রত্যাবর্তনের পথ প্রশস্ত করার কৌশল?

একই খেলার দুই দিক

পলাশবাড়ীর মন্দির প্রকল্প নিয়ে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, তাতে স্থানীয় প্রতিবাদ, ফান্ডিংয়ের উৎস ও অনুমতির প্রশ্ন উঠেছে। একই সময়ে কালেমা পতাকা নিয়ে মিছিলে ইসলামের নামে রাজনৈতিক দাবি, খেলাফতের আওয়াজ ও উগ্রবাদী স্লোগান শোনা যাচ্ছে। মাদ্রাসা-ভিত্তিক ছাত্র-যুবকদের ব্যবহার করে এসব কর্মসূচি চালানো হচ্ছে।

যারা ধর্মকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানায়, তারা সুবিধামতো একদিকে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বাড়ায়, অন্যদিকে ধর্মীয় অনুভূতির নামে জনগণকে উসকে দেয়। এই দুই ইস্যু একসাথে চললে দেশে অরাজকতা তৈরি হয়, সরকার চাপে পড়ে এবং আইন-শৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে। ফলে কারও কারও স্বপ্ন — ইসলামী বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন ধরনের সরকার গঠন — বাস্তবায়িত হতে পারে। আবার কেউ কেউ এই অস্থিরতাকে ব্যবহার করে পূর্ববর্তী শাসকের (হাসিনা আমলের) প্রত্যাবর্তনের পথ তৈরি করতে চায়।

এখানে বহিরাগত প্রভাবও উড়িয়ে দেওয়া যায় না। প্রতিবেশী দেশের স্বার্থ, ভিসা-কূটনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অভ্যন্তরীণ এজেন্টদের সমন্বয় এই খেলাকে আরও জটিল করে তুলছে। যারা এসব চালাচ্ছে, তারা প্রকৃত ধর্মপ্রাণ মানুষ নয় — সুবিধাবাদী ধর্ম ব্যবসায়ী, যারা দেশের স্থিতিশীলতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলছে।

সরকারের উচিত কী?

এই দুই ইস্যুকে আলাদা করে দেখার সুযোগ নেই। পতাকাকাণ্ডপলাশবাড়ী রাম মন্দির ইস্যু সৃষ্টিকারীদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনা উচিত।

  • যারা কালেমা পতাকার নামে উগ্রবাদী মিছিল করে জনগণকে বিভ্রান্ত করছে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা।
  • মন্দির নির্মাণের পেছনের ফান্ডিং, অনুমতি ও রাজনৈতিক যোগসূত্র তদন্ত করা।
  • মুফতি হারুন আল ইজহারসহ যারা এ ধরনের কর্মকাণ্ডে নির্দেশনা দিচ্ছেন বলে অভিযোগ, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ ও আইনি প্রক্রিয়ায় আনা।
  • সামগ্রিকভাবে ধর্মের নামে রাজনীতি ও সাম্প্রদায়িক উস্কানির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।

সরকার যদি এখনই হার্ডলাইনে না যায়, তাহলে এই অস্থিরতা আরও বড় আকার ধারণ করবে। অস্ত্রের ব্যবহার, গণ্ডগোল ও বহিরাগত হস্তক্ষেপের ঝুঁকি বাড়বে। প্রশাসন, মিলিটারি ও পুলিশকে ঢেলে সাজিয়ে নাগরিকত্ব যাচাইসহ অভ্যন্তরীণ জঞ্জাল পরিষ্কার করতে হবে।

শেষ কথা

বাংলাদেশের জনগণ ধর্মীয় সম্প্রীতি চায়, উগ্রবাদ চায় না। যে কেউ যার ধর্ম চর্চা করুক — কিন্তু দেশকে অস্থির করে ক্ষমতার খেলা খেললে ক্ষমা নেই। এই দুই ইস্যু যদি সত্যিই একই সূত্রে গাঁথা হয়, তাহলে তদন্ত করে পুরো নেটওয়ার্ক উন্মোচিত করা জরুরি।

সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি — এখনই কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিন। দেশের স্থিতিশীলতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের শান্তি আপনাদের হাতে। দেরি হলে বিপদ আরও বড় হবে। জনগণ সতর্ক আছে — আপনারাও সতর্ক হোন।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo