BIMSTEC-এর আনুষ্ঠানিক বৈঠক নিয়ে নবনীতার মিথ্যাচার

0

 BIMSTEC-এর আনুষ্ঠানিক বৈঠক নিয়ে নবনীতার মিথ্যাচার


নবনীতা চৌধুরীর ভিডিওতে “দিল্লিতে তারেকের দূত” বলে যে নাটকীয় ও ষড়যন্ত্রমূলক বয়ান দেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর। বাস্তবে ১৫-১৬ জুলাই নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত BIMSTEC জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম। এটি কোনো ব্যক্তিগত দূতের সফর নয়, বরং আন্তর্জাতিক আঞ্চলিক সম্মেলন। বাংলাদেশ বর্তমানে BIMSTEC-এর চেয়ারম্যান হিসেবে এই বৈঠকে স্বাভাবিকভাবেই অংশ নিয়েছে।


*ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম ও ANI-এর রিপোর্টে এই বৈঠকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।* ভারতের পক্ষ থেকে কিছু ছবিও শেয়ার করা হয়েছে। নবনীতা যেভাবে “শুধু ছবি তুলেছে, মিটিং হয়নি” বলে মিথ্যাচার করছেন, তা সত্যের অপলাপ। এটি নিরাপত্তা প্রধানদের বৈঠক, তাই সব তথ্য-বিস্তারিত মিডিয়ায় আসবে না — এটাই স্বাভাবিক কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।


নবনীতা ইনিয়ে-বিনিয়ে বলার চেষ্টা করেছেন যে তারেক রহমান সম্পর্ক “গলানোর” জন্য শামসুল ইসলামকে পাঠিয়েছেন। এটাও সম্পূর্ণ ভুল। তিনি কোনো ব্যক্তিগত দূত হিসেবে যাননি। এটি BIMSTEC সম্মেলন, যেখানে ভারত, বাংলাদেশ ছাড়াও মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড, নেপাল ও ভুটানের নিরাপত্তা উপদেষ্টা বা সমমর্যাদার প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এখানে সব দেশের প্রতিনিধিরাই আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সন্ত্রাসবাদ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও সামুদ্রিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন।


বাংলাদেশের এই অংশগ্রহণ আসলে দেশের জন্য ইতিবাচক। এতে কূটনৈতিক চ্যানেল খোলা রাখা সম্ভব হয়েছে, BIMSTEC চেয়ারম্যান হিসেবে নেতৃত্ব জোরদার হয়েছে এবং সীমান্ত, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, HADR, জ্বালানি ও সাইবার নিরাপত্তায় আঞ্চলিক সহযোগিতার সুযোগ তৈরি হয়েছে। নবনীতার মতো একপেশে ব্যাখ্যা দিয়ে এসব জাতীয় স্বার্থকে খাটো করা ঠিক নয়।


রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য সবকিছুকে সন্দেহের চোখে দেখা এবং মিথ্যাচার করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানো দুর্ভাগ্যজনক। বাংলাদেশের স্বার্থে আঞ্চলিক সম্মেলনে সক্রিয় অংশগ্রহণ ও কার্যকর কূটনীতি চালিয়ে যাওয়াই সঠিক পথ।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo