দিল্লিতে তারেকের দূত নয়, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় প্রতিনিধি — নবনীতার ভিডিওর মিথ্যাচারের জবাব
নবনীতা চৌধুরীর সাম্প্রতিক ভিডিওতে “দিল্লিতে তারেকের দূত! অজিত দোভালের সঙ্গে বৈঠকে কী হলো?” শিরোনামে যে সন্দেহ, ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ও একপেশে ব্যাখ্যা তুলে ধরা হয়েছে, তার স্পষ্ট জবাব প্রয়োজন। ভিডিওতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলামের সফরকে “তারেকের নিরাপত্তা উপদেষ্টার গোপন মিশন”, “ভারতের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি”, “পাকিস্তানঘনিষ্ঠ নিয়োগ” এবং “শুধু ছবি তোলা” বলে উপস্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা একেবারে ভিন্ন।
১৫-১৬ জুলাই নয়াদিল্লিতে BIMSTEC জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ বর্তমানে এই আঞ্চলিক ফোরামের চেয়ারম্যান। এই বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেন। এটি কোনো ব্যক্তিগত দূতের সফর নয়, বরং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিনিধিত্ব।
নবনীতা যে দাবি করেছেন বৈঠক হয়নি, শুধু ছবি তোলা হয়েছে — তা সঠিক নয়। ভারতীয় মিডিয়ায় এই নির্দিষ্ট বৈঠকের ছবি সীমিত প্রকাশিত হয়েছে, যা কূটনীতিতে স্বাভাবিক ঘটনা। সংবেদনশীল আলোচনার ক্ষেত্রে বিস্তারিত ছবি বা রিডআউট প্রকাশ করা হয় না। বাংলাদেশের তরফ থেকে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছে।
ভিডিওতে শামসুল ইসলামকে “পাকিস্তানঘনিষ্ঠ” বলে চিহ্নিত করে নানা অসমর্থিত অভিযোগ তোলা হয়েছে। এ ধরনের ব্যক্তিগত আক্রমণ ও ষড়যন্ত্র তত্ত্ব ছাড়া কোনো তথ্যপ্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। তিনি সরকারি দায়িত্ব পালন করছেন এবং BIMSTEC-এর মতো আঞ্চলিক প্ল্যাটফর্মে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন।
বাস্তবে এই সফর বাংলাদেশের জন্য বেশ কিছু ইতিবাচক সুযোগ তৈরি করেছে। এতে কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেও সংলাপের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা সম্ভব হয়েছে। BIMSTEC চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী হয়েছে। সীমান্ত নিরাপত্তা, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা (HADR), সন্ত্রাসবাদ ও সাইবার নিরাপত্তায় আঞ্চলিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার পথ খুলেছে। জ্বালানি নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক যোগাযোগ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
নবনীতার ভিডিওতে শেখ হাসিনার প্রত্যাবর্তন, খালেদা জিয়া, পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ইত্যাদি বিষয় জড়িয়ে যে জটিল গল্প বলা হয়েছে, তা মূল ইস্যু থেকে সরিয়ে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা মাত্র। বর্তমান সরকারের কূটনৈতিক তৎপরতাকে ব্যক্তিগত রাজনীতির লেন্স দিয়ে দেখা ঠিক নয়। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক চলে রাষ্ট্রীয় স্বার্থে, ব্যক্তির নয়।
সার্বিকভাবে, এই বৈঠক বাংলাদেশকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা কূটনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালনের সুযোগ দিয়েছে এবং ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ। রাজনৈতিক বিরোধিতার জন্য সবকিছুকে নেতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা সহজ, কিন্তু জাতীয় স্বার্থে বাস্তবতা স্বীকার করাও জরুরি। বাংলাদেশের স্বার্থে এ ধরনের আঞ্চলিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখা উচিত।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment