আবারো গ্রেপ্তার হলেন সেই প্রতারক হরিদাস: মন্দিরের আড়ালে কোটি টাকার রহস্য

0

 আবারো গ্রেপ্তার হলেন সেই প্রতারক হরিদাস: মন্দিরের আড়ালে কোটি টাকার রহস্য

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে বিশাল রামমূর্তি ও মন্দির প্রকল্পের উদ্যোক্তা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস ওরফে তাওহীদ আবারো গ্রেপ্তার হয়েছেন। সোমবার (১৩ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের মামলায় ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন। তদন্ত কর্মকর্তা ৭ দিনের রিমান্ড চাইলেও আদালত ৪ দিন মঞ্জুর করেন। এর আগে ২০২২ সালে র‍্যাব-এনএসআইয়ের হাতে প্রতারণার দায়ে গ্রেপ্তার হয়েছিলেন তিনি। এবার সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অভিযোগে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন এই বহুরূপী।

কে এই হরিদাস? বগুড়ার শিবগঞ্জের সাধারণ একজন মানুষ। শিক্ষাগত যোগ্যতা মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণি। ছোটবেলায় ভারতে গিয়ে কিছু প্রশিক্ষণ নিয়ে দেশে ফিরে এসি মেকানিক ও সবজি বিক্রেতার কাজ করতেন। ২০১৮ সালেও তিনি দরিদ্র শ্রমজীবী ছিলেন। হঠাৎ ২০১৯ সালে ধর্মান্তরিত হয়ে তাওহীদ ইসলাম নাম নেন এবং এক মুসলিম নারীকে বিয়ে করেন। এরপর থেকেই তার জীবনে রাতারাতি পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের প্রটোকল অফিসার সেজে ভুয়া নথি ও এডিটেড ছবি ব্যবহার করে চাকরি, টেন্ডার ও বদলির নামে শতাধিক মানুষের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেন। র‍্যাবের তথ্য অনুসারে, তিনি একটি সংঘবদ্ধ চক্রের মূলহোতা।

এবারের মামলায় সিআইডি জানিয়েছে, হরিদাসের নামে ৫টি ব্যাংক হিসাব ও ৪টি এমএফএস অ্যাকাউন্টে ৯ কোটি ৩৫ লাখ ৩২ হাজার ৪৫১ টাকা সন্দেহজনকভাবে জমা হয়েছে। ২০২০ থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অজ্ঞাত ২-৩ জনের সঙ্গে হুন্ডি ও মুদ্রা পাচারে জড়িত ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য মিলেছে। বৈধ আয়ের সঙ্গে এই লেনদেনের কোনো মিল নেই। অর্থ স্থানান্তর ও রূপান্তর করে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। আদালতে হরিদাস নিজেকে কৃষক ও মন্দির পরিচালক বলে দাবি করেন। বলেন, “মন্দির করা কি অপরাধ? টাকা ভক্তদের অনুদান।” তার আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে জেলগেটে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেন। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, অর্থের উৎস ও সহযোগীদের শনাক্ত করতে রিমান্ড অত্যন্ত জরুরি।

পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের উদ্যোগ নিয়ে তিনি দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছিলেন। কিন্তু অর্থের উৎস নিয়ে বিতর্ক ও সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার আশঙ্কায় জুনে প্রকল্প স্থগিত হয়। এখন প্রশ্ন উঠছে — একজন সাধারণ শ্রমিক কীভাবে রাতারাতি কোটিপতি হয়ে বিশাল মন্দির-মূর্তি নির্মাণ করলেন? জমি দখল, খাস জমি জালিয়াতি ও পরিবেশ আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে। ধর্মের নামে প্রতারণা করে অর্থ হাতিয়ে ধর্মীয় লেবাসে আড়াল করার কৌশল তিনি ভালোভাবেই রপ্ত করেছেন বলে সমালোচকরা মনে করেন।

হরিদাসের সমর্থকরা বলেন, এটা ভক্তদের দান। কিন্তু প্রশ্ন থেকে যায় — কেন তার অতীতের প্রতারণা মামলা, দ্বৈত পরিচয় (হরিদাস-তাওহীদ) ও অস্বাভাবিক সম্পদ বৃদ্ধি নিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত হয় না? সিআইডি ও দুদকের তদন্ত চলছে। এই ঘটনা দেখিয়ে বোঝা যায়, ধর্মের আড়ালে অবৈধ অর্থের খেলা চলতে পারে। সমাজকে সতর্ক থাকতে হবে। সুষ্ঠু তদন্ত হোক, সত্য বেরিয়ে আসুক। ধর্ম রক্ষা পাক, প্রতারণা ধরা পড়ুক।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo