জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করছে কারা?

0

 জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করছে কারা?

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট। বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ঘটনাপ্রবাহ। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া ছাত্র আন্দোলন রূপ নেয় স্বৈরাচারবিরোধী গণঅভ্যুত্থানে। শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটে। রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই পরিবর্তনকে অনেকে ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতা’ বলে অভিহিত করেন। কিন্তু মাত্র দুই বছরের মাথায় সেই অভ্যুত্থানই হয়ে উঠেছে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।

কে এই বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে?

প্রথম সারিতে রয়েছে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থক নেটওয়ার্ক। ফেসবুক, ইউটিউব ও প্রবাসী মিডিয়ায় তারা নিয়মিত প্রচার করছেন যে জুলাই অভ্যুত্থান আসলে কোনো স্বতঃস্ফূর্ত গণ-উত্থান ছিল না — এটি ছিল পূর্বপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র। ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে জনরোষকে তারা নানাভাবে বিকৃত করে উপস্থাপন করছেন।

এর পাশাপাশি এনসিপি (জাতীয় নাগরিক পার্টি)জামায়াত-সংশ্লিষ্ট গ্রুপগুলোও বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। জুলাই অভ্যুত্থান মূলত ছিল জনমত নির্বিশেষে সাধারণ মানুষের সম্পৃক্ততার ফসল। এটি কোনো একক রাজনৈতিক দলের সম্পত্তি ছিল না। কিন্তু এনসিপি ও জামায়াত-সমর্থকরা এটিকে নিজেদের কুক্ষিগত করার চেষ্টা করে চলেছে। “জুলাই আমাদের”, “জুলাইয়ের চেতনা আমরাই বহন করছি” — এ ধরনের প্রচারণা ও জুলাই কেন্দ্রিক রাজনীতি শুরু করে তারা অভ্যুত্থানের মূল চেতনাকে বাধাগ্রস্ত করছে। ফলে জুলাই আর সকলের ঐক্যের প্রতীক থাকছে না, হয়ে উঠছে দলীয় রাজনীতির হাতিয়ার।

তৃতীয় ধারা হলো কিছু রাজনৈতিক বিশ্লেষক, তথাকথিত বুদ্ধিজীবী ও বামপন্থী গ্রুপ। তারা কিছু ব্যক্তি মানুষের বা সমন্বয়কের সমালোচনা করতে গিয়ে আন্দোলনের মূল স্পিরিটকেই অস্বীকার করে বসছে। এরা আস্তে আস্তে শেখ হাসিনার অভিযোগকে বিশ্বাস করতে শুরু করেছে এবং একই লাইনে কথা বলা শুরু করেছে।

কেন এই বিতর্ক?

কারণ জুলাই অভ্যুত্থান শুধু একটি রাজনৈতিক পরিবর্তন নয় — এটি একটি আখ্যান। যারা ক্ষমতায় আছে, তারা এটিকে পবিত্র রাখতে চায়। যারা ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে, বা ক্ষমতার সাথে পুরোপুরি নেই- তারা এটিকে কলঙ্কিত করতে চায়। আর যারা নতুন রাজনীতি করছে, তারা এটিকে নিজেদের সম্পত্তি বানিয়ে ফায়দা তুলতে চায়। জুলাইকে ভিন্নভাবে ব্যবহারের অ্যালগরিদম এই মেরুকরণকে আরও তীব্র করছে।

শেষ কথা জুলাইয়ের ত্যাগ ছিল সকল জনমানুষের। এটি কোনো দলের একার নয়। যেকোনো পক্ষ যদি এটিকে দলীয় রাজনীতির হাতিয়ার বানায়, তাহলে অভ্যুত্থানের মূল চেতনা — গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও ঐক্য — ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সত্যিকারের সম্মান দেখাতে হলে আমাদের আবেগের ঊর্ধ্বে উঠে সমালোচনা ও আত্মসমালোচনা করতে হবে। জুলাই যেন বিভেদের নয়, ঐক্যের প্রতীক হয়ে থাকে।

আপনার মতামত কী? জুলাইয়ের চেতনা কীভাবে রক্ষা করা যায়?

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo