হরিদাস চন্দ্র তরণী: প্রতারণার প্যাটার্ন এবং সমাজের জন্য হুমকি

0

 হরিদাস চন্দ্র তরণী: প্রতারণার প্যাটার্ন এবং সমাজের জন্য হুমকি

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের নামে যিনি আলোচনায় এসেছিলেন, সেই হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস (ওরফে তাওহিদ ইসলাম) এখন সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার। অর্থপাচারের মামলায় প্রায় ৯.৩৫ কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় — এটি একজন পেশাদার প্রতারকের দীর্ঘদিনের প্যাটার্নের অংশ।

প্রতারণার ইতিহাস: বারবার একই খেলা

হরিদাসের জীবনী দেখলে স্পষ্ট হয় যে তিনি বারবার প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছেন। এসি মেকানিক থেকে শুরু করে ধর্ম পরিবর্তন করে তাওহিদ ইসলাম নাম নেওয়া, তারপর প্রধানমন্ত্রীর ভুয়া প্রোটোকল অফিসার সেজে মানুষের সঙ্গে প্রতারণা — এগুলো কোনো দুর্ঘটনা নয়।

তিনি এডিটেড ছবি, ভুয়া ফোন কল এবং প্রভাবশালী পরিচয় ব্যবহার করে সরকারি চাকরি, বদলি ও টেন্ডারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে অর্থ হাতিয়েছেন। র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হয়েও জামিনে বেরিয়ে আবার একই কাজ চালিয়ে গেছেন। এবার ধর্মীয় উদ্যোগের আড়ালে একই খেলা।

রামমূর্তি প্রকল্প: সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড ও অর্থের উৎস

৮১ ফুট উঁচু রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে তিনি ধর্মীয় অনুভূতি উস্কে দিয়েছিলেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো — এত বিপুল অর্থের উৎস কোথায়?

সিআইডির তদন্ত অনুসারে তার কোনো বৈধ আয়ের উৎস নেই। তারপরও ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল ওয়ালেটে কোটি কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে, হুন্ডির মাধ্যমে অর্থপাচারের অভিযোগ উঠেছে। এটি কি বিদেশি অর্থায়ন, নাকি দেশের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত টাকা?

ধর্মের নামে অর্থ সংগ্রহ করে নিজের পকেট ভরানো যদি সত্য হয়, তাহলে এটি শুধু অর্থপাচার নয় — এটি ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে বেইমানি। সমাজের দুর্বল অংশের আবেগকে পুঁজি করে নিজের স্বার্থ হাসিল করা একজন প্রতারকের চরিত্র।

কেন বারবার প্রতারণা করেন?

উত্তর সহজ: কারণ এতে সহজ লাভ। ধর্ম, রাজনীতি ও প্রভাবশালী পরিচয় — এগুলোকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন। জামিনে বেরিয়ে আবার নতুন রূপে ফিরে আসা তার অভ্যাস। এ ধরনের ব্যক্তিরা সমাজের জন্য ক্ষতিকর কারণ তারা:

  • সাধারণ মানুষের আস্থা ভঙ্গ করে।
  • ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে।
  • আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সম্পদ নষ্ট করে।

সমাজকে সচেতন হতে হবে

আমরা যেন এ ধরনের প্রতারকের পক্ষে কোনো মুক্তির আন্দোলন না করি। ধর্ম যাই হোক না কেন, অপরাধী অপরাধীই। হরিদাসের মতো ব্যক্তিদের সমর্থন করলে আমরা নিজেরাই সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করব।

সবচেয়ে বড় কথা, তার পক্ষে দাঁড়ানোর আগে-

  • ধর্মীয় উদ্যোগে অর্থ দানের আগে উৎস ও ব্যক্তির পটভূমি যাচাই করুন।
  • প্রতারণার অভিযোগ উঠলে আবেগের বশে না পড়ে তদন্তের উপর আস্থা রাখুন।
  • সব ধর্মের প্রতারকদের বিরুদ্ধে একই মানদণ্ডে দাঁড়ান।

হরিদাসের ঘটনা আমাদের শিক্ষা দেয় যে ধর্মের নামে যতই আকর্ষণীয় ঘোষণা আসুক, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা ছাড়া কিছুই বিশ্বাসযোগ্য নয়। সমাজকে সচেতন করুন, প্রতারকদের আড়াল করবেন না। শুধুমাত্র আইনের শাসনই এ ধরনের ক্ষতিকর উপাদান থেকে আমাদের রক্ষা করতে পারে।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team