বিমসটেকের ৫ম নিরাপত্তা প্রধানদের বৈঠক: বাংলাদেশ চেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল

0

 বিমসটেকের ৫ম নিরাপত্তা প্রধানদের বৈঠক: বাংলাদেশ চেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল


বিমসটেকভুক্ত সাত দেশের জাতীয় নিরাপত্তা প্রধানদের ৫ম বৈঠক আজ নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামসুল ইসলামের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দল পাঠিয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সিকিউরিটি অ্যাডভাইজার অজিত ডোয়াল এই উচ্চপর্যায়ের সম্মেলনের সভাপতিত্ব করছেন।


বৈঠকের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল গত বছরের নভেম্বরে। বিমসটেক সচিবালয় (ঢাকা) ভারতের আয়োজনের ইচ্ছা জানিয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে নোট পাঠায়। এরপর ২০২৬ সালের ৪ মে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে ১৪ জুলাই সিনিয়র লেভেল প্রস্তুতিমূলক মিটিং এবং ১৬ জুলাই মূল বৈঠকের তারিখ প্রস্তাব করে। সচিবালয় সদস্য দেশগুলোর সম্মতি চেয়ে নোট প্রেরণ করে, যা এখন বাস্তবায়িত হয়েছে।


বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও প্রতিনিধিত্ব:  

বাংলাদেশ বিমসটেকের বর্তমান চেয়ার। এ কারণে এই বৈঠকে অংশগ্রহণ দেশটির জন্য দায়িত্ব ও সুযোগ উভয়ই। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ড. একেএম শামসুল ইসলাম নেতৃত্ব দিচ্ছেন। গতকাল (১৫ জুলাই) তিনি ভারতের এনএসএ অজিত ডোয়ালের সঙ্গে সাইডলাইনে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করেছেন।


বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতির মূল নীতি ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে বৈরিতা নয়’ অনুসারে এ ধরনের আঞ্চলিক সংলাপ প্ল্যাটফর্ম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষা, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং জাতীয় স্বার্থ সংরক্ষণ সম্ভব হয়।


আলোচনার প্রধান বিষয়:

সন্ত্রাসবাদ দমন এই সম্মেলনের শীর্ষ অগ্রাধিকার। রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় ও সমন্বিত প্রতিক্রিয়ার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। আন্তঃসীমান্ত অপরাধ—মাদক পাচার, অবৈধ অস্ত্র চালান ও মানব পাচার—মোকাবিলায় কার্যকর কৌশল নির্ধারণ করা হবে।


বঙ্গোপসাগরের সমুদ্র নিরাপত্তা, জলদস্যুতা প্রতিরোধ, অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ, মেরিটাইম ডোমেইন অ্যাওয়ারনেস বৃদ্ধি এবং সাইবার নিরাপত্তাও আলোচনায় থাকছে। এসব বিষয় বাংলাদেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ, সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।


বাংলাদেশের জন্য কৌশলগত গুরুত্ব: 

ভূরাজনীতির বর্তমান সমীকরণে নিরাপত্তা সহযোগিতা শুধু সামরিক বিষয় নয়—এটি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা, সীমান্ত নিরাপত্তা, সাইবার প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত আস্থার ভিত্তি। বিমসটেক ন্যাশনাল সিকিউরিটি চিফস মিটিং সেই বাস্তবতার প্রতিফলন, যেখানে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলো অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সংলাপকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।


বাংলাদেশের জন্য এই প্ল্যাটফর্ম কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় সংলাপই স্থিতিশীলতার সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার। বাংলাদেশ চেয়ার হিসেবে এই বৈঠকে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে নিজের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করছে।


সম্মেলন শেষে সম্ভাব্য যৌথ ঘোষণা ও সহযোগিতার রূপরেখা প্রকাশিত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, দেশটি আঞ্চলিক নিরাপত্তা স্থাপত্যে সক্রিয় ও গঠনমূলক ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত।


(সূত্র: বিমসটেক সচিবালয়ের নোট, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নোট নম্বর BIM-244/06/2026 এবং সম্মেলন-সংশ্লিষ্ট সরকারি সূত্র)

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo