এইচএসসির পরীক্ষার্থীদের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলন — নেপথ্যে কারা ছিল?

0

এইচএসসির পরীক্ষার্থীদের শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ আন্দোলন — নেপথ্যে কারা ছিল? 

গত ১৪ জুলাই ২০২৬। ঢাকার সায়েন্স ল্যাব মোড় থেকে শুরু হয় এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিতের দাবিতে আন্দোলন। বন্যা, জলাবদ্ধতা আর প্রশ্নপত্রের ত্রুটি — সাধারণ শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক ক্ষোভ। কিন্তু মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে চিত্র পুরোপুরি পাল্টে যায়। আন্দোলন আর শুধু পরীক্ষা নিয়ে রইল না। উঠে এল শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের স্লোগান। মার্চ টু এডুকেশন মিনিস্ট্রি, সড়ক অবরোধ, দেশজুড়ে বিক্ষোভ।  

এখন বড় প্রশ্ন হলো সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাওয়ার পরও কেন আন্দোলন চলছিল? এখানেই দেখা দিয়েছে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ছায়া।

টেক্সট অন স্ক্রিন: “কে লাভবান হচ্ছে? কে উস্কানি দিচ্ছে?”

সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছে। চট্টগ্রাম বোর্ডের জন্য পুনঃপরীক্ষা, প্রশ্নের ভুলের নম্বর সমন্বয়, শিক্ষামন্ত্রীর দুঃখ প্রকাশ। তবু আন্দোলন থামেনি। কারণ এটি আর শুধু শিক্ষার্থীদের আন্দোলন নয় — এটি ম্যানুফ্যাকচার্ড আন্দোলন।   

এবার আসুন দেখে নেয়া যাক আন্দোলনের নেপথ্যে ছাত্র নামধারী রাজনৈতিক কর্মীরা কারা?

- আরিফুর রহমান ফয়সাল — নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি।  

- মোহনা আরিশা — নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেত্রী।  

- রুবাইয়া মেহজাবিন সুহী — মাইলস্টোন কলেজ থেকে বহিষ্কৃত, ছাত্রী পরিচয়ে নেতৃত্ব।  

- রেদোয়ান মাহিন — এনসিপির ছাত্রশক্তির সংগঠক, পরীক্ষার্থী নন।  

- কোভিদ হোসেন — ছাত্রশিবির নেতা।  

- তাহমিদ রহমান ও সিফাত হোসেন — ছাত্রশক্তি ও শিবিরের নেতা।  

প্রকৃত এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা অনেকেই আন্দোলনে ছিলেন না। অভিভাবকরা বলছেন, তাদের সন্তানরা পরীক্ষা দিয়ে সন্তুষ্ট। যারা পদত্যাগের স্লোগান দিচ্ছিলেন, তাদের বেশিরভাগই বহিরাগত রাজনৈতিক কর্মী। সাধারণ শিক্ষার্থীদের আবেগকে হাতিয়ার বানিয়ে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা।

কে লাভবান হচ্ছে? কে উস্কানি দিচ্ছে?  

অতীতের মতো আওয়ামী লীগের কিছু সমর্থক অনলাইনে উস্কানি দিয়ে পরিস্থিতি ঘোলা করার চেষ্টা করছে। এনসিপি ও জামায়াতের ছাত্র সংগঠনগুলো পদত্যাগের দাবিতে চাপ বাড়াচ্ছে। দেশের বাইরে বসে কিছু অ্যাকটিভিস্ট ভুয়া খবর, পুরনো ভিডিও ও গুজব ছড়িয়ে আন্দোলনকে উত্তপ্ত করছে।  

শিক্ষামন্ত্রীর দোষ কী? কোচিং নিয়ন্ত্রণ, সময়মতো পরীক্ষা, শিক্ষার মানোন্নয়ন — এগুলো কি অপরাধ? বারবার পরীক্ষা পেছালে সেশনজট আর মানসিক চাপ বাড়বে বলে অভিভাবকরা সতর্ক করছেন।

শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবি অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু আন্দোলনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানানোর চেষ্টা বন্ধ করতে হবে। আওয়ামী লীগের পুরনো খেলা, এনসিপি-জামায়াতের চাপ, বিদেশি উস্কানি আর গুজব — সবকিছু থেকে সচেতন থাকতে হবে।  

সরকারের ধৈর্য ও শিক্ষার্থীদের বিচক্ষণতায় এবার অস্থিরতা এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তবে ভবিষ্যতে এ ধরনের ষড়যন্ত্র মোকাবিলায় সতর্কতা জরুরি। শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে হবে।  



No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo