এনসিপির মুখে সারাক্ষণ বিএনপি: নতুন রাজনীতির নামে পুরনো বিরোধিতার পুনরাবৃত্তি

0


 এনসিপির মুখে সারাক্ষণ বিএনপি: নতুন রাজনীতির নামে পুরনো বিরোধিতার পুনরাবৃত্তি

জুলাই অভ্যুত্থানের পর যখন দেশের তরুণ প্রজন্ম নতুন রাজনীতির স্বপ্ন দেখছিল, তখন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জন্ম হয়। তারা বলেছিল—আমরা পুরনো দলগুলোর মতো নই। আমরা ক্ষমতার লোভ নয়, সংস্কার চাই। আমরা আওয়ামী লীগের মতো স্বৈরাচার চাই না, বিএনপির মতো পুরনো রাজনীতিও চাই না। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, এনসিপির মুখ থেকে যে নামটি সবচেয়ে বেশি শোনা যাচ্ছে, সেটি হলো বিএনপি।

বিএনপি জনগণের ভোটে ক্ষমতায় এসেছে। দীর্ঘদিনের আন্দোলন, ত্যাগ ও নির্যাতনের পর তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জয়ী হয়েছে। অথচ এনসিপির নেতাদের বক্তব্য শুনলে মনে হয়, যেন বিএনপির ক্ষমতায় আসাটাই তাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা। নাহিদ ইসলাম থেকে শুরু করে পাটওয়ারী, সারজিস—সবাই প্রায় প্রতিদিন বিএনপিকে নিশানা করছেন। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হচ্ছে না, স্বৈরাচার ফিরে আসছে, হামলা হচ্ছে, ইতিহাস বিকৃত হচ্ছে—এই অভিযোগগুলোর পুনরাবৃত্তি চলছে অনবরত।

প্রশ্ন হলো, এতটা উগ্র বিরোধিতা কেন?

এক. এনসিপি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিএনপিকে প্রয়োজন। দলটি নির্বাচনে তেমন সফলতা দেখাতে পারেনি। অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক, জামায়াতের সাথে জোটের বিতর্ক—এসব কারণে তাদের নিজস্ব পরিচয় দুর্বল হয়ে পড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে বিএনপির সমালোচনাই তাদের সবচেয়ে সহজ রাজনৈতিক অস্ত্র। ক্ষমতাসীন দলকে আক্রমণ করলে মিডিয়ার আলো পাওয়া যায়, সমর্থকদের উত্তেজিত রাখা যায়।

দুই. এনসিপি জুলাই অভ্যুত্থানের একচেটিয়া মালিকানা দাবি করতে চায়। তারা মনে করে, অভ্যুত্থানের কৃতিত্ব শুধু তাদের। বিএনপি যেন শুধু সুবিধাভোগী। অথচ বাস্তবতা হলো—অভ্যুত্থান ছিল ছাত্র-জনতার সম্মিলিত অভ্যুত্থান। বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক শক্তি সেখানে অংশ নিয়েছিল। এখন ক্ষমতায় এসে বিএনপি যখন সেই ইতিহাসের অংশ হয়ে দাঁড়ায়, এনসিপির অসহিষ্ণুতা বেড়ে যায়।

তিন. এনসিপি নিজেই যেসব সমস্যায় জর্জরিত, সেগুলো চাপা দিতে বিএনপির সমালোচনা ব্যবহার করছে। দলের ভেতরে নেতাদের নৈতিক স্খলন, শোকজ, পদত্যাগ, সহিংসতার অভিযোগ—এসব নিয়ে তারা কম কথা বলে। বরং বিএনপির বিরুদ্ধে “স্বৈরাচার” শব্দটি ব্যবহার করে নিজেদেরকে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড় করানোর চেষ্টা চালায়।

গণতন্ত্রে বিরোধী দল ক্ষমতাসীনকে সমালোচনা করবে—এটা স্বাভাবিক। কিন্তু এনসিপির সমালোচনায় যে ধরনের একপেশে আক্রমণ দেখা যায়, তাতে মনে হয় তারা গঠনমূলক বিরোধিতা নয়, বরং প্রতিহিংসামূলক রাজনীতি করছে। জনগণ বিএনপিকে ভোট দিয়েছে। সেই জনগণের রায়কে সম্মান না করে শুধু আক্রমণ করে গেলে এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও সংকুচিত হবে।

নতুন রাজনীতির নামে যারা এসেছিল, তারা এখন পুরনো বিরোধিতার ভাষায় কথা বলছে। আর সেই ভাষার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিএনপি। এটা কি সত্যিই সংস্কারের রাজনীতি, নাকি নিজেদের প্রাসঙ্গিকতা ধরে রাখার কৌশল—সে প্রশ্ন এখন জনগণের সামনে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo