দুই মন্ত্রীর অবস্থানই জাতীয় স্বার্থের পক্ষে: প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের বিভ্রান্তিকর ও চক্রান্তমূলক অপপ্রচার

0

 দুই মন্ত্রীর অবস্থানই জাতীয় স্বার্থের পক্ষে: প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের বিভ্রান্তিকর ও চক্রান্তমূলক অপপ্রচার

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ও তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন যে বলেছেন—বাংলাদেশে কেউ আদিবাসী নয়, সবাই অধিবাসী এবং সকলের মূল পরিচয় বাংলাদেশি—এটা কোনো আবেগপ্রবণ মন্তব্য নয়। এটা সংবিধান, জুলাই জাতীয় সনদ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের স্পষ্ট প্রতিফলন। অথচ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এই অবস্থানকে কেন্দ্র করে যেভাবে জাতীয় আদিবাসী পরিষদ ও ২৫টি সংগঠনের বিবৃতিকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করছে, তাতে মনে হয় তারা জাতীয় ঐক্যের চেয়ে বিভাজনমূলক ন্যারেটিভকেই শক্তিশালী করতে চায়।

প্রথম আলো জাতীয় আদিবাসী পরিষদের বিবৃতি প্রকাশ করে বলেছে, মন্ত্রীরা আদিবাসীদের ইতিহাস ও পরিচয় অস্বীকার করেছেন। ডেইলি স্টার ২৫টি ছাত্র-যুব-নারী সংগঠনের যৌথ বিবৃতি ছাপিয়ে তাদের দাবিকে বৈধতা দিয়েছে। সেই দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার, ভূমি ও প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার এবং জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র বাস্তবায়ন। এসব দাবি দেখতে ন্যায়সংগত মনে হলেও বাস্তবে সেগুলো সংবিধানের সীমানা অতিক্রম করার চেষ্টা।

বাংলাদেশের সংবিধানে ‘আদিবাসী’ শব্দ নেই। সেখানে ‘উপজাতি’, ‘ক্ষুদ্র জাতিসত্তা’ ও ‘নৃগোষ্ঠী’ শব্দই ব্যবহৃত হয়েছে। জুলাই জাতীয় সনদেও সকল দল একমত হয়েছে যে, দেশের সকল মানুষের পরিচয় হবে ‘বাংলাদেশি’। মন্ত্রীরা সেই ঐকমত্যই বলেছেন। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার এই মৌলিক বাস্তবতাকে এড়িয়ে গিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সংগঠনগুলোর বয়ানকে প্রাধান্য দিচ্ছে। এতে জাতীয় স্বার্থ ক্ষুণ্ন হচ্ছে।

২৫ সংগঠন বলেছে, বাংলাদেশ বহু জাতি ও বহু সংস্কৃতির দেশ। এ কথা সত্য। কিন্তু সেই বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, কেউ ‘আদিবাসী’ আর কেউ ‘অ-আদিবাসী’ হয়ে যাবে। বাংলাদেশে কোনো সেটেলার-আদিবাসী দ্বন্দ্ব নেই। এখানকার সকল জনগোষ্ঠী দীর্ঘকাল ধরে এই ভূমিতে বসবাস করছে। ‘আদিবাসী’ শব্দটি মূলত সেটেলার কলোনিয়াল রাষ্ট্রগুলোর প্রেক্ষাপট থেকে এসেছে। তথ্যমন্ত্রী সেই বাস্তবতাই তুলে ধরেছেন। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সেই প্রেক্ষাপটকে উপেক্ষা করে শুধু বিরোধিতার কণ্ঠস্বরকেই বড় করে তুলছে।

জাতিসংঘের ঘোষণাপত্র নিয়ে যে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, সেটাও দুর্বল। বাংলাদেশ ওই ঘোষণাপত্র গ্রহণের সময় ভোটদানে বিরত ছিল। কোনো আন্তর্জাতিক দলিলকে দেশের সংবিধানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না। ‘আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকার’ শব্দটি বিশেষভাবে সংবেদনশীল। পার্বত্য চট্টগ্রামসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় এ ধরনের দাবি জাতীয় অখণ্ডতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। মন্ত্রীরা সেই ঝুঁকির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার সেই ঝুঁকিকে গুরুত্ব না দিয়ে সংগঠনগুলোর দাবিকেই বৈধতা দিচ্ছে।

রাষ্ট্র ইতিমধ্যেই ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জন্য কোটা, বিশেষ সুবিধা এবং সাংস্কৃতিক সংরক্ষণের ব্যবস্থা রেখেছে। সংবিধানের ২৩ক অনুচ্ছেদই তাদের সংস্কৃতি রক্ষার নিশ্চয়তা দিয়েছে। সমান নাগরিকত্বের ভিত্তিতে সবাইকে মূলধারায় নিয়ে আসা মানে তাদের পরিচয় মুছে ফেলা নয়। বরং সেটাই টেকসই সমাধান। ২৫ সংগঠনের দাবি ও প্রথম আলো-ডেইলি স্টারের প্রচার দেখে মনে হয়, তারা জাতীয় ঐক্যের চেয়ে বিশেষ পরিচয়ের রাজনীতিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

দুই মন্ত্রীর অবস্থান স্পষ্ট। বাংলাদেশি পরিচয়ই সকলের মূল পরিচয়। এই পরিচয়ের ওপর দাঁড়িয়েই সংস্কৃতি, ভাষা ও অধিকার রক্ষা করা সম্ভব। সংবিধান ও জাতীয় ঐকমত্যের বাইরে গিয়ে কোনো দাবি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের উচিত ছিল এই বাস্তবতাকে তুলে ধরা। কিন্তু তারা বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভকেই প্রাধান্য দিয়েছে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo