মিডিয়ার ভয়ংকর অতিরঞ্জন: পুরো রিপোর্ট না পড়েই ‘আল-কায়েদা নেটওয়ার্ক’ নিয়ে ভুয়া খবর প্রচার করল!
জাতিসংঘের সিকিউরিটি কাউন্সিলের সাম্প্রতিক রিপোর্ট (S/2026/651) প্রকাশ হওয়ার পর বিবিসিসহ বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক ও দেশীয় গণমাধ্যম যেভাবে খবর প্রচার করেছে, তাতে মনে হয়েছে—বাংলাদেশে আল-কায়েদার সক্রিয় নেটওয়ার্ক গড়ে উঠেছে। বাস্তবতা কিন্তু সম্পূর্ণ ভিন্ন।
রিপোর্টের ৩০ পৃষ্ঠার মধ্যে বাংলাদেশের নাম এসেছে মাত্র একবার। পৃষ্ঠা ১৮-এর ১০১ নম্বর প্যারাগ্রাফে লেখা আছে:
“There was some concern about AQIS trying to exploit Bangladesh to establish cells there.”
অর্থাৎ, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) বাংলাদেশে সেল প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে বলে কিছু উদ্বেগ রয়েছে। এখানে কোনো সফলতা, কোনো সক্রিয় নেটওয়ার্ক, কোনো অপারেশনাল উপস্থিতি বা কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই। শুধু “চেষ্টা করার উদ্বেগ”।
কিন্তু গণমাধ্যমগুলো এই এক বাক্যকে যেভাবে ফুলে ফেঁপে তুলেছে, তাতে বাংলাদেশকে সন্ত্রাসের কেন্দ্র হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে। বিবিসিসহ অনেক মিডিয়া এমনভাবে উপস্থাপন করেছে, যেন বাংলাদেশে আল-কায়েদার সংগঠিত নেটওয়ার্ক কাজ করছে। অথচ রিপোর্টের অন্য কোনো জায়গায় বাংলাদেশে আল-কায়েদা বা আইএস-এর উপস্থিতি নিয়ে কোনো উল্লেখ নেই। কোনো সেলের নাম, কোনো নেতার নাম, কোনো অপারেশনের বিবরণ—কিছুই নেই।
বাস্তবতা হলো—AQIS চেষ্টা করেছে, কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। রিপোর্টে স্পষ্টভাবে বলা হয়নি যে তারা সফল হয়েছে। বরং “trying to exploit” শব্দটিই বলে দিচ্ছে যে এটি এখনো প্রচেষ্টার পর্যায়ে রয়েছে, বাস্তবায়িত হয়নি।
এ ধরনের সংবাদ প্রচারের মাধ্যমে গণমাধ্যমগুলো একটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এবং অহেতুক আতঙ্ক সৃষ্টি করে। জাতিসংঘের মতো গুরুত্বপূর্ণ রিপোর্টের একটি সতর্কবার্তাকে সন্ত্রাসের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা সাংবাদিকতার দায়িত্বহীনতা ছাড়া আর কিছু নয়।
সত্য হলো—পুরো রিপোর্টে বাংলাদেশে আল-কায়েদার কোনো নেটওয়ার্ক আছে বলে কোনো তথ্য নেই। শুধু একটি সম্ভাব্য উদ্বেগ। আর সেই উদ্বেগকেই অনেকে বাস্তব সন্ত্রাস হিসেবে বিক্রি করেছে।
বর্তমান সরকার দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, বাংলাদেশের মাটিতে কোনো উগ্রবাদী গোষ্ঠীর স্থান নেই।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment