ইউনিফর্ম ছিল পুলিশের, আনুগত্য ছিল আওয়ামী লীগের

0


মনিরুল ইসলাম কি পুলিশ না আওয়ামী লীগ?
উনিফর্ম ছিল পুলিশের, আনুগত্য ছিল আওয়ামী লীগের

স্পেশাল ব্রাঞ্চের সাবেক প্রধান মো. মনিরুল ইসলাম পুলিশ ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। ১৯৯৫ সালে ১৫তম বিসিএসে এএসপি হিসেবে যোগ দেন। চাকরির নিয়ম অনুযায়ী তিনি পুলিশ। কিন্তু তার পদোন্নতি, পদক, দায়িত্ব ও আচরণ দেখলে বোঝা যায়—তিনি নিরপেক্ষ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী ছিলেন না। তিনি হাসিনা সরকারের রাজনৈতিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছিলেন।

গোপালগঞ্জের এই কর্মকর্তা ২০০৯ সালের পর ডিবি, সিটিটিসি ও সর্বশেষ এসবির মতো সংবেদনশীল পদে পৌঁছান। ২০১৬ সালের হলি আর্টিজানের পর কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট গড়ে তোলেন তিনি। জঙ্গি দমনের নামে এই ইউনিট ও পরে স্পেশাল ব্রাঞ্চ বিরোধী দল, সাংবাদিক ও সমালোচকদের ওপর নজরদারির যন্ত্র হয়ে ওঠে। আওয়ামী লীগ আমলে তিনি বাংলাদেশ পুলিশ পদক ও রাষ্ট্রপতি পুলিশ পদক পান। সেই পদকগুলো তার পেশাদারিত্বের স্বীকৃতি ছিল না, রাজনৈতিক আনুগত্যের পুরস্কার ছিল।

৫ আগস্টের পর তার আসল চেহারা আরও স্পষ্ট হয়। সরকার পতনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি অফিসে আর ফেরেননি। ১৩ আগস্ট তাকে এসবি থেকে সরিয়ে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়। আইএসপিআরের তথ্য অনুযায়ী, সে সময় তিনি অন্যান্য আলোচিত পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে সেনানিবাসে আশ্রয় নেন। পরে খবর বেরোয়, তিনি দিল্লিতে পালিয়েছেন। সুপারশপে তার ছবিও ধরা পড়ে।

মনিরুলের বিরুদ্ধে আরো চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো তিনি ৩ আগস্ট আন্দোলন দমন করতে সরকারি তহবিল থেকে ২৫ কোটি টাকা এসবি অফিসে আনেন। ৫ আগস্টের পর সেই টাকা আর পাওয়া যায় না, যায় মনিরুলের পকেটে।

একজন পুলিশ কর্মকর্তা যদি ক্ষমতাসীন দলের নজরদারি যন্ত্র হয়ে যান, বিরোধীদের টার্গেট করেন, সরকার পতনের পর সেনানিবাসে লুকান, তারপর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান—আর এখন অনলাইনে এসে দাবি করেন, কিছু ভুলের জন্য আওয়ামী লীগের পতন হয়েছে, তাহলে তাকে কী বলা যায়? আওয়ামী লীগের জন্য মায়াকান্না করলে তিনি কি পুলিশ না আওয়ামী লীগ? ইউনিফর্ম ছিল পুলিশের। কিন্তু কাজ ছিল আওয়ামী লীগের।

মনিরুল ইসলাম পুলিশ ছিলেন কাগজে-কলমে। বাস্তবে তিনি ছিলেন সেই ব্যবস্থার অংশ, যে ব্যবস্থা পুলিশকে দলীয় ক্যাডার বাহিনীতে পরিণত করেছিল।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team