২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার নেপথ্যে কিছু প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা হয়েছিল। ২৪ জন নিহত হন। আইভি রহমান তিন দিন পর মারা যান। শেখ হাসিনা বেঁচে যান। এটা নৃশংসা একটা হামলা ছিল অস্বীকার করার কিছু নেই। কিন্তু প্রশ্ন রয়েছে অন্য জায়গায়। লক্ষ্য কী ছিল, সমাবেশ কেন সেখানে হলো, আর দায় চাপানোর রাজনীতি কতটা আগে থেকে তৈরি ছিল!
তখন ক্ষমতায় ছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। আওয়ামী লীগের দাবি—হাসিনাকে হত্যা করাই উদ্দেশ্য ছিল। গ্রেনেড এসেছে মঞ্চ লক্ষ্য করে। হাসিনা ট্রাক থেকে নামার সময় হামলা শুরু হয়। তার গাড়িতে গুলিও লাগে। এই বয়ান ছিল আওয়ামী লীগের। কিন্তু আইভি রহমান দাঁড়িয়েছিলেন মঞ্চের ঠিক সামনে, রাস্তায়, নারী কর্মীদের সঙ্গে। হাসিনা তাকে মঞ্চে ডেকেছিলেন, তিনি যাননি। প্রথম গ্রেনেড তার কাছাকাছিই পড়ে। দুই পা বিধ্বস্ত হয়। দেখে মনে হয় তিনিই ছিলেন সবচেয়ে টার্গেটেড। আইভি ছিলেন জিল্লুর রহমানের স্ত্রী, দলের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক। মূল টার্গেট যদি শুধু হাসিনাই হতেন, সবচেয়ে ভয়াবহ আঘাত কেন তার ওপর পড়ল—এই প্রশ্ন থেকে যায়।
সমাবেশের স্থান নিয়েও রয়েছে প্রশ্ন। প্রথমে মুক্তাঙ্গনে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। হঠাৎ স্থান বদলে আনা হয় দলীয় কার্যালয়ের সামনের সরু রাস্তায়। ট্রাকের ওপর মঞ্চ। চারপাশে ভবন। ছাদ থেকে গ্রেনেড ফেলা সহজ। তৎকালীন সরকার জানিয়েছিল সেখানে সমাবেশ করা ঠিক হবে না কারণ নিরাপত্তা ছিল দুর্বল। আর এই সমাবেশের মূল লক্ষ্য ছিল সিলেটের বোমা হামলার প্রতিবাদ—কিন্তু প্রতিবাদ করতে গিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বকে এত ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে কেন দাঁড় করানো হলো?
হামলার পর বিএনপি সরকার বলেছিল, এটা আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। খালেদা জিয়া ২০০৫ সালের ১১ জানুয়ারি সংসদে সে কথা বলেন। সরকারের তদন্তে জজ মিয়াকে আসামি দেখানো হয়। আওয়ামী লীগের ভেতর কোন্দল নতুন ছিল না। হাসিনার একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ, পুরোনো নেতৃত্বের অসন্তোষ চলছিল। আইভি রহমানের নেতৃত্বে দল ভাঙবে—এমন কথা তখন কিছু মহলে শোনা যেত। কিন্তু পরে তার মৃত্যু সহানুভূতির রাজনীতিতে সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে।
আরেকটি ব্যাপার কাজ করে, ওই সময় দেশে বোমা হামলা বাড়ছিল, আওয়ামী লীগ নানাভাবে দেশকে অস্থিতিশীল করার পায়তার করছিল। প্রতিটি বিস্ফোরণের পর আওয়ামী লীগের প্রথম প্রতিক্রিয়া প্রায় একই—বিএনপি-জামায়াত জড়িত। তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই রাজনৈতিক রায় দেওয়া হতো। ২১ আগস্টেও তা-ই হয়। পরে ক্ষমতায় গিয়ে সেই দাবিই রাষ্ট্রীয় মামলা হয়ে যায়। ২০১৮ সালের রায়ে তারেক রহমানসহ বিএনপি-জামায়াত নেতাদের সাজা হয়। তদন্ত দুই আমলেই রাজনৈতিক হয়েছে। একটা প্রশ্ন মাথায় ঘুরে ফিরে আসে- বিএনপি ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় কেন বোমা হামলা করবে? এরপর ২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট সারাদেশে একযোগে প্রায় ৬৩ জেলায় বোমা বিস্ফোরণ ঘটে, যদিও জেমএবি দায় স্বীকার করেছে কিন্তু এটা নিয়েও আওয়ামী লীগ ফায়দা লুটেছে।
তাই সন্দেহের দানা থেকে যায়। এই হামলার সাথে কারা জড়িত? আওয়ামী লীগের ভেতরের টানাপড়েন, স্থান পরিবর্তন, নিরাপত্তাহীন সমাবেশ এবং প্রতিপক্ষের ঘাড়ে সব বোমা হামলার দায় চাপিয়ে দেওয়ার অভ্যাস—প্রশ্নগুলো আজও ঘুরপাক খায়।
সহানুভূতি আদায়ের রাজনীতি বরাবরই আওয়ামী লীগ করছে। ২১ আগস্ট নিয়েও কি আওয়ামী লীগ গেম খেলছে, সহানুভূতি চেয়েছিল?
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment