ফিরে দেখা সতেরো আগস্ট।
ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে আবারও বোমা আতঙ্ক।
প্রশ্ন উঠছে—পতিত আওয়ামী লীগ, ভারত… নাকি নিও-জেএমবির পুনরুত্থান?
দুই হাজার পাঁচ সালের সতেরো আগস্ট।
সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলার একুশতম বার্ষিকীতে আবারও দেশজুড়ে বোমা উদ্ধার ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটছে।
সাভার-আশুলিয়ায় প্রেশার কুকার ও পাইপ বোমা। মতিঝিলে সন্দেহজনক ডিভাইস।
পুলিশ বলছে—নিও-জেএমবির সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে।
এরই মাঝে চলছে তীব্র কূটনৈতিক তৎপরতা।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর নিয়ে আলোচনা চলছিল।
ভারত আমন্ত্রণ জানিয়েছিল। কিন্তু ঢাকা স্পষ্ট করেছে—শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ না হলে অনুকূল পরিবেশ তৈরি হবে না।
সফর আপাতত স্থগিত।
অন্যদিকে হাসিনা এ বছরই… সম্ভবত ডিসেম্বরে… দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। মৃত্যুদণ্ডের রায় সত্ত্বেও।
সম্প্রতি ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত এক প্রেস কনফারেন্সে তিনি আরও জোরালোভাবে ফেরার কথা বলেছেন। বলেছেন—যেকোনো বাধা অতিক্রম করে দেশে ফিরবেন।
এর আগে জুলাইয়ের শেষে মার্কিন বিশেষ দূত সার্জিও গোর ঢাকায় এসে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন।
একই সময়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে।
তারেক রহমানের বেইজিং সফর, ‘শেয়ার্ড ফিউচার’ ঘোষণা, মংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ নানা প্রকল্প।
চীন বাংলাদেশে তার প্রভাব বাড়াতে চায়—সেটা স্পষ্ট।
এই জটিল ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বোমা আতঙ্ক কেন?
দুটো প্রশ্ন ঘুরছে।
এক—পতিত আওয়ামী লীগ কি অস্থিরতা সৃষ্টি করে হাসিনার ফেরার পথ মসৃণ করতে চাইছে?
দুই—ভারত কি দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের টানাপোড়েন বা নিজস্ব নিরাপত্তা স্বার্থে কোনো ভূমিকা রাখছে?
তথ্য যা বলছে—বাংলাদেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, বিশেষ করে সিটিটিসি, একাধিক ঘটনাকে নিও-জেএমবির সঙ্গে যুক্ত করছে।
আটক সন্দেহভাজন ও উদ্ধারকৃত অস্ত্র-বিস্ফোরক থেকে সেই ইঙ্গিতই মিলছে।
ভারতের এনআইএও তাদের মাটিতে জেএমবির অফশুটের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছে।
একই সময়ে জাতিসংঘের সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে সতর্ক করা হয়েছে যে, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট বা একিউআইএস বাংলাদেশকে ব্যবহার করে ঘাঁটি গড়ার চেষ্টা করছে।
এমন সতর্কবার্তা নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এর পেছনে পতিত আওয়ামী লীগ বা ভারত সরাসরি না হলেও… প্রচ্ছন্নভাবে এই বোমা কার্যক্রম চালাতে পারে।
কেননা সময়ের মিল সন্দেহ জাগায়।
দুই হাজার পাঁচে বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় জেএমবি যেভাবে সমন্বিত হামলা চালিয়েছিল, এখনকার ঘটনাও সেই ধরনের সক্ষমতা দেখাচ্ছে।
রাজনৈতিক শূন্যতা বা পরিবর্তনের সময় জঙ্গি গোষ্ঠী সবসময় সক্রিয় হয়।
হাসিনার ফেরার ঘোষণা, ভারতের মাটিতে তার প্রেস কনফারেন্স, ভারত সফরের জটিলতা আর চীন-মার্কিন প্রতিযোগিতার মাঝে নিরাপত্তার ফাঁক গলে জঙ্গিরা মাথাচাড়া দিতে পারে।
তাই বিশ্লেষকদের মতে, এটি ‘পতিত শক্তির খেলা’ বা ‘প্রতিবেশীর ষড়যন্ত্র’ বলে উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এখন প্রয়োজন নিরপেক্ষ, পেশাদার তদন্ত।
জঙ্গি নেটওয়ার্ক ভাঙা। আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়ানো। আর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই জাতীয় অগ্রাধিকার।
এটা বাংলাদেশের নিরাপত্তারও প্রশ্ন।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment