মাতাল জয়ের অভিযোগ: বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেই শীর্ষ নেতা উধাও! সে কি ৫ আগস্ট পালিয়ে ভারতে গেছে?

0


মাতাল জয়ের অভিযোগ: বাংলাদেশে আল-কায়েদার সেই শীর্ষ নেতা উধাও! সে কি ৫ আগস্ট পালিয়ে ভারতে গেছে?

শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় সম্প্রতি এক্স-এ দীর্ঘ পোস্ট দিয়ে বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতার অভিযোগ তুলেছেন। তিনি দাবি করেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন জঙ্গি দমনে হাত গুটিয়ে রেখেছে এবং দেশ আরেকটি পাকিস্তান হয়ে উঠছে। তিনি আল-কায়েদার কথিত দ্বিতীয় স্তরের নেতা মাওলানা ইকরামুল হকের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমান সরকারকে অভিযুক্ত করেছেন।

এই অভিযোগগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে গেলে প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে—কে এই অভিযোগ করছেন এবং কেন?

হাসিনা পরিবার ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে গেছেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় শত শত মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ উঠেছে। সেই সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব সবাই এখন পালিয়ে বিদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। যারা নিজেরাই গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা এবং দমন-পীড়নের অভিযোগের কেন্দ্রে ছিলেন, তারা এখন দেশের নিরাপত্তা নিয়ে উপদেশ দিচ্ছেন—বড়ই হাস্যকর ব্যাপার।

মাতাল জয়ের অভিযোগ, জাতিসংঘের এক রিপোর্টে বাংলাদেশে আল-কায়েদা ও জেএমবির তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাস্তবতা হলো, আল-কায়েদা একটি বৈশ্বিক সংগঠন। তারা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নেটওয়ার্ক গড়ার চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্রেও তারা বড় হামলা চালিয়েছে। কোনো দেশে তাদের উপস্থিতির সম্ভাবনা থাকা মানেই সেই দেশের সরকার জঙ্গিদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে—এমন সিদ্ধান্ত শুধু পাগল ব্যক্তিরাই নিতে পারে। বাংলাদেশে অতীতে জঙ্গি তৎপরতা ছিল এবং সেটা আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকার সময়, তারাই দেশকে অস্থিতিশীল করে তুলেছিল। সেই সময়ের অনেক ঘটনার দায় তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের ওপরও চাপানো হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে দেশে বড় ধরনের জঙ্গি হামলার কোনো স্বীকৃত প্রমাণ নেই।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ঢাকাসহ কয়েকটি স্থানে ছাত্রলীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ ও কিছু জায়গায় বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার তদন্ত চলছে। কিন্তু এগুলোকে সরাসরি বর্তমান সরকারের ব্যর্থতা বা জঙ্গি পুনরুত্থানের প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে একাধিক অভিযোগ উঠেছে। হামলা, অগ্নিসংযোগ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে পরিস্থিতি উত্তপ্ত রাখার চেষ্টা চলছে বলে নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট মহল মনে করে।

ইকরামুল হক নামের ব্যক্তি সম্পর্কে জয় যে দাবি করেছেন, তাও যাচাইসাপেক্ষ। কোনো ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হওয়ার পর নিখোঁজ থাকলে তা নিঃসন্দেহে উদ্বেগের বিষয়। কিন্তু এটাকে সরকারের ইচ্ছাকৃত অবহেলা বা সুরক্ষা দেওয়ার প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা হলে যথাযথ তদন্ত ছাড়াই রাজনৈতিক অভিযোগে পরিণত হয়। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তাকে খুঁজছে বলেই জানা যায়। পুরনো মামলার ফাইল ধুলো জমে থাকা কোনো নতুন ঘটনা নয়—অতীতেও এমন অনেক মামলা ঝুলে থেকেছে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যারা দেশে ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছেন, তারা এখন বিদেশ থেকে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। জয়ের পোস্ট সেই ধারারই অংশ। আওয়ামী লীগ ক্ষমতার বাইরে থাকলেই বাংলাদেশ নাকি মিনি পাকিস্তান হয়ে যায়। এটার অর্থ একটাই—বর্তমান সরকারকে ব্যর্থ ও বিপজ্জনক হিসেবে চিত্রিত করা।

বাংলাদেশে জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে সরকারের অবস্থান জিরো টলারেন্স। এদেশের মাটিতে জঙ্গিদের কোনো স্থান নেই। সাম্প্রতিক গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সএ তার প্রমাণ পাওয়া যায়। সেখানে বাংলাদেশের অবস্থান ৪২ তম। ভারতের অবস্থান ১৩ আর পাকিস্তান নাম্বার ওয়ান। সুতরাং জয়ের অভিযোগ মিথ্যা ।

যারা নিজেরাই মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়ে দেশ ছেড়েছেন, তাদের মুখে নিরাপত্তার উপদেশ শোনার আগে তাদের নিজের অতীতকেই প্রশ্ন করা উচিত।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team