জাতিসংঘের রিপোর্ট নিয়ে রঙ মাখানো প্রপাগান্ডা: বাস্তবতা কী বলে?

0


জাতিসংঘের রিপোর্ট নিয়ে রঙ মাখানো প্রপাগান্ডা: বাস্তবতা কী বলে?

সম্প্রতি জাতিসংঘ সিকিউরিটি কাউন্সিলের অ্যানালিটিক্যাল সাপোর্ট অ্যান্ড স্যাংশনস মনিটরিং টিমের ৩৮তম রিপোর্ট (S/2026/651) প্রকাশিত হওয়ার পর কিছু মহল এটিকে নিজেদের সুবিধামতো রঙ মাখিয়ে প্রপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। রিপোর্টটি মূলত আইএসআইএল (দায়েশ), আল-কায়েদা ও সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলোর বৈশ্বিক হুমকি মূল্যায়ন করে। দক্ষিণ এশিয়া অংশে যা বলা হয়েছে, তা পরিষ্কার:

রিপোর্টে বলা হয়েছে, আল-কায়েদা ইন দ্য ইন্ডিয়ান সাবকন্টিনেন্ট (AQIS) একটি আঞ্চলিক সন্ত্রাসী সত্তায় পরিণত হয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে দিল্লির রেড ফোর্ট এলাকায় যে গাড়ি বোমা হামলা হয়, সেটি অফিসিয়ালি AQIS-এর সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া রিপোর্টে উল্লেখ রয়েছে যে AQIS বাংলাদেশকে কাজে লাগিয়ে সেল গড়ার চেষ্টা করতে পারে—এই উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে টিটিপি, আইএসআইএল-খোরাসানসহ বিভিন্ন গোষ্ঠীর তৎপরতা এবং ক্রস-বর্ডার হামলার কথাও বিস্তারিত আছে।

অর্থাৎ রিপোর্ট ভারতের মাটিতে সংঘটিত একটি গুরুতর সন্ত্রাসী হামলাকে স্বীকৃতি দিয়েছে এবং আঞ্চলিক স্পিলওভারের ঝুঁকি উল্লেখ করেছে। এটিকে ঘুরিয়ে বাংলাদেশকে একতরফাভাবে দায়ী করার চেষ্টা বাস্তবতার সঙ্গে মিলছে না।

এদিকে ভারতের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জগুলোও উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। নকশাল/মাওবাদী উগ্রবাদ দীর্ঘদিন ধরে ভারতের অন্যতম বড় অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সমস্যা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সহিংসতা কিছুটা কমলেও পুরোপুরি বন্ধ হয় নি। বিজেপি সরকার দাবি করেছে যে ২০২৬ সালের মধ্যে তারা এসব উগ্রবাদী সংস্থাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। তবুও ছত্তিশগড়সহ কিছু এলাকায় অবশিষ্ট তৎপরতা রয়েছে। পাঞ্জাবে খালিস্তানি চক্রগুলো (বি কে আই, কে জেড এফ ইত্যাদি) নিম্ন-তীব্রতার বিস্ফোরণ, পুলিশ হত্যাসহ তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে, যেগুলোর সঙ্গে বিদেশি নেটওয়ার্ক ও পাকিস্তানি সংযোগের অভিযোগ বারবার উঠেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উলফা-আইসহ কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর অবশিষ্ট কার্যক্রম এখনো বিদ্যমান, যদিও সামগ্রিক পরিস্থিতি আগের তুলনায় উন্নত।

সন্ত্রাসবাদ কোনো একদেশের একচেটিয়া সমস্যা নয়। জাতিসংঘের রিপোর্ট যেখানে ভারতের রাজধানীতে সংঘটিত হামলাকে AQIS-এর সঙ্গে যুক্ত করেছে এবং আঞ্চলিক ঝুঁকির কথা বলেছে, সেখানে শুধু বাংলাদেশকে লক্ষ্য করে প্রপাগান্ডা চালানো একপেশে ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। বাস্তবতা হলো—দক্ষিণ এশিয়ায় সন্ত্রাসী হুমকি বহুমুখী, এবং প্রত্যেক দেশকেই নিজ নিজ অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হচ্ছে। অথচ কিছু ভারতীয় মিডিয়াও তাদের অভ্যন্তরীণ সমস্যাকে হাইলাইট না করে প্রতিবেশি রাষ্ট্রকে খবরের শিরোনাম করছে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo