নর্থইস্ট নিউজের প্রপাগান্ডা: ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদ সফরকে ষড়যন্ত্র বানানোর চেষ্টা

0


নর্থইস্ট নিউজের প্রপাগান্ডা: ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের ইসলামাবাদ সফরকে ষড়যন্ত্র বানানোর চেষ্টা

নর্থইস্ট নিউজের সাংবাদিক চন্দন নন্দী সম্প্রতি একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছেন—প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের কয়েকদিন আগে ছয়জন ডিজিএফআই কর্মকর্তা ইসলামাবাদ গেছেন। শিরোনাম ও ভাষা এমনভাবে সাজানো হয়েছে যেন এটি কোনো গোপন মিশন বা পাকিস্তানমুখী কূটনৈতিক চাল। চন্দন নন্দী এর আগেও একাধিকবার বাংলাদেশ নিয়ে এ ধরনের প্রপাগান্ডা-টাইপ ন্যারেটিভ ছড়িয়েছেন। এবারও সেই একই ধাঁচ।

বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। ডিজিএফআইসহ বাংলাদেশের সামরিক ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে প্রফেশনাল ট্রেনিং, কোর্স ও এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশ নেয়। পাকিস্তানও সেই তালিকায় আছে—ঠিক যেমন ভারত, চীন, তুরস্ক, যুক্তরাজ্য বা অন্যান্য দেশ আছে। এই ধরনের কোর্সগুলো সামরিক কূটনীতি ও পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির অংশ। এগুলো কোনো গোপন মিশন নয়, বরং দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা রুটিন কার্যক্রম।

এই সফরকে তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে জুড়ে দিয়ে সন্দেহের আবহ তৈরি করার চেষ্টা করা হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো ভারতসহ একাধিক দেশের সঙ্গে একই ধরনের প্রফেশনাল এক্সচেঞ্জে অংশ নেয়। ডিজিএফআই প্রধান মেজর জেনারেল কায়সার রশিদ চৌধুরী নিজেও এর আগে নয়াদিল্লি ও ইসলামাবাদ—দুই জায়গাতেই গিয়েছেন। সেটিও পেশাগত যোগাযোগের অংশ ছিল। একইভাবে এই ছয় কর্মকর্তার সফরও সেই ধারারই ধারাবাহিকতা।

যে দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ সামরিক ও গোয়েন্দা পর্যায়ে প্রশিক্ষণ বিনিময় করে, সেখানে শুধু পাকিস্তানকে আলাদা করে দেখানো এবং তাকে ভারত সফরের আগে ‘সন্দেহজনক’ বলে প্রচার করা—এটি নিছক ন্যারেটিভ নির্মাণ। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ ও পেশাগত সম্পর্ক কোনো একক দেশের অনুমোদন বা অস্বস্তির ওপর নির্ভর করে না।

ডিজিএফআই কর্মকর্তাদের এই সফর প্রফেশনাল কোর্সে অংশগ্রহণের জন্য। এ ধরনের কার্যক্রম ভারতসহ অনেক দেশের সঙ্গেই হয়। এটিকে ষড়যন্ত্রের রং দিয়ে উপস্থাপন করা ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চন্দন নন্দী ও নর্থইস্ট নিউজের এ ধরনের পুনরাবৃত্তিমূলক প্রপাগান্ডা বাংলাদেশকে নিয়ে ভারতীয় মহলে বিভ্রান্তি ছড়ানোরই অংশ।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo