রংপুরে ইসকনের ভারতীয় নেতার সাত দিনের সফর: ধর্মের আড়ালে কী চলছে?

0


রংপুরে ইসকনের ভারতীয় নেতার সাত দিনের সফর: ধর্মের আড়ালে কী চলছে?

ভারতীয় মিডিয়া আর ময়ূখ রঞ্জন ঘোষরা একসময় বলত—রংপুর থাকবে না, চট্টগ্রাম থাকবে না। চিকেন নেক বাড়াতে রংপুরকে ভারতের সঙ্গে জুড়ে দিতে হবে, হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা ঘোষণা করতে হবে। সেই ষড়যন্ত্রের ছায়া এখনো কাটেনি। কিছুদিন আগেও গাইবান্ধার রাম মূর্তি ইস্যু নিয়ে ভারতীয় মিডিয়া যখন সরগরম ছিল, ঠিক তখনই ইসকনের এ ধরনের কর্মসূচি।

উত্তর-পূর্ব ভারতের ইসকন আঞ্চলিক সম্পাদক ও জিবিসি দূত নাড়ু গোপাল দাস প্রভু ২১ থেকে ২৭ আগস্ট রংপুর বিভাগের সাত জেলায় সফর করবেন। গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, ঠাকুরগাঁও, দিনাজপুর—সাত দিনে সাত জেলায় তার সফরকে কেন্দ্র করে কর্মসূচি রাখা হয়েছে। স্থানীয় মন্দিরে অনুষ্ঠান, রাত্রিযাপন, জেলা প্রশাসক-পুলিশ সুপারকে চিঠি দিয়ে নিরাপত্তা চাওয়া। এটা কি শুধু কীর্তন আর গীতাপাঠের সফর?

প্রশ্ন সোজা: কে এদের ভিসা দিচ্ছে? ধর্মের নামে এমন ব্যাপক ও সংবেদনশীল সফরের জন্য গোয়েন্দা সংস্থার মতামত নেওয়া বাধ্যতামূলক করা উচিত। বর্তমানে তা হচ্ছে না। ফলে উচ্চপদস্থ ভারতীয় ইসকন নেতা সীমান্তবর্তী এলাকায় নির্বিঘ্নে প্রবেশ করছেন। এই ব্যক্তি আগেও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও হিন্দু নির্যাতনের গুজবনির্ভর অভিযোগ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশ সরকার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন। এখন সেই ব্যক্তিই রংপুরে জনসভা করছেন।

ইসকনের অতীত কর্মকাণ্ডও বিতর্কিত ছিল। চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে বড় সমাবেশ ও কর্মসূচির নজির আছে, যা স্থানীয়ভাবে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা তৈরি করেছিল। রংপুরের মতো সীমান্তবর্তী বিভাগে একই ধরনের উপস্থিতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে সন্দেহ ও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর ইসকনকে ঘিরে যে অভিযোগ উঠেছিল—যে তারা আওয়ামী লীগের স্বার্থে বা দিল্লির এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে—সেই সন্দেহের ছায়া এখনো কাটেনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় এটাও প্রশ্ন উঠছে, এই সফরের সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগের প্রত্যক্ষ সংযোগ থাকলেও থাকতে পারে। এর আগে তারা হিন্দু ইস্যুতে দেশে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করেছিল। ফলে এ ধরনের অতীত অভিযোগ এবং বর্তমান সফরের সময়-স্থান মিলিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন । 

সরকারের উচিত, সব পরিস্থিতি বিবেচনায় এ ধরনের সফর বাতিল বা সীমিত করা । ভবিষ্যতে যেকোনো ধর্মীয় সংগঠনের উচ্চপদস্থ বিদেশি নেতার ব্যাপক সফর অনুমোদনের আগে গোয়েন্দা মতামত বাধ্যতামূলক করতে হবে। নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে ধর্মের আড়ালে রাখা যায় না। রংপুর নিয়ে ষড়যন্ত্র থামেনি—এটা মনে রাখতে হবে।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo