নিজের চরকায় তেল দাও

0

নিজের চরকায় তেল দাও। 

গত দুই বছরে ভারত আর বাংলাদেশের সন্ত্রাস, উগ্রবাদ আর বিচ্ছিন্নতাবাদী ঘটনার তুলনামূলক চিত্র দেখলে এই কথাটাই মনে পড়ে।

Global Terrorism Index 2026-এ বাংলাদেশের স্কোর ২.২৮৬, বিশ্বে ৪২তম। ভারতের স্কোর ৬.৪২৮, ১৩তম। পাকিস্তান প্রথম। বাংলাদেশে ২০২৫ সালে সন্ত্রাসী হামলা ১০০ শতাংশ কমেছে। ভারতে কমেছে ৪৩ শতাংশ। তবু ভারতের স্কোর এখনো বাংলাদেশের তিন গুণেরও বেশি।

গত দুই বছরে ভারতে কী হয়েছে?

২০২৫ সালের এপ্রিলে পহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলায় ২৬ জন নিহত। নভেম্বরে দিল্লির লালকেল্লায় বিস্ফোরণে ১৫ জন মারা গেছেন, আল-কায়েদার অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে যুক্ত। কাশ্মীরে এখনো নিয়মিত অপারেশন চলছে। মাওবাদী করিডরে সহিংসতা কমেছে বটে, কিন্তু শূন্য হয়নি। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলো এখনো সক্রিয়। SATP-এর তথ্য অনুযায়ী ভারতে প্রতি বছর হাজার হাজার ঘটনা ও মৃত্যু রেকর্ড হচ্ছে—কাজের ধরন আলাদা হলেও প্রভাবটা GTI-তে ধরা পড়ে।

বাংলাদেশে একই সময়ে কী হয়েছে?

বড় কোনো সফল সন্ত্রাসী হামলা নেই। GTI-তে ২০২৫ সালে হামলার সংখ্যা শূন্যের কাছাকাছি। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা যেমন কিছু পাইপ বোমা, প্রেশার কুকার বোমা উদ্ধার হয়েছে সত্য কিন্তু পুলিশ ইতোমধ্যে এদের সনাক্ত করে সন্দেহভাজন কয়েকজনকে আটকও করেছে। কিন্তু মৃত্যুর হিসাবে বা বড় আকারের সন্ত্রাসী সহিংসতায় বাংলাদেশের অবস্থান অনেক নিচে।

তবু কিছু ভারতীয় মিডিয়া ও বয়ানে বাংলাদেশকে “সন্ত্রাসের নতুন হটস্পট” বানানোর চেষ্টা চলছে। নিজেদের ১৩তম স্থান আর ৬.৪-এর স্কোর নিয়ে চুপচাপ থাকা যায়, কিন্তু প্রতিবেশীর ৪২তম স্থান নিয়ে গলা ফাটানো যায়।

এটাই নিজের চোখে কানা, পরের চোখে তিল। বলি নিজের চরকায় তেল দাও আগে। 

নিজের দেশে কাশ্মীর, মাওবাদ, উত্তর-পূর্ব আর দিল্লির বিস্ফোরণ চলতেই আছে দিনের পর দিন। প্রতিবেশী দেশে ছোটখাটো ঘটনা ঘটরেই “বাংলাদেশ ডুবে যাচ্ছে” বলে চিৎকার। GTI যে বছরের পর বছর বাংলাদেশের অবস্থান উন্নত দেখাচ্ছে, সেই তথ্যটা স্বীকার করতে অসুবিধা হয়।

বাংলাদেশে উগ্রবাদের ঝুঁকি বলা যায় অনেক কম। কিন্তু বৈশ্বিক সূচক ও বাস্তবে হামলার হিসাবে ভারতের চেয়ে বাংলাদেশ এখন অনেক নিরাপদ অবস্থানে। এই তথ্যটা স্বীকার করতে যার গলা ফাটে না, তারই ডাংগর গলা। 

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team