এখনো সফর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি, তবুও ক্ষণে ক্ষণে ভারতের মিডিয়ায় তারেক রহমানকে নিয়ে সফরের নিউজ!
ঢাকা এখনো বলেনি—সফর হবে। তবু দিল্লির সংবাদকক্ষে প্রায় প্রতিদিনই খবর বেরোচ্ছে: তারেক রহমান আসছেন। এটাই এখন ভারত-বাংলাদেশ কূটনীতির সবচেয়ে দৃশ্যমান অংশ।
গত কয়েকদিন ধরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম একই সুরে লিখছে। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ২১ আগস্ট লিখেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৩ থেকে ২৫ আগস্টের মধ্যে নয়াদিল্লিতে থাকতে পারেন। অন্য সংবাদমাধ্যমও একই উইন্ডো ঘিরে খবর চালায়—কখনো ২০-২৫ আগস্ট, কখনো আগামী সপ্তাহ, কখনো দুই দিনের দ্বিপাক্ষিক সফর। রাষ্ট্রপতি ভবন এক পর্যায়ে এমনকি চেঞ্জ অব গার্ড স্থগিতের খসড়া বিবৃতিও ছাড়ে, কারণ হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর অভ্যর্থনার মহড়ার কথা বলে। এক ঘণ্টার মধ্যে সেই বিবৃতি প্রত্যাহারও করেছে।
ঢাকার অবস্থান কিন্তু এখনো অপরিবর্তিত। প্রেস সচিব স্পষ্ট করে বলেন, শেখ হাসিনা ও অন্যান্য পলাতকদের প্রত্যর্পণ ইস্যুতে ভারতের জবাব না পাওয়া পর্যন্ত সফর নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। রয়টার্সে যে তারিখগুলো উল্লেখ করা হয়েছে, সেই তারিখেও সফর হবে না বলে নিশ্চিত করেন তিনি। এর আগে ১৬ আগস্ট পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একই কথা বলেছিল—সফরের জন্য প্রথমে অনুকূল পরিবেশ লাগবে।
অর্থাৎ একদিকে অফিসিয়াল সিদ্ধান্ত নেই, অন্যদিকে ভারতীয় মিডিয়ায় সফরকে প্রায় নিশ্চিত ঘটনার মতো উপস্থাপন করা হচ্ছে। এই ধরনের খবর নতুন নয়। আগস্টের মাঝামাঝি থেকেই দিল্লির সংবাদমাধ্যম বারবার তারিখ নিয়ে স্পেকুলেশন ছড়িয়েছে। প্রতিবারই সূত্রের নাম অস্পষ্ট। প্রতিবারই ঢাকা থেকে সংশোধন এসেছে। তবু পরের দিন আবার নতুন করে একই খবর ঘুরে দাঁড়ায়।
এই পুনরাবৃত্তির একটা রাজনৈতিক অর্থ আছে। ভারত চায় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ছবি দ্রুত দৃশ্যমান হোক। তারেক রহমান ক্ষমতায় আসার পর মালয়েশিয়া ও চীন সফর করেছেন, কিন্তু দিল্লি এখনো তাঁর প্রথম দ্বিপাক্ষিক গন্তব্য হয়নি। সেই শূন্যতা ভারতীয় মিডিয়া পূরণ করতে চাইছে আগেভাগেই। সফর হয়ে গেছে—এমন অনুভূতি তৈরি করলে ঢাকার ওপর চাপ বাড়ে, অভ্যন্তরীণ সমালোচকদের মুখও কিছুটা বন্ধ হয়। একই সঙ্গে হাসিনার প্রত্যর্পণ ইস্যুকে পেছনে ঠেলে দেওয়া যায়।
কিন্তু কূটনীতি মিডিয়া হেডলাইনে চলে না। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে বারবার যে শর্ত তোলা হয়েছে, তা খুব সরল: প্রথমে পরিবেশ, তারপর সফর। সেই পরিবেশ এখনো তৈরি হয়নি বলেই ঢাকা সিদ্ধান্ত স্থগিত রেখেছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম যতবারই “আসছেন” বলে খবর ছাপুক, বাংলাদেশ সরকারের মুখপাত্ররা ততবারই বলেছেন—এখনো হয়নি।
তাই প্রশ্নটা সফর হবে কি না, তার চেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে অন্য একটি প্রশ্ন। সিদ্ধান্ত না হওয়া সত্ত্বেও কেন একই খবর বারবার ফিরে আসছে? উত্তর হয়তো এই যে, দিল্লি চায় ঘটনা ঘটুক। আর ঢাকা চায় ঘটনার আগে শর্ত পূরণ হোক। এই টানাপোড়েনের মাঝখানে ভারতীয় মিডিয়া যে ভূমিকা নিয়েছে, তা কূটনৈতিক বাস্তবতার চেয়ে চাপ প্রয়োগের আকাঙ্ক্ষাই বেশি।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment