ঘর সামলাতে পারে না, প্রতিবেশীর উঠোন মাপে!

0


ঘর সামলাতে পারে না, প্রতিবেশীর উঠোন মাপে!

গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্স ২০২৬-এর তথ্য অনুসারে ভারতের অবস্থান বাংলাদেশের চেয়ে অনেক খারাপ। ভারত বিশ্বে ১৩তম স্থানে স্কোর ৬.৪২৮ নিয়ে উচ্চ প্রভাবের তালিকায় রয়েছে। বাংলাদেশ ৪২তম স্থানে মাত্র ২.২৮৬ স্কোর নিয়ে নিম্ন প্রভাবের শ্রেণিতে। ভারতে হামলা ৪৩ শতাংশ কমলেও স্কোর এখনো উচ্চ। বাংলাদেশে শতভাগ হামলা কমেছে। তবুও ভারতের নজর বারবার বাংলাদেশের দিকেই পড়ছে। নিজের দেশের কাশ্মীর ও অন্যান্য এলাকার সন্ত্রাস সমস্যা সমাধান না করে প্রতিবেশীর দিকে আঙুল তোলা অযৌক্তিক।

নরেন্দ্র মোদির সরকারের আমলে প্রবণতা এটাই। ভারতীয় গণমাধ্যম ও কিছু কর্মকর্তা প্রায়ই বাংলাদেশে চরমপন্থার উত্থানের কথা প্রচার করেন। অথচ সূচক বলছে বাংলাদেশে সন্ত্রাসের প্রভাব কমেছে। মোদি সরকার শেখ হাসিনার প্রতি একতরফা সমর্থন দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল। সেই নীতির ব্যর্থতা এখন সম্পর্ককে উত্তপ্ত করে তুলেছে। হাসিনাকে আশ্রয় দিয়ে রাখা এবং বাংলাদেশের দাবি উপেক্ষা করা মোদির কূটনৈতিক ব্যর্থতার উদাহরণ। নিজের দেশে সন্ত্রাস কমাতে ব্যর্থ হয়ে প্রতিবেশীর ওপর দোষ চাপানো সহজ পথ।

ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে নিরাপত্তা উদ্বেগ প্রায়ই চোখে পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের সফলতা উপেক্ষা করে কেবল ঝুঁকির কথা বলা হয়। মোদি সরকারের হিন্দুত্ববাদী নীতি প্রতিবেশী সম্পর্ককে জটিল করেছে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তার কথা বলে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ সিদ্ধির চেষ্টা দেখা যায়। অথচ ভারতের নিজস্ব সন্ত্রাস সূচক দেখায় যে দেশটি এখনো পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পর দক্ষিণ এশিয়ায় তৃতীয় স্থানে। নিজের বাড়িতে আগুন জ্বলে থাকা অবস্থায় প্রতিবেশীর বাড়িতে নজরদারি করাই যেন মোদির কাজ।

কাশ্মীর ছাড়াও ভারতের সেভেন সিস্টারে প্রায়ই আন্দোলনের কথা শোনা যায়। প্রায়ই এসব রাজ্য অস্থিতিশীল থাকে। মিজোরামে নানা বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন মাথা চাড়া দেয়। আর এদের দমনে মোদি সরকার নানা শক্তি প্রয়োগ করে। মুসলমানরা ভারতে কোনঠাসা। খ্রীষ্ট্রান সম্প্রদায়ও ভালো নেই। প্রায়ই সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর হামলা মামলা চলে। এসব বিবেচনায় মোদির দেশ গ্লোবাল টেররিজম ইনডেক্সে বাংলাদেশের চেয়ে অনেক অনেক খারাপ অবস্থানে।

তুলনামূলক চিত্র দেখায় যে বাংলাদেশ সন্ত্রাস নিয়ন্ত্রণে এগিয়ে। ভারতের অবস্থান খারাপ হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশের দিকে নজর দেওয়া এবং মোদি সরকারের কূটনৈতিক ভুল সম্পর্ককে আরও জটিল করেছে। নিজের ঘর ঠিক না করে প্রতিবেশীর দোষ খোঁজা কোনো সমাধান নয়। দুই দেশের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হলে ভারতকে নিজের দুর্বলতা স্বীকার করে বাস্তবসম্মত নীতি নিতে হবে।

#IndiaTerrorismIndex #ModiPolicyFailure #BangladeshSecuritySuccess

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team