দ্বৈত মানদণ্ডের পত্রিকা প্রথম আলো ডেইলি স্টার: আওয়ামী আমলে নীরবতা, এখন প্রথম পাতা

0

দ্বৈত মানদণ্ডের পত্রিকা প্রথম আলো ডেইলি স্টার: আওয়ামী আমলে নীরবতা, এখন প্রথম পাতা

তখন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার আওয়ামী লীগের মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে এরকম কোনো সংবাদ প্রথম পাতায় ছাপেনি। আর এখন একজন টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রীকে নিয়ে প্রথম পাতায় সংবাদ ছাপাচ্ছে। এটা কীভাবে সম্ভব আসুন খোলাসা করি-

বিএনপি সরকারে সদ্য নিয়োগ একজন টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রীর নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন পারে সংসদে, সেখানে বিরোধী দল আছে, তারা যুক্তি দিবে, যুক্তি খণ্ডন হবে সেটা সংসদের সৌন্দর্য। কিন্তু যখন স্বচ্ছতা ও সংবিধানের দোহাই দিয়ে সংসদে আলোচনার আগেই সেটা সংবাদ ছাপানো হয় তাও আবার প্রথম আলোতে সেটা কিন্তু উদ্দেশ্যমূলক। আওয়ামী লীগের দেড় দশকের শাসনামলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) স্পষ্ট তথ্যে অন্তত ২৪ জন মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও সংসদ সদস্য বিদেশি নাগরিকত্ব বা রেসিডেন্স কার্ড নিয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন—সেখানে কোনো জবাবদিহিতা, কোনো পদত্যাগের দাবি, এমনকি গণমাধ্যমেও তেমন কোনো জোরালো আলোচনা হয়নি। প্রথম আলো তো তখন সেটা সংবাদ করেনি।

সংবিধানের ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ স্পষ্ট: বিদেশি নাগরিকত্ব অর্জন বা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার করলে কেউ সংসদ সদস্য বা মন্ত্রী হতে পারেন না। এই বিধান আওয়ামী লীগ আমলেও একই ছিল। তবুও দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে যে—

  • যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব নিয়ে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ছিলেন আ হ ম মুস্তফা কামাল, তাজুল ইসলাম, সাইফুজ্জামান চৌধুরী, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী ও মাহবুব আলী।

  • যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন কার্ড বা নাগরিকত্ব নিয়ে ছিলেন নসরুল হামিদ, জুনাইদ আহমেদ পলক, মোহাম্মদ আলী আরাফাতসহ আরও কয়েকজন।

  • কানাডার নাগরিকত্ব নিয়ে ছিলেন আবদুর রহমান, শামীম ওসমানসহ একাধিক নেতা।
  • এছাড়া সুইস, বেলজিয়ান, সাইপ্রাসীয় নাগরিকত্ব বা রেসিডেন্সি নিয়েও ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন, হাসান মাহমুদ, সালমান এফ রহমান প্রমুখ।

এই তথ্যগুলো দুদকই সংগ্রহ করেছে। কিন্তু সেই সময় ক্ষমতার দাপটে এসব বিষয় চাপা পড়ে গিয়েছিল, প্রথম আলোর অনুসন্ধানী সংবাদ তখন ছিলো না? তখন তো কোনো মন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়নি, কোনো এমপির আসন বাতিল হয়নি। আর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ বড় গণমাধ্যমগুলো তখন প্রথম পাতায় এ নিয়ে কোনো ঝড়ও তোলেনি। ক্ষমতা চলে যাওয়ার পর দুদকের তথ্য নিয়ে প্রতিবেদন এসেছে ঠিকই, কিন্তু ক্ষমতায় থাকাকালীন সেই নীরবতা কি পেশাদার সাংবাদিকতার নমুনা?

এখন একজন টেকনোক্র্যাট প্রতিমন্ত্রী—যিনি নির্বাচিত সংসদ সদস্য নন, যিনি দেশে ফিরে কাজ করতে এসেছেন—তার নাগরিকত্ব নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। স্বচ্ছতা দাবি করা হচ্ছে! কিন্তু একই মানদণ্ড আওয়ামী লীগ আমলে কেন প্রয়োগ হয়নি? কেন সেই ২৪ জনের ক্ষেত্রে সংবিধান ‘নমনীয়’ ছিল? কেন প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার তখন প্রথম পাতায় এ নিয়ে সোচ্চার হয়নি?

স্বচ্ছতা ও আইনের শাসন সবার জন্য সমান হতে হবে। আজ যদি একজনের নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তাহলে গতকালের ২৪ জনের বিষয়টিও সমান গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত ছিল। দ্বৈত মানদণ্ড দিয়ে রাজনীতি চলতে পারে, কিন্তু সংবাদপত্র চলতে পারে না।

যারা এখন স্বচ্ছতার কথা বলছেন, তাদের কাছে প্রশ্ন: আওয়ামী লীগ আমলের সেই ২৪ জনের হিসাব কবে মিলবে? আর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারসহ যারা এখন এই ইস্যুতে সোচ্চার, তারা তখন কোথায় ছিলেন?

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team