বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও বাংলাদেশের সংবিধান

0


বিশ্ব আদিবাসী দিবস ও বাংলাদেশের সংবিধান

আসছে বিশ্ব আদিবাসী দিবস। এই উপলক্ষে আবারও আলোচনা উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি জনগোষ্ঠীদের পরিচয় নিয়ে। কেউ কেউ তাদের “আদিবাসী” বলে দাবি করেন। কিন্তু বাংলাদেশের সংবিধান সেই শব্দ ব্যবহার করেনি। সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে—“ক্ষুদ্র নৃ-তাত্ত্বিক জনগোষ্ঠী, সম্প্রদায় ও সংগঠন”। এটা কোনো ভুল বা অবহেলা নয়। এটা রাষ্ট্রের সচেতন ও সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত।

এই শব্দচয়ন কেন গুরুত্বপূর্ণ, সেটা বোঝা দরকার।

প্রথমত, ঐতিহাসিক বাস্তবতা। পার্বত্য চট্টগ্রামের বসবাসরত জনগোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক কালে এই ভূখণ্ডে বসতি স্থাপন করেছে। অনেকে যুদ্ধ-বিগ্রহ ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে পার্শ্ববর্তী অঞ্চল থেকে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। অন্যদিকে বাঙালিরা এই ভূখণ্ডের সহস্র বছরের বাসিন্দা। “আদিবাসী” শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো “আদি” বা “প্রথম” বাসিন্দা। এই দাবি ইতিহাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

দ্বিতীয়ত, ১৯৯৭ সালের পার্বত্য শান্তি চুক্তি নিজেই “উপজাতি” শব্দ ব্যবহার করেছে। পার্বত্য নেতারা তখন নিজেরাই এই পরিভাষা মেনে নিয়েছিলেন। এখন হঠাৎ আন্তর্জাতিক পরিভাষা আমদানি করে ভিন্ন দাবি তোলা চুক্তির চেতনার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।

তৃতীয়ত, সাংবিধানিক সাম্যের নীতি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ও সংবিধান সব নাগরিককে সমান মর্যাদা দিয়েছে। “আদিবাসী” স্বীকৃতি দিলে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে বিশেষ ভূমি-অধিকার ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলার আন্তর্জাতিক আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে। আইএলও কনভেনশন ১৬৯-এর মতো কাঠামো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য জটিলতা ডেকে আনতে পারে।

চতুর্থত, রাষ্ট্রীয় ঐক্য রক্ষা। বাংলাদেশ একটি অভিন্ন জাতিরাষ্ট্র। এখানে “আদিবাসী-অনাদিবাসী” বিভাজন তৈরি করলে সামাজিক সংহতি ক্ষুণ্ন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। সংবিধানের ভাষাই তাই সবচেয়ে নিরাপদ ও ঐক্যবদ্ধ পথ।

সংবিধান মানা মানেই রাষ্ট্রের প্রতি সম্মান দেখানো। ভুল পরিভাষা দিয়ে ইতিহাস আর আইন—দুটোকেই অস্বীকার করা ঠিক নয়। বাংলাদেশের সংবিধান স্পষ্ট। সেই স্পষ্টতা মেনে চলাই দেশের ঐক্য ও স্থিতিশীলতার জন্য সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo