“পালাব না, পালাব কোথায়?” — তারপর পালিয়ে গেলেন যার যে দেশে পাসপোর্ট
ওবায়দুল কাদের একদিন গলা ফাটিয়ে বলেছিলেন, “পালাব না, পালাব কোথায়?” কথাটা তখন এত জোরে বেজেছিল যে মনে হয়েছিল, তিনি যেন দেশের মাটির সঙ্গে শিকড় গেঁথে ফেলেছেন। যেন এই দেশ ছাড়া আর কোনো ঠিকানাই নেই তার। কিন্তু ৫ আগস্টের পর দেখা গেল, শিকড় তো ছিল, তবে মাটিটা ছিল অন্য দেশের।
যারা ক্ষমতায় থাকতে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদকে পায়ে দলতেন, তারাই সরকার পতনের পর নিজেদের ‘দ্বিতীয় বাড়ি’র দিকে ছুটলেন। যার যুক্তরাজ্যের পাসপোর্ট, তিনি লন্ডনে। যার বেলজিয়ামের রেসিডেন্স, তিনি ব্রাসেলসে। যার কানাডা বা আমেরিকার গ্রিন কার্ড, তিনি সেখানে। আর যাদের কিছুই ছিল না, তারা শুধু ভারতের সীমান্ত পার হয়ে ‘অস্থায়ী আশ্রয়’ নিলেন।
হাসিনাও বলেছিলেন- আওয়ামী লীগ কখনো পালায় না। হাসিনা আর কাদের ভাইয়ের সেই বিখ্যাত কথাটা এখন শুনলে হাসি পায়। “পালাব কোথায়?” — উত্তর তো আগে থেকেই তৈরি ছিল। কেউ লন্ডনের ফ্ল্যাটে, কেউ টরন্টোর বাড়িতে, কেউ নিউইয়র্কের অ্যাপার্টমেন্টে। দ্বৈত নাগরিকত্ব যেন একটা গোপন এয়ারপোর্ট পাস। ক্ষমতা থাকতে এটা লুকিয়ে রাখা হতো, ক্ষমতা চলে গেলে এটাই হয়ে উঠল লাইফলাইনের টিকিট।
হাসান মাহমুদ বেলজিয়ামে, সাইফুজ্জামান চৌধুরী লন্ডনে সম্পত্তির পাহাড় নিয়ে, মুস্তফা কামাল যেখানে তার নাগরিকত্বের সুবিধা, শামীম ওসমান যেখানে তার কানাডীয় সংযোগ। আর কাদের নিজে? তিনিও পালিয়েছেন। “পালাব না” বলে যিনি দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিলেন, তিনিও শেষমেশ সেই পথেই হেঁটেছেন, যে পথ অনেকের জন্য আগে থেকেই খোলা ছিল।
এটা শুধু পলায়ন নয়। এটা একধরনের প্রি-প্ল্যানড এক্সিট স্ট্র্যাটেজি। ক্ষমতায় থাকতে দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘আমি কোথাও যাব না’ বলা, আর ক্ষমতা হারালেই বিদেশের পাসপোর্ট বের করে বলা — “দেখো, আমি তো বলেছিলাম পালাব কোথায়? এখন দেখলে তো?” যে মাটি তাদের সেখানেই তারা পালিয়েছে।
জাতি দেখল- যার যে দেশে নাগরিকত্ব, সে সেখানেই পালায়।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment