কলকাতার হোটেলে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু: পেছনে কারা?

0


কলকাতার হোটেলে ৯ বাংলাদেশির মৃত্যু: পেছনে কারা?

আজ (১৯ আগস্ট) ভোররাতে কলকাতার নিউমার্কেটের পাশে এক হোটেলে আগুনে অন্তত নয়জন প্রাণ হারালেন। তাঁদের অধিকাংশই বাংলাদেশি। চিকিৎসা নিতে গিয়েছিলেন। একটি শিশুও আছে।

এই মৃত্যুকে শুধু শর্ট সার্কিট বা এসি বিস্ফোরণ বলে চুকিয়ে দেওয়া যায় না। ঘটনা ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন ঢাকা-দিল্লির সম্পর্ক টানাপোড়েনে, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি ক্ষমতায় এসে বাংলাদেশিদের তাড়িয়ে দেওয়ার নীতি চালু করেছে, আর কলকাতা সেই পুরনো নিরাপদ শহর নেই।

গত কয়েকদিনে সম্পর্ক আরও টানটান হয়েছে। তারেক রহমানের ভারত সফর আটকে আছে শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণের শর্তে। দিল্লি বলছে, অনুরোধ পরীক্ষা করা হচ্ছে। ঢাকা বলছে, পরিবেশ অনুকূল নয়। এর মাঝেই কলকাতায় বাংলাদেশি ৯ জন পুড়ে বা ধোঁয়ায় মারা গেলেন! বিশ্বাস হয় এটা নিছক একটা দুর্ঘটনা?

মে মাসে শুভেন্দু অধিকারী পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে নীতি স্পষ্ট—ডিটেক্ট, ডিলেট, ডিপোর্ট। অবৈধ অনুপ্রবেশকারী খুঁজে বের করে সীমান্তে ঠেলে দেওয়া। হাজার হাজার মানুষকে ফেরত পাঠানোর দাবি করা হয়েছে। হোল্ডিং সেন্টার খোলা হয়েছে। সীমান্তে পুশ-ইন নিয়ে দুই দেশের টানাপোড়েন চলছে। এই পরিবেশে কলকাতায় থাকা বাংলাদেশি মানেই সন্দেহের চোখে পড়া। চিকিৎসা নিতে এলেও তাঁরা আর সাধারণ অতিথি নন, তাঁরা রাজনৈতিক ইস্যু।

কলকাতা কখনোই পুরোপুরি নিরাপদ ছিল না। সস্তা হোটেল, অবৈধ ভবন, অগ্নিনির্বাপণহীন লজ—এগুলো বছরের পর বছর চলেছে। কিন্তু আগে অন্তত প্রশাসনিক বৈরিতা এত প্রকাশ্য ছিল না। এখন সেই অনিরাপদ হোটেলগুলোতেই বাংলাদেশিরা ওঠেন, কারণ চিকিৎসা সস্তা। আর সেই হোটেলেই আগুন লাগে। উদ্ধার হয় অনেকে। মারা যান যাঁরা তৃতীয় তলায় ঘুমাচ্ছিলেন—যাঁদের বেশিরভাগই বাংলাদেশি।

দায় তাহলে কার? খবরে যা দেখলাম, হোটেল কর্তৃপক্ষ নাকি পালিয়েছে। এমনকি যারা মারা গেছে তাদের নামের তালিকাটাও উদ্ধার হয় নি এখনো। হোটেল কর্তৃপক্ষ পালাল কেন? সন্দেহটা এখানেই-

এখানে কিন্তু রাজনৈতিক দায়ও এড়ানো যায় না। যে সরকার বাংলাদেশিকে অনুপ্রবেশকারী বলে তাড়া করে, সেই একই শহরে বাংলাদেশি রোগীদের অনিরাপদ হোটেলে থাকতে বাধ্য করে। শুভেন্দুর ক্রমাগত হুমকি ও ডিপোর্টেশন অভিযান এমন একটা পরিবেশ তৈরি করেছে, যেখানে বাংলাদেশির জীবনের মূল্য কম। আগুন দুর্ঘটনা হতে পারে। কিন্তু দুর্ঘটনার পরও যে প্রশ্ন ওঠে—কেন কেবল বাংলাদেশি কয়েকজনই মারা গেলেন?

দিল্লি ও কলকাতাকে জানাতে হবে—চিকিৎসা নিতে আসা মানুষকে সন্দেহভাজন বানিয়ে অনিরাপদ ভবনে ফেলে রাখলে মৃত্যু শুধু আগুনের নয়, নীতিরও।

নয়জনের মৃত্যু! ভারত কি বাংলাদেশিদের লাশ চেয়েছে? টানাপোড়েন চলাকালে কলকাতায় বাংলাদেশির লাশ পড়লে দায় কেবল হোটেল মালিকের নয়। দায় সেই রাজনীতিরও, এর জবাব চাই- জবাব দিতে হবে শুভেন্দু অধিকারীকেও।  

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team