ভারতের চাকমারা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে চক্রান্ত করছে!

0

ভারতের চাকমারা পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে চক্রান্ত করছে!

গত কয়েকদিনে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম নিয়ে একের পর এক বিবৃতি এসেছে। এমনকি তারা প্রেস কনফারেন্সও করেছে। আর সেই প্রেস কনফারেন্স এ সরাসরি রাষ্ট্রীয় সীমানা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

এর পেছনে রয়েছে মিজোরামের বিধায়ক রসিক মোহন চাকমা, ত্রিপুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক গৌতম চাকমা, অরুণাচলের চাকমা-হাজং এলডার্স ফোরামের প্রীতিময় চাকমা এবং চাকমা ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন অব ইন্ডিয়ার প্রতিষ্ঠাতা সুহাস চাকমা—এই চারজন। তাঁরা ১৯৪৭ সালের র‍্যাডক্লিফ অ্যাওয়ার্ডকে ‘অবৈধ’ বলেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অংশ করার দাবি তুলেছেন। এমনকি হেগে আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথাও বলেছেন।

একই সময়ে তাঁরা ভারত সরকারকে বাংলাদেশে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছেন। অজুহাত তারেক রহমানের ভারত সফর ও শেখ হাসিনা প্রত্যর্পণ ইস্যু। অর্থাৎ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের চাপকে পার্বত্য চট্টগ্রামের পুরোনো দাবির সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হচ্ছে।

এটা নতুন কোনো ঘটনা নয়- প্রতি বছর ১৭ আগস্ট ভারতের চাকমা সংগঠনগুলো ‘চাকমা ব্ল্যাক ডে’ পালন করে। এই চাকমা ব্ল্যাক ডে-তে কিন্তু দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডই করে সারাদিন, ১৫ আগস্ট ১৯৪৭-এ রাঙামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিল, কিন্তু দুদিন পর র‍্যাডক্লিফ অ্যাওয়ার্ডে পার্বত্য চট্টগ্রাম পাকিস্তানের অংশ হয়। এই স্মৃতিচারণ চলছে বছরের পর বছর। এই স্মৃতিচারণে তারা এবার তার সঙ্গে যুক্ত করেছে চাপ প্রয়োগের কথা যেমন আইসিজে, জ্বালানি বন্ধ এবং পুনরায় সীমানা পুনর্বিবেচনা।

আর এই কাজগুলো কারা করছে জানেন? এরা ভারতের নাগরিক, চাকমারা। এরা সবাই মিজোরাম, ত্রিপুরা ও অরুণাচলের চাকমা সম্প্রদায়ের নেতা। তাঁরা পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসরত চাকমা, মারমা বা ত্রিপুরা জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি নন। পার্বত্য চট্টগ্রামের মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক। তাঁদের অধিকার, ভূমি ও সংস্কৃতি রক্ষা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ভারতে বসে কেউ সেই ভূখণ্ডের মালিকানা দাবি করলে তা হাস্যকরা ছাড়া আর কিছু নয়।
প্রতিবেশী দেশের মাটিতে বসে বাংলাদেশের একটি অঞ্চলকে ‘ঐতিহাসিক ভুল’ বলে চিহ্নিত করা, আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার কথা বলা এবং অর্থনৈতিক চাপের প্রস্তাব দেওয়া—এগুলো কেবল মতপ্রকাশ নয়। এগুলো ভারতের রাষ্ট্রীয় চক্রান্ত, উস্কানিমূলক কাজ, বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ। সেই ন্যারেটিভ একদিন সীমান্ত, নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।

১৯৭১ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামে স্বাধীনতাবিরোধী অবস্থানের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ব্যক্তি ছিলেন চাকমা সার্কেলের রাজা ত্রিদিব রায়। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নেন এবং যুদ্ধের শেষ দিকে পাকিস্তানে চলে যান। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের গবেষণাতেও তাকে পাহাড়ের অন্যতম প্রধান স্বাধীনতাবিরোধী নেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুরো পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতাবিরোধী বলা সঠিক নয়। চাকমা, মারমা ও অন্যান্য পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর অনেক মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। পার্বত্য চট্টগ্রাম ছিল মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টরের অন্তর্ভুক্ত।

এখন আমাদের যেটা করা উচিত-

পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এসব বিবৃতির পেছনের সংগঠন, যোগাযোগ ও অর্থায়ন খতিয়ে দেখা এবং নয়াদিল্লিকেও স্পষ্ট করে জানাতে হবে যে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ভারতের মাটি থেকে এ ধরনের প্রচারণা চলবে না। 

যারা ভারতে বসে পার্বত্য চট্টগ্রামকে আলাদা করার স্বপ্ন দেখছে, তাঁদের বক্তব্যকে হালকা করে দেখারও সুযোগ নেই। এসব সিরিয়াসলি নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত। সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আপস চলে না।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team