হিন্দু অপরাধী হলে ন্যারেটিভ থেমে যায়, চলে ভিন্ন গল্প: রংপুরের চার খুনে যে সত্য উঠে এল

0


রংপুরের ঘটনা এখন পরিষ্কার। অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা, মেয়ে আগামী এবং কিশোর ছেলে আয়ুশ—একই পরিবারের চারজনকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে। আটক দুই তরুণ সিদ্ধার্থ দাস ও মুগ্ধ দাস। দুজনেই হিন্দু। একই এলাকার বাসিন্দা। পুলিশের দাবি, ইয়াবা সেবনের সময় বাধা পেয়ে তারা একে একে পরিবারটিকে খতম করেছে। হত্যার পর বাড়িতেই গোসল করেছে, খেজুর-শসা খেয়েছে, এমনকি প্রমাণ মুছে ফেলার চেষ্টাও করেছে। পরে স্বীকারোক্তিও দিয়েছে।

এই ঘটনাটি অনেকের জন্য অস্বস্তিকর। কারণ এটি সেই ন্যারেটিভকে ভেঙে দিয়েছে, যেখানে প্রতিটি হিন্দু পরিবারের দুর্ঘটনাকেই “সংখ্যালঘু নির্যাতন” বলে প্রচার করা হয়। অপরাধী যদি মুসলিম হতো, তাহলে সকাল থেকেই ফটোকার্ড তৈরি হতো, “হিন্দু শূন্য দেশ” স্লোগান উঠত, সরকার ও মুসলমানদের ওপর দায় চাপানো হতো। কিন্তু অপরাধী হিন্দু হওয়ায় সেই কার্ড খেলা যায়নি। ফলে অনেকে এখন ঘটনাটিকেই ভুয়া বলে সন্দেহ করছে, বা চুপচাপ সরে যাচ্ছে।

এখানেই প্রশ্ন ওঠে—হিন্দুরা কি ক্রাইম করতে পারে না? ভারতে কি হিন্দুদের মধ্যে অপরাধী নেই? সেখানে কি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, খুনি, ধর্ষক, মাদক ব্যবসায়ী নেই? অবশ্যই আছে। ধর্ম কোনো সম্প্রদায়কে অপরাধমুক্ত করে না। অপরাধ ব্যক্তির, সম্প্রদায়ের নয়। রংপুরের এই দুই তরুণ যদি ইয়াবার নেশায় উন্মত্ত হয়ে পরিচিত একটি পরিবারকেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে, তাহলে “হিন্দুরা এমন কাজ করতে পারে না” বলে যে দাবি করা হয়, সেটা শুধু অজ্ঞতা নয়—উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা।

যারা প্রতিটি ঘটনাকে সাম্প্রদায়িক রঙ দিতে ব্যস্ত, তারাই এখন অস্বস্তিতে। কারণ এই ঘটনায় “মুসলিম হামলা” বা “সরকারি প্ররোচনা” দেখানোর কোনো জায়গা নেই। বরং দেখা গেছে, অপরাধীদের নিজের পরিবারও হতবাক। সিদ্ধার্থের বাবা নিজেই ছেলেকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন বলে খবর এসেছে। এটা দেখায় যে, একই সম্প্রদায়ের মানুষও অপরাধকে মেনে নেয় না।

তবু কিছু মানুষ এখনও চেষ্টা করবে ঘটনাকে অন্য খাতে প্রবাহিত করতে। কেউ বলবে পুলিশের তদন্ত সঠিক নয়, কেউ বলবে এটা ষড়যন্ত্র। কিন্তু বাস্তবতা হলো—এদের দুজনের স্বীকারোক্তিকে কেন আপনারা অস্বীকার করতে চাচ্ছেন? যেখানে নিজেরাই দোষ স্বীকার করছে।

অপরাধকে অপরাধ হিসেবেই দেখতে হবে। ধর্মের লেবেল লাগিয়ে ন্যারেটিভ বানানো বন্ধ করতে হবে। রংপুরের এই ঘটনা সেই শিক্ষাই দিচ্ছে—হিন্দু হোক বা মুসলিম, অপরাধী অপরাধীই। আর যারা শুধু এক পক্ষের অপরাধ দেখে অন্য পক্ষের অপরাধ ঢেকে রাখতে চায়, তারাই আসলে অমানবিকতার প্রকৃত উদাহরণ।

No comments

Post a Comment

© Trendingbuzz24.com all rights reserved
made with by Trendingbuzz Team