২০০৫ এর পুনরাবৃত্তি যেন না হয়....

0


১৭ আগস্ট, ২০০৫। বাংলাদেশের ইতিহাসের এক কালো দিন।

সকাল থেকে দুপুরের মধ্যে সারা দেশজুড়ে একযোগে শতাধিক স্থানে বোমা ফাটে। জেলা সদর, আদালত, সরকারি অফিস—প্রায় সব জায়গায়। দুইজন নিহত। শতাধিক আহত। দেশজুড়ে আতঙ্ক।

তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া তখন চীন সফরে। দেশে বিরোধী দলে ছিল আওয়ামী লীগ। হামলার দায় স্বীকার করে জামা’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ—জেএমবি।

সেই ছায়া আজও কাটেনি।


এখন ২০২৬।

ক্ষমতায় এখন বিএনপি সরকার। আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত। পলাতক। কিন্তু পরিস্থিতি আবার অদ্ভুতভাবে মিলছে।

গত কয়েক সপ্তাহে রাজধানী ও আশপাশে একাধিকবার বোমা ও বিস্ফোরক উদ্ধার হয়েছে।

২৪ জুলাই। মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পরিত্যক্ত একটা ছাতার ভেতর শক্তিশালী পাইপ বোমা। প্রায় দেড় কেজি সালফার আর ধাতব টুকরো। রথযাত্রার রাস্তায় রাখা।

৩১ জুলাই। আশুলিয়ার এক চায়ের দোকানের সামনে ব্যাগের ভেতর প্রেশার কুকার বোমা। সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল সেটিকে নিরাপদে নিষ্ক্রিয় করে।

আর সবচেয়ে বড় ঘটনা—১১ আগস্ট। সাভারের শ্যামপুর এলাকায় সিটিটিসির অভিযান। একটি ভবন ঘিরে রাখা হয়। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ১৪টি পাইপ বোমা। বোমা তৈরির বিপুল সরঞ্জাম। আর জেএমবির লিফলেট।

একজন সন্দেহভাজন গ্রেপ্তার হন। পুলিশ বলছে—তিনি মতিঝিল ও আশুলিয়ার ঘটনার সঙ্গেও যুক্ত।

একই দিন মহাখালীতেও আওয়ামী লীগের মিছিলে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।


এসব কি কেবল কাকতালীয়? এবার আসুন মিলিয়ে নেয়া যাক-

ঠিক এই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্টের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর ঢাকায় সফর করছেন। ৩০ জুলাই থেকে ১ আগস্ট। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক। রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন। বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে।

একই সময়ে হাসিনা ইস্যু নিয়ে ভারতের সঙ্গে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলছে। আন্তর্জাতিক নজর বাংলাদেশের দিকে তীব্র।

২০০৫ সালেও খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে হামলা হয়েছিল। এখনও সংবেদনশীল সময় বেছে নেওয়া হচ্ছে।

যখন বাংলাদেশের দিকে বিশ্বের চোখ। যখন কূটনৈতিক চাপ বাড়ছে। ঠিক তখনই দেশের ভেতরে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা।


হাসিনা ইস্যু আর ভারত ইস্যু এখন আর কোনো দলীয় বিষয় নয়।

এটি জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্ন। সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন।

সরকার যখন জনগণকে সাথে নিয়ে এসব জাতীয় ইস্যুতে মনোযোগ দিচ্ছে-

ঠিক তখনই এই পরিস্থিতি।

এখানে বিভক্তি চলবে না। সবাইকে একই সুরে কথা বলতে হবে।

২০০৫ সালের সেই অন্ধকারকে আমরা ভুলতে পারি না। আর সেই অন্ধকারকে আবার ফিরে আসতে দেওয়া যাবে না।

নিরাপত্তা বাহিনী ইতিমধ্যে অনেক বড় বিপর্যয় ঠেকিয়েছে। কিন্তু শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর কাজ নয়। এটি জাতির সম্মিলিত দায়িত্ব।

২০০৫-এর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে হবে। দেশকে আবার সেই অন্ধকারে ঠেলে দেওয়ার কোনো চক্রান্তই প্রতিহত করতে হবে।

চোখ খোলা রাখুন। সতর্ক থাকুন। আর ঐক্যবদ্ধ থাকুন।

কারণ… ইতিহাস পুনরাবৃত্তি ঘটায় না। মানুষই ঘটায়। পতিত ও পরাজিত শক্তিই ঘটায়। সরকারকে বিব্রত করতে ঘটায়।


No comments

Post a Comment

© all rights reserved
made with by templateszoo