সংকট আজকের নয়: উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া বোঝা সামলে কতটা এগোতে পারবে সরকার?
২৭ জুন ২০২৩। শেখ হাসিনার “উন্নয়নের মহাসড়ক”-এর সময় বাংলাদেশে সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল প্রায় ৩,৪১৯ মেগাওয়াট। তখন দেশের মোট ঋণ ছিল প্রায় ৯৮ বিলিয়ন ডলার। এখন ঋণ ১১০ বিলিয়ন ডলারের ওপরে। একই সঙ্গে পদ্মা সেতু, রূপপুর, মেট্রোরেলসহ বড় বড় প্রকল্পের কিস্তি পরিশোধ শুরু হয়েছে। এর ওপর বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট, হরমুজ পরিস্থিতি এবং এলএনজি টার্মিনালে আগুন পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করেছে।
বর্তমানে লোডশেডিং প্রায় ৩,৭৫৭ মেগাওয়াট। অর্থাৎ ২০২৩ সালের সর্বোচ্চ রেকর্ডের তুলনায় ব্যবধান প্রায় ৩৩৮ মেগাওয়াট। সংখ্যাটা অবশ্যই উদ্বেগজনক, কিন্তু এটাকে এমনভাবে উপস্থাপন করার সুযোগ নেই যেন বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সংকট ২০২৬ সালে এসে হঠাৎ তৈরি হয়েছে।
বাস্তবতা হলো, সংকটের শিকড় আরও গভীরে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় অঙ্কের বকেয়া, বৈদেশিক ঋণের চাপ, রিজার্ভ সংকট এবং জ্বালানি আমদানির সক্ষমতা নিয়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়েছিল। ২০২৩ সালে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা এবং শ্রীলঙ্কার মতো অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আলোচনা পর্যন্ত মূলধারার গণমাধ্যমে জোরালো হয়েছিল। অর্থাৎ বর্তমান সরকার একটি স্বাভাবিক অর্থনীতি হাতে নেয়নি।
পরবর্তী দুই বছরেও পরিস্থিতি সহজ হয়নি। গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকট, শিল্পকারখানায় সরবরাহ কমে যাওয়া এবং এলপিজির উচ্চমূল্য অর্থনীতিকে চাপে রেখেছে। শিল্পে সরবরাহ ধরে রাখতে গিয়ে আবাসিক গ্রাহকদের ওপরও চাপ পড়েছে। তার ওপর এলএনজি অবকাঠামোর ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সংকটকে আরও বাড়িয়েছে।
তাই প্রশ্নটা হওয়া উচিত, আজ লোডশেডিং আছে কি না, শুধু সেটা নয়। প্রশ্ন হলো, এই সংকটের উৎপত্তি কোথায় এবং এর দায় কতটা বর্তমান সরকারের?
তারেক রহমান সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র কয়েক মাস আগে। একটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট চার-পাঁচ মাসে সমাধান হয়ে যাবে, এমন প্রত্যাশা বাস্তবসম্মত নয়। ১৭ বছরের একটি সরকারের পর প্রশাসন, আমলাতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে নতুন বাস্তবতায় কার্যকর করা নিজেই বড় চ্যালেঞ্জ।
এর মানে এই নয় যে বর্তমান সরকারের ভুলের সমালোচনা করা যাবে না। বরং বিদ্যুৎ, গ্যাস, ঋণ, বিনিয়োগ ও অর্থনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রে কঠোর জবাবদিহি প্রয়োজন। কিন্তু চার-পাঁচ মাসের ফলাফল দিয়ে পাঁচ বছরের সরকারের চূড়ান্ত বিচার করাও সমানভাবে অবাস্তব।
দেশ এখন সংকটে আছে, এটা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু সেই সংকট আজকের তৈরি নয়। বর্তমান সরকার উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া অর্থনৈতিক দুর্বলতা, জ্বালানি ঘাটতি ও ঋণের বোঝার মধ্যেই কাজ শুরু করেছে।
পাঁচ মাসে কোনো দেশ সিঙ্গাপুর হয় না। আবার পাঁচ বছর পর ব্যর্থতার অজুহাতও চলবে না। এখন সরকারের কাজ করার সময়, আর জনগণের কাজ হলো ফলাফল দেখা ও হিসাব চাওয়া।
TrendingBuzz24.com হলো একটি বাংলা ডিজিটাল নিউজ পোর্টাল, যেখানে দেশ-বিদেশের সর্বশেষ খবর, রাজনীতি, প্রযুক্তি, বিনোদন, খেলাধুলা এবং ভাইরাল ট্রেন্ড দ্রুত ও নির্ভরযোগ্যভাবে প্রকাশ করা হয়।
No comments
Post a Comment